দ্য ইষ্টার্ণ সায়েন্স-টেক (বাংলাদেশ) রিভিউ
Logo: “Either be a Scientist or be a Science Minded”.
লগোঃ “হয় বিজ্ঞানী, নয়তো বিজ্ঞান মনস্ক।”
দ্য ইষ্টার্ণ সায়েন্স-টেক রিভিউ
THE EASTERN SCIENCE-TECH REVIEW
২০০৫, উত্তর মোগলটুলী বাই লেইন,
পশ্চিম মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম-৪১০০
(বিজ্ঞান মনস্ক দেশ-জাতি বিনির্মাণে একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস
নিউটনীয় নিশ্চয়তাবাদী বলবিদ্যাত
-মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন
সম্পাদক, দ্য ইষ্টার্ণ সায়েন্স-টেক রিভিউবলবিজ্ঞান আমাদের চারপ
পৃথিবীর সার্বিক কর্মকান্ড মূলতঃ পৃথিবীর বুকে, পৃথিবীর উপরে এবং পৃথিবীর ভূগর্ভে বিদ্যমান- যা কখনও নির্ধারিত, সুনির্দিষ্ট নিশ্চিত নিয়ম-নীতিতে, কখনও অনিশ্চিত সম্ভাবনায় আবার কখনও অনির্ধারিত, অনির্দিষ্ট, হঠাৎ, আকস্মিক এবং অকল্পনীয়ভাবে ঘটে থাকে। নিশ্চিত নিয়মাবলী বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হয় চিরায়ত (ক্ল্যাসিকাল)
নিউটনীয় বলবিদ্যা, অন্যদিকে সম্ভাবনাময়, অনিশ্চিত নিয়মাবলী আইনস্টাইন, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক বা হাইজেনবার্গীয় বল বিদ্যা নামে অভিহিত।
বিশ্ব প্রকৃতিতে চিরন্তন সত্যের (Universal Truth) কিছু
দিক-প্রসঙ্গ
৩৬৫ দিনের প্রত্যেক দিবসের সূর্যোদয়ের যেমন সুনির্দিষ্টতা রয়েছে তেমনি সূর্যাস্তেরও সুনির্দিষ্টতা রয়েছে যার কারণে চির স্থায়ী ক্যালেন্ডার তৈরি সম্ভবপর হয়েছে। এতে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়া যেতে পারে যে, বছরের কোন্ দিনের কোন্ তারিখে সূর্য কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে উদিত হবে এবং কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে অস্ত যাবে। অনুরূপ কোন দিনের কত ঘন্টা মিনিট, সেকেন্ডে জোয়ার উঠবে, কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে ভাটা নামবে তারও সুনির্দিষ্টতা রয়েছে। এমনকি পৃথিবীর আকাশে কোন্ ধুমকেতু কোন্ তারিখ পর্যন্ত কখন কতক্ষণ দৃশ্যমান থাকবে তারও আগাম পূর্বাভাষ আধুনিক সৌরজাগতিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে সম্ভবপর। সম্ভবপর বছরের কোন্ মাসের কোন্ তারিখের কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে সূর্য গ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে এবং কত ঘন্টা মিনিট, সেকেন্ডে তা ছাড়বে তা-ও হলফ করে বলা যায়।। যা নিউটনীয় বলবিজ্ঞান তথা নিশ্চয়তাবাদের সমার্থক বটে।ক্ষম
চিরায়ত (ক্ল্যাসিকাল) নিউটনীয় বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জড় জগতের ঘটনাবলী অনেকটা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। আইজাক নিউটন ১৬৮৬ সালে তার বিখ্যাত বই Philosophiae Naturalis Principia Mathematica, সংক্ষেপে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিকা-তে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মূলসূত্রগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর প্রায় দুইশ বছর ধরে এই সূত্রগুলিই পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত ঘটনাবলির ব্যাখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। (উইকিপিডিয়া)
প্রশ্ন
হচ্ছে, কোন্ উৎসমূলে নিউটনের চিরায়ত (ক্ল্যাসিকাল) বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের
জগতের ঘটনাবলী অনেকটা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হতো? কোন বিজ্ঞানীই
স্বাধীন ছিলেন না, এখনও নেই। সকলেই সূত্রাধীন। নিউটনের বল বিজ্ঞানও।
বিশ্ব চলে নিয়মেঃ
উদাহরণস্বরূপ, কোন্ ট্রেন কয়টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে- তা অনেকটা নিশ্চিত বলা যত সহজ; ঢাকা পৌঁছার সুনির্দিষ্ট সময় হলফ করে বলা তত সহজ নয়। কারণ, শত শত কিলোমিটারের দীর্ঘ পথযাত্রায় লাইনচ্যুতি, ইন্জ্ঞিন বিকলসহ নানান কারণে স্থানে স্থানে যাত্রা বিরতি ঘটতে পারে। সুতরাং, নিউটনীয় বলবিদ্যায় নির্ধারিত সময়ে গাড়ীর যাত্রা শুরু করা সম্ভব হলেও হাইজেনবার্গীয় অনিশ্চয়তা তত্ত্বে ট্রেনের অকুস্থলে যথাসময়ে পৌঁছা অনিশ্চিত। গাড়ীর ঘন্টাপ্রতি মাইলেজ নির্ধারিত/জানা থাকা সত্ত্বেও উপরোক্ত অনিবার্যকারণবশতঃ যথাসময়ে পৌঁছা নিশ্চিত নয়। সুতরাং, ট্রেনের যথাস্থানে পৌঁছার জন্য অন্তত তিনটি শর্ত প্রয়োজন তা হচ্ছে ১. গাড়ী নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ২. গাড়ীর ইন্জ্ঞিন সচল থাকা এবং ৩. গাড়ীর গতি সুনির্দিষ্ট হওয়া।
বলবিজ্ঞান প্রযুক্তির জড় জগতের ভৌত জ্ঞানসমূহকে মানুষের কাজে লাগানোর উপযোগী করে তৈরি করে থাকে। এজন্য অনেক সময় এই শাখাটিকে প্রকৌশল বা ফলিত বলবিজ্ঞান নামকরণ করা হয়ে থাকে। এদিক দিয়ে চিন্তা করলে বলবিজ্ঞানই যন্ত্রের যান্ত্রিক গঠন এবং যন্ত্রসমূহের ব্যবহার ও প্রয়োগবিধি নির্দেশ করে। যন্ত্র প্রকৌশল, মহাকাশ প্রকৌশল (aerospace), পুর প্রকৌশল, জৈব বলবিজ্ঞান, structural engineering, materials engineering, biomedical engineering ইত্যাদি অধ্যয়নে বলবিজ্ঞান সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রাখে।
নিউটনীয়ান বল বিজ্ঞানের প্রকারভেদ
নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে বলবিজ্ঞানের ভিত রচিত হয়:
• নিউটনীয় বলবিজ্ঞান প্রধানত গতি (সৃতিবিজ্ঞান) এবং বলের (গতিবিজ্ঞান) মৌলিক আলোচনা করে। • ল্যাগ্রাঞ্জীয় বলবিজ্ঞান: (Lagrangian mechanics) • হ্যামিল্টনীয় বলবিজ্ঞান: । • তারা: ছায়াপথ ইত্যাদির গতি সংক্রান্ত বলবিজ্ঞান। • জ্যোতির্গতিবিজ্ঞান: নভোযান চালনা। • শব্দবিজ্ঞান: • স্থিতিবিজ্ঞান: যান্ত্রিক সাম্যাবস্থা। • প্রবাহী বলবিজ্ঞান, তরল পদার্থের গতি। • Continuum mechanics, mechanics of continua (both solid and fluid) • তরল স্থিতিবিজ্ঞান (hydraulics): সাম্যাবস্থায় তরল। • ফলিত বলবিজ্ঞান • জৈব বলবিজ্ঞান • পরিসাংখ্যিক বলবিজ্ঞান • (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/
উদাহরণস্বরূপ, নিউটনীয় গতি সূত্রানুসারে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য কতিপয় শর্ত জানা আবশ্যক। ১. কোন্ দেশ বছরের কোন্ কোন্ মাসে ঘূর্ণিঝড় প্রবণ থাকে ২. সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে কিনা? ৩.নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে কিনা? ৪. সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির ঘন্টায় গতি বেগ কত? তাহলেই বলা যাবে এত তারিখের এত ঘন্টা এত মিনিটে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি বয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিউটনীয় বলবিদ্যায় ঘূর্ণিঝড়ের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ সময় দিনক্ষণ বলা যাবে সত্য;তবে বলা যাবে না যে, ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় এলাকায় বয়েই যাবে, বরং বলা যাবেঃ ঘূর্ণিঝড় বয়ে যেতে পারে।
বিশ্ব চলে অনিয়মেঃ আধুনিক বিজ্ঞানে আলগরিদম তত্ত্বের সূত্র ধরে জাগতিক অনেক ব্যাপার যদিও সহজে বলা সম্ভবপর হচ্ছে তা-ও কিছু শর্ত-সূত্র মেনে। শর্ত, সূত্র ব্যতিত অবশ্য মানুষের পক্ষে আগাম ভবিষ্যদ্ববাণী কোন ব্যাপারে করা আদৌ সম্ভব পর নয়। তবে জাগতিক বাস্তবতায় প্রকৃতিতে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা তত্ত্ব, সূত্র ব্যতিরেকেই ইউনিভার্সাল ট্রুথ (চিরন্তন সত্য)মূলে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েই সাধারণ মানুষ হলফ করে সাধারণতঃ বলতে পারেন ১. জন্মিলেই মৃত্যু ২. সূর্যের উদয় পূর্বে এবং অস্ত পশ্চিম দিকে। ৩.রাতের পর দিন, দিনের পর রাতের আগমন ৪. শীতের পর গ্রীষ্ম, গ্রীষ্মের পর শীত। ৫. জোয়ারের পর ভাটা, ভাটার পর জোয়ার। পক্ষান্তরে বিজ্ঞানীরা বলতে পারেন কোন্ মাসের কত তারিখের কয় ঘটিকার সময় কত ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ডে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ হবে, কোন্ উল্কাপিন্ড পৃথিবীর আকাশে কত সালের কত তারিখ হতে কতদিন পর্যন্ত দেখা যাবে- যা বলা সম্ভব হবে কিছু গাণিতিক সূত্র ধরে জাগতিক কিছু বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে।
অনুরূপ একটি গাড়ির ভর এবং অবস্থান দুটোই নিউটনীয় বলবিদ্যায় একসঙ্গে বলে দেয়া সম্ভবপর যদি কিছু আগাম তথ্য জানা থাকে।
Uncertainty Principle (আনসার্টেইনটি প্রিন্সিপাল) বা অনিশ্চয়তা নীতিঃ
১৯২৭ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সী জার্মান পদার্থবিদ ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গ Uncertainty Principle (আনসার্টেইনটি প্রিন্সিপাল) বা অনিশ্চয়তা নীতিটি প্রকাশ করেন। তাই এই নীতিটিকে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি বা হাইজেনবার্গস আনসার্টেইনিটি প্রিন্সিপাল বলা হয়। তাঁর এই নীতি অনুসারে, আমরা একটি কণার অবস্থান যত নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করতে পারবো এর ভরবেগ ততই অনিশ্চিত হয়ে যাবে, অর্থাৎ এর ভরবেগ ঠিক কত তা বের করা তত বেশী কঠিন হয়ে পড়বে। ঠিক একইভাবে একটি কণার ভরবেগ যত নিশ্চিতভাবে আমরা নির্ণয় করতে পারবো তার অবস্থান নির্ণয় করা তত কঠিন হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ভর এবং বেগের গুণফলকে ভরবেগ
বলে। একটি কণার অবস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ভরবেগের অনিশ্চয়তাকে যদি আমরা গুন করি
তাহলে আমরা একটি মান পাবো। হাইজেনবার্গ প্রকাশ করেছেন, যে
কোন কণার জন্য এই গুনফলের সর্বনিম্ন একটি মান আছে, যে কোন
কণার ক্ষেত্রেই এর থেকে কম মান আমরা পাবো না। কিন্তু এর থেকে বেশী মান আমরা পেতে
পারি। সেই মানটি হল h cut/2.
তাহলে হাইজেনবার্গের সূত্রটিকে গানিতিকভাবে লেখা যায়,
Δ X Δ P ≥ h cut/2
যেখানে,
Δ X= অবস্থানের অনিশ্চয়তা বা পরিবর্তন
Δ P= ভরবেগের অনিশ্চয়তা বা পরিবর্তন
এখানে, h cut এর মান হল h/2 π. আমরা জানি h হল প্লাঙ্কের ধ্রুবক যার মান ৬.৬২৬ x ১০^-৩৪ জুল পার সেকেন্ড। কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ক্ষেত্রে এই ধ্রুবকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক জায়গায় এর ব্যবহার রয়েছে। অর্থাৎ হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি থেকে আমরা জানতে পারি যে, একটি কণার অবস্থানের পরিবর্তন এবং এর ভরবেগের পরিবর্তনের গুনফলের সর্বনিম্ন মান হবে h cut/ 2 অর্থাৎ তা কখনোই শূন্য হবে না।
(https://prosnouttar.blogspot.com/2021/02/blog-post_171.html)।
আমরা আমাদের
দৈনন্দিন জীবনে সম্ভাবনা সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্তব্য ব্যবহার করে থাকি, যেমন আজ বৃষ্টি হওয়ায় সম্ভাবনা বেশি বা কম, অর্থাৎ কোন ঘটনা ঘটার ব্যাপারে অনিশ্চিয়তা থাকলেই সম্ভাবনা কথাটি চলে আসে। আর অনিশ্চিয়তার
মাত্রার উপরই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম বা বেশি নির্ভর করে। ঘটনা ঘটার ব্যাপারে
অনিশ্চয়তা থাকলেই সম্ভাবনা কথাটি চলে আসে। যে সব ঘটনা নিশ্চিত ঘটে সে সব ক্ষেত্রে
সম্ভাবনার গুরুত্ব মোটেই থাকে না, যেমন- আগামী কাল সূর্য
পূর্ব দিকে উঠবে, এটি প্রতিনিয়তই সত্য, ফলে এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনার কোন ঘটনা ঘটা বা না ঘটা সম্পর্কে নিশ্চিত না
হলেই সম্ভাবনা ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে কোন ঘটনা ঘটবে কি ঘটবে না তার পরিমাপই
সম্ভাবনা।
একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনার সংজ্ঞা এভাবে দেয়া যেতে পারে, ধরা
যাক A-এর সম্ভাবনাকে ০ থেকে ১ এর মধ্যে একটি
প্রকৃত রাশি দ্বারা প্রকাশ করা যায়, যাকে আমরা লিখি P(A),
p(A) বা Pr(A)। কোনো ঘটনার সম্ভাবনা ০ হলে
তাকে বলি অসম্ভব (Impossible) ঘটনা, এবং কোনো ঘটনার সম্ভাবনা
১ হলে তাকে বলি (ক) হতে পারে (May be
possible) (খ) ঘটতে
পারে (গ) বয়ে যেতে পারে (ঘ) ঘটতে পারে ইত্যাদি । তবে মনে
রাখা উচিত, শাব্দিক অর্থের সাথে পারিসাংখ্যিক সংজ্ঞার অর্থের পার্থক্য আছে – যেমন
ক্ষেত্র বিশেষে o সম্ভাবনা অর্থাৎ “অসম্ভব” (Impossible) ঘটনা “ঘটা” যেমন “অসম্ভব না”, তেমনি
ঘটতে পারে -এমন ঘটনা এমনটি নাও ঘটতে পারে।
সুতরাং কোন ঘটনা ঘটবেই-ঘটবে অথবা কোন ঘটনা কখনই ঘটবে না-এমনতর হলফ করে
সুনির্দিষ্টভাবে বলার মত ভবিষ্যত বাণী করার মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে
নেই। উদাহরণস্বরূপ আবহাওয়ার পূর্বাভাষ।
উনিশশ সাতাশি সালের ১৫ই
অক্টোবর, একজন মহিলা ব্রিটেনের টিভি
স্টেশনে ফোন করে বলেন, তিনি শুনেছেন যে শীঘ্রিই ঝড় উঠবে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসবিদ বারবার তাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন: “চিন্তা করবেন না। ঝড় হবে না।” কিন্তু, সেই রাতে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে প্রচণ্ড দমকা হাওয়া সহ ঝড় হয় আর এর ফলে ১
কোটি ৫০ লক্ষ গাছ উপড়ে পড়ে, ১৯ জন মারা যায় এবং একশ
চল্লিশ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আকাশ
মেঘাচ্ছন্ন মানে কি বৃষ্টি হতে পারে? সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া কি সারাদিন থাকবে? তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে কি তুষার ও বরফ গলতে শুরু করবে? আবহাওয়ার পূর্বাভাস শুনে আমরা ঠিক করি যে, কেমন
কাপড় পরব এবং বের হওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে নেব কী নেব না।
কিন্তু, কখনও কখনও আবহাওয়ার পূর্বাভাসগুলো পুরোপুরি
ভুল হয়। হ্যাঁ, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যথাসম্ভব
সঠিকভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে কিন্তু আবহাওয়া সম্বন্ধে আগে জানিয়ে
দেওয়া এতটা সহজ কাজ নয় বরং এটা কৌশল ও বিজ্ঞানের এক চমৎকার মিশ্রণ। আবহাওয়া
সম্বন্ধে পূর্বাভাস দেওয়ার সঙ্গে কী কী জড়িত এবং এই পূর্বাভাসগুলো কতটা
নির্ভরযোগ্য? এর উত্তর পেতে হলে আসুন আমরা প্রথমে পরীক্ষা
করে দেখি যে কীভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
https://wol.jw.org/bn/wol/d/r137/lp-be/102001246#h=4
আবহবিদদের কাছে অত্যাধুনিক
যন্ত্রপাতি রয়েছে, যেগুলো
দিয়ে বায়ুর চাপ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা
এবং বায়ুপ্রবাহ মাপা হয়।
১৬৪৩ সালে ইতালির পদার্থবিজ্ঞানী এভানজেলিস্টা
টরিসিলি, বায়ুর চাপ মাপার জন্য একটা
সাধারণ যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন, যেটার নাম হল
ব্যারোমিটার। খুব শীঘ্রিই দেখা যায় যে, আবহাওয়ার
পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর চাপ ওঠানামা করে আর চাপ কমে যাওয়া ঝড়ের সংকেত
দেয়। বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র হাইগ্রোমিটার ১৬৬৪ সালে আবিষ্কৃত
হয়। আর ১৭১৪ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল ফারেনহাইট পারদ থার্মোমিটার
আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে তাপমাত্রা সঠিকভাবে পরিমাপ করা হয়।
প্রায় ১৭৬৫ সালে, ফরাসি বিজ্ঞানী আনটোয়ান-লোরান
ল্যাভৌসিয়ের প্রস্তাব দেন যে প্রতিদিনের বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা
এবং বাতাসে গতি ও দিক পরিমাপ করা যায়। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “এই সমস্ত তথ্য জানা থাকলে এক বা দুদিন আগে আবহাওয়া সম্বন্ধে প্রায়
সঠিক খবর জানানো সম্ভব।” কিন্তু সমস্যাটা হল, এই সমস্ত তথ্য জানা এত সহজ ছিল না।
আবহাওয়ার দিক জানা
১৮৫৪ সালে একটা ফরাসি
যুদ্ধজাহাজ ও ৩৮টা বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যালাক্লাভার ক্রাইমিয়ান বন্দরের কাছাকাছি
এসে প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে পড়ে ডুবে যায়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ, প্যারিসের মানমন্দিরের পরিচালক
আরবেইন-জান-জোসেফ ল্যাভেরিয়েরকে এই বিষয়টা তদন্ত করার দায়িত্ব দেন।
আবহাওয়াসংক্রান্ত রেকর্ডগুলো পরীক্ষা করে তিনি দেখতে পান যে, এই দুর্যোগ ঘটার দুদিন আগেই আসলে ঝড়টা সংঘটিত হয়েছিল এবং ইউরোপের
উত্তরপশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলগুলোর ওপর আঘাত এনেছিল। ঝড়ের দিক জানার কোন
পদ্ধতি থাকলে ওই জাহাজগুলোকে আগেই সতর্ক করে দেওয়া যেত। এইজন্য ফ্রান্সে জাতীয়
ঝড়-সতর্কবাণী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আর এভাবেই আধুনিক আবহবিদ্যার জন্ম হয়।
আধুনিক যন্ত্রপাতিও আবিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে অনেক আবহাওয়া কেন্দ্র আছে, যেখান থেকে রেডিয়োসন্ড সম্বলিত বেলুন উড়িয়ে দেওয়া হয়। রেডিয়োসন্ড হল এক ধরনের যন্ত্র, যা দিয়ে বায়ুমণ্ডলের অবস্থা পরিমাপ করা হয় ও তারপর ওই তথ্যগুলোকে রেডিওর মাধ্যমে আবার আবহাওয়া কেন্দ্রে জানিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও রাডার ব্যবহার করা হয়। বেতার তরঙ্গগুলো মেঘে বৃষ্টিকণা ও বরফকণায় আঘাত পেয়ে ফিরে আসে আর আবহবিদরা তখন বুঝতে পারেন যে ঝড় কোন্ দিকে চালিত হচ্ছে।
১৯৬০ সালে যখন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম আবহাওয়া
উপগ্রহ টিরোস ১-কে টিভি ক্যামেরা সমেত আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন সঠিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে বিরাট
অগ্রগতি হয়েছিল। এখন আবহাওয়ার কৃত্রিম উপগ্রহগুলো এক মেরু থেকে অন্য মেরু
পর্যন্ত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। অন্যদিকে ভূ-কেন্দ্রীয় কৃত্রিম উপগ্রহগুলো
পৃথিবীর উপরিভাগে একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে ও পৃথিবীর যে অংশটুকু এদের
দৃষ্টিসীমার মধ্যে আছে সেখানকার খবরাখবর জানাতে থাকে। দুধরনের উপগ্রহই ওপর থেকে
দেখা আবহাওয়ার চিত্র সম্প্রচার করে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
দেওয়া
এই মুহূর্তের আবহাওয়া কেমন
সেই সম্বন্ধে বলা এক কথা আর এক ঘন্টা পরে, পরের দিন বা এক সপ্তা পরে আবহাওয়া কেমন হবে সেই সম্বন্ধে পূর্বাভাস
দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।
প্রথম
বিশ্বযুদ্ধের পরপর, ব্রিটিশ
আবহবিদ লুইস রিচার্ডসন অনুমান করেছিলেন যে, যেহেতু
বায়ুমণ্ডল পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো মেনে চলে, তাই
আবহাওয়া সম্বন্ধে আগে থেকে বলার জন্য তিনি গণিতশাস্ত্রকে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু
সূত্রগুলো এত জটিল ও গণনা করতে এত সময় লেগে যেত যে, পূর্বাভাস
দেওয়ার জন্য গণনা শেষ করার আগেই আবহাওয়া নির্ধারণের রেখাগুলো উধাও হয়ে যেত।
এছাড়াও, রিচার্ডসন ছয় ঘন্টা পরপর নেওয়া আবহাওয়ার
উপাত্ত ব্যবহার করেছিলেন। ফরাসি আবহবিদ রেনে শাবৌ বলেন, “সঠিক
আবহাওয়া পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ত্রিশ মিনিট পরপর পরিমাপ করা দরকার।”
কিন্তু, কমপিউটার আসায় বড় ও জটিল হিসেবগুলো
তাড়াতাড়ি করা সম্ভব হয়। আবহবিদরা এক জটিল সংখ্যাসূচক নমুনা তৈরি করার জন্য
রিচার্ডসনের হিসেব পদ্ধতিকে ব্যবহার করেছিলেন। জটিল সংখ্যাসূচক নমুনাটা হল এক
ধারাবাহিক গাণিতিক সমীকরণ, যার মধ্যে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ
করে এমন সমস্ত ভৌত আইনগুলো রয়েছে।
এই সমীকরণগুলোকে কাজে
লাগানোর জন্য আবহবিদরা পৃথিবীর উপরিভাগকে বর্গজালিতে ভাগ করেন। সম্প্রতি, ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস পৃথিবীর যে
মডেল ব্যবহার করে তাতে বর্গজালির বিন্দুগুলো প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে দূরে
অবস্থিত। প্রতিটা বর্গের ওপরের বায়ুমণ্ডলকে বক্স বলা হয় আর বায়ুমণ্ডলের
বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর চাপ, তাপমাত্রা
ও আর্দ্রতা ২০টা বিভিন্ন উচ্চতা থেকে পর্যবেক্ষণ করে রেকর্ড করা হয়। সারা
পৃথিবীতে ৩,৫০০টারও বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র আছে
ও সেগুলোর প্রত্যেকটার উপাত্তকে কমপিউটার বিশ্লেষণ করে ও এর পরের ১৫ মিনিটে
বিশ্বের আবহাওয়া কেমন হবে সেই বিষয়ে পূর্বাভাস দেয়। একবার এটা করা হয়ে গেলে
পরের ১৫ মিনিটের আবহাওয়া পূর্বাভাস সম্বন্ধে খুব তাড়াতাড়ি জানা যায়। এই পদ্ধতিটা
বেশ কয়েক বার করে, একটা কমপিউটার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে
সারা পৃথিবীর আগামী ছয় দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারে।
স্থানীয় আবহাওয়া সম্বন্ধে আরও বিশদ ও
সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ আবহাওয়া অফিস নির্দিষ্ট অঞ্চলের মডেল
ব্যবহার করে, যার মধ্যে উত্তর
আটলান্টিক ও ইউরোপের অঞ্চলগুলো রয়েছে। এটা ৫০ কিলোমিটার ব্যবধানে স্থাপিত
বর্গজালির বিন্দুগুলোকে ব্যবহার করে। এছাড়া আরও একটা মডেল আছে, যার মধ্যে কেবল ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও আশেপাশের সাগরগুলো রয়েছে। এর
মধ্যে ২,৬২,৩৮৪টা বর্গজালির
বিন্দু রয়েছে, যেগুলো ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ও
৩১টা উচ্চতা থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
আবহাওয়া পূর্বাভাসবিদের
ভূমিকা
কিন্তু, শুধু বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয় না। দ্যা ওয়ার্ল্ড বুক এনসাইক্লোপিডিয়া বলে,
“কমপিউটারে যে সূত্রগুলো আছে সেগুলো বায়ুমণ্ডলের অবস্থার সম্ভাবনা
সম্বন্ধে জানায় মাত্র।” এছাড়াও, এমনকি কোন বড় এলাকার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য সেখানকার কোন একটা
অঞ্চলের আবহাওয়াকে হয়তো বিবেচনা করা হয় না। তাই এর জন্য কিছু কৌশলেরও দরকার
হয়। আর এখানেই আবহাওয়া পূর্বাভাসবিদের ভূমিকা রয়েছে। তিনি যে উপাত্তগুলো পান
সেগুলোকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে, তা
নির্ণয় করার জন্য তিনি তার অভিজ্ঞতা ও বিচার-বুদ্ধিকে কাজে লাগান। এই বিষয়টাই
তাকে সঠিক পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উত্তর সাগর থেকে ঠাণ্ডা বাতাস যখন ইউরোপ
ভূখণ্ডের দিকে সরে আসে, তখন প্রায়ই এক পাতলা মেঘের স্তর
গঠিত হয়। এই মেঘের স্তর পরের দিন ইউরোপ উপমহাদেশে বৃষ্টি ঘটাবে নাকি সূর্যের তাপে
বাষ্পীভূত হয়ে যাবে, তা তাপমাত্রার সামান্যতম পরিবর্তনের
ওপর নির্ভর করে। আবহাওয়া পূর্বাভাসবিদের উপাত্ত ও সেইসঙ্গে আগে একইরকম অবস্থা
সম্বন্ধে জ্ঞান থাকায় তিনি নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দিতে পারেন। সঠিক পূর্বাভাস
দেওয়ার জন্য কৌশল ও বিজ্ঞানের এই মিশ্রণ খুবই জরুরি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রতি নিয়ত উন্নতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিছুদিন আগে পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস মূলত বায়ুমণ্ডলের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে দেওয়া হতো। কিন্তু বিশ্বের ৭১ শতাংশ সমুদ্র, তাই গবেষকরা এখন যে উপায়ে মহাসাগর থেকে বাতাসে শক্তি জমা ও স্থানান্তরিত হয় সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। বয়া স্থাপনের পদ্ধতির মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মহাসাগর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি একটা অঞ্চলের জলের তাপমাত্রার সামান্য বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তথ্য জোগায়, যা অনেক দূরের আবহাওয়ার ওপর লক্ষণীয় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস ২৪ ঘন্টার
পূর্বাভাস ৮৬ শতাংশ সঠিক হয় বলে দাবি করে। মাঝারি পরিসরের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের
জন্য ইউরোপীয় কেন্দ্র পাঁচ দিনের আবহাওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ সঠিক করে বলে দিতে
পারে, যা কিনা ১৯৭০ এর দশকের
প্রথম দিকের দুদিনের পূর্বাভাসের চেয়ে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য। এই বিবরণ মনে ছাপ
ফেলার মতো কিন্তু তা নিখুঁত নয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর কেন পুরোপুরি নির্ভর
করা যায় না?
প্রাকৃতিক জটিলতার একটি সহজ উদাহরণ হলো পৃথিবীর আবহাওয়া। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস এখন সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু কতটুকু সূক্ষ্মভাবে সঠিক এসব পূর্বাভাস? কত লাখ লাখ প্যারামিটার হিসাব করতে হয় যদি আমরা সঠিকভাবে মেঘের গতি, তাপমাত্রা, বাতাসের বেগ, দিক, আর্দ্রতা—এসব মাপতে চাই। খুব সামান্য কিছুর পরিবর্তনেই আবহাওয়া বদলে যেতে পারে।
সাধারণ কারণটা হল, আবহাওয়া পদ্ধতিগুলো খুবই জটিল। আর
পুরোপুরি সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য যে সমস্ত পরিমাপ নেওয়া দরকার সেগুলো ঠিক
ঠিক করে নেওয়াও সম্ভব নয়। কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে খবর পাঠানোর
জন্য মহাসাগরের বিশাল জায়গা জুড়ে কোন আবহাওয়া বয়া নেই। আর খুব কম সময়েই দেখা
যায় যে, আবহাওয়া-মডেলের বর্গজালির বিন্দুগুলো আবহাওয়া
মানমন্দিরের জায়গাগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। এছাড়া, প্রকৃতির
যে শক্তিগুলো আমাদের আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে সেই সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা এখনও
ভালভাবে বুঝতে পারেন না।
https://wol.jw.org/bn/wol/d/r137/lp-be/102001246#h=4
বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের কতিপয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
তাত্ত্বিক বস্ত্ত জগত মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত:
১. দৃশ্যমান স্থূল বস্তু/পদার্থ যথাঃ গ্রহ-নক্ষত্র, চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি এবং ২. অদৃশ্যমান সুক্ষ্ণ পারমানবিক/অতিপারমানবিক বস্তু কণা যথাঃ নিউট্রন, প্রোটন, নিউক্লিয়াস,নিউট্রিনো ইত্যাদির আঙ্গিকে। নিউটনীয়ান বলবিজ্ঞান মূলত: পদার্থবিজ্ঞানের মূল শাখা যা মানুষের চোখে দৃশ্যমান বৃহৎ জগৎ নিয়ে আলোচনা করে। সেই হিসেবে দৃশ্যমান প্রাকৃতিক বিশ্ব সম্বন্ধে এটিই মূল তত্ত্ব প্রণয়নের দাবী করতে পারে। নিউটনীয়ান বলবিজ্ঞান মহাবিশ্বের যেকোন বস্তুর উপর চারটি মৌলিক বলের প্রভাব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে। মৌলিক বল চারটি হল: ১. মহাকর্ষ, ২. সবল নিউক্লিয়, ৩. দূর্বল নিউক্লিয় এবং ৪. তাড়িতচৌম্বক বল।
দৃশ্যমান বলবিজ্ঞান (গ্রিক: Μηχανική, ইংরেজি: Mechanics) (অথবা বলবিজ্ঞান) পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে কোনো বল প্রযুক্ত হওয়ার ফলে ভৌত বস্তুর সরণ বা অন্যান্য আচরণ এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। এটি গণিত শাস্ত্রেও অধীত হয়ে থাকে। মূলত বস্তুর স্থির বা গতিশীল অবস্থা নিয়ে এতে আলোচনা করা হয়।
পদার্থবিজ্ঞানের এই শাখাটির সূচনাকাল বলা যেতে পারে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগকে। সে সময় অ্যারিস্টটল বিভিন্ন বস্তু, যেমন: পাথর কিংবা ভারী জাতীয় কোনো বস্তু বাতাসে নিক্ষেপ করলে কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে মধ্যযুগে এ গবেষণাকে বলবিদ্যা নামে এগিয়ে নিয়ে যান জাবের ইবনে হাইয়ান আল আরাবী, আল খাওয়ারিজমি জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও, ইয়োহানেস কেপলার এবং সবশেষে পদার্থ বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন। এতে তাঁরা বলবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্বগুলোর তাত্ত্বিক আলোচনা করেন। অবশ্য নিউটনের উদ্ভাবিত নীতিগুলোকে নিয়ে নিউটনীয় বলবিজ্ঞান নামে একটি পৃথক শাখা গড়ে উঠেছে। যিনি বলবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা এবং গবেষণা করেন, তাঁকে বলবিজ্ঞানী বলা হয়।
নিউট্রন, প্রোটন, নিউক্লিয়াস,নিউট্রিনো ইত্যাদি অদৃশ্যমান অতি সুক্ষ্ণ পারমানবিক/অতিপারমানবিক বস্তু কণা সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে অদৃশ্য বল বিদ্যা বলা হয়।
১৯শ শতকের শেষের দিকে এসে পরমাণুর ইলেক্ট্রনীয় গঠন ও আলোর ধর্মের উপর কিছু আবিষ্কার চিরায়ত বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন বুঝতে পারেন যে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাগুলি অত্যন্ত দ্রুত গতিবেগের, অর্থাৎ আলোর গতিবেগের কাছাকাছি বেগের বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা যায় না। তিনি এটা ব্যাখ্যা করার জন্য নির্মাণ করেন আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞান নামের শাস্ত্র। চিরায়ত বলবিজ্ঞান নীতিগতভাবে ভ্রান্ত হলেও ধীর গতিবেগের বস্তুসমূহের জন্য এটিকে আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞানের একটি ভাল আসন্নীকরণ হিসেবে গণ্য করা যায়। প্রায় একই সময়ে পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে আবিষ্কার করেন যে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের ধারণাগুলি অত্যন্ত ক্ষুদ্র বস্তুর ওপরেও প্রয়োগ করা যায় না। ১৯০০ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে বেশ কিছু পদার্থবিজ্ঞানী (মাক্স প্লাংক, নিল্স বোর, আলবার্ট আইনস্টাইন, ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ, লুই দ্য ব্রয়ি, এর্ভিন শ্র্যোডিঙার, প্রমুখ) কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান উদ্ভাবন করেন। আপেক্ষিকতাবাদের সাথে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের একত্রীকরণের ব্যাপারে তাত্ত্বিক গবেষণা চলছে।
আইনস্টাইনীয় যুগের পথে নিউটনীয় বৈজ্ঞানিক যুগ
নিউটনীয় বলবিদ্যা অনুসারে বৈজ্ঞানিক বিশ্বাস ছিল যে, ভর, স্থান এবং কাল (সময়) এ সবই পরম। পক্ষান্তরে আইনস্টাইনীয় বিশেষ আপেক্ষিকতা বা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব (সংক্ষেপে STR)মতে, ভর, স্থান এবং কাল (সময়)- এ সবই আপেক্ষিক। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, নিউটনীয় বল বিদ্যার সাথে আইনস্টাইনীয় বিশেষ আপেক্ষিকতায় তাত্ত্বিক যোগসূত্রতা নেই। ফলে অনেক পদার্থবিজ্ঞানীই নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আপেক্ষিকতাভিত্তিক তত্ত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করতে থাকেন যাদের মধ্য স্বয়ং আইনস্টাইনও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনস্টাইনই সফলতা অর্জন করেন, তার তত্ত্বটিই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠা পায় সাধারণ আপেক্ষিকতা। উল্লেখ্য, মহাবিশ্ব কেন্দ্রিক নিউটনীয় বলবিদ্যা তথা তৎকালীন সমসাময়িক চিন্তাধারা অনুসারে মহাবিশ্ব স্থির ধরা হয়েছিল। নিউটনীয় বলবিদ্যা বা সমসাময়িক চিন্তাধারার সাথে আইনস্টাইনও ১৯০৫ সালে আবিস্কৃত তাঁর জগদ্বিখ্যাত বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য নিউটনীয় বিশ্বাসের আলোকে, "স্থির বিশ্ব-কে স্থির" ধরেই আইনস্টাইন তাঁর মূল ক্ষেত্রের সমীকরণগুলোতে একটি নতুন পরামিতি যুক্ত করেছিলে-যাকে আইনস্টাইনীয় সাধারণ আপেক্ষিকতার সাথে নিউটনীয় বল বিদ্যার সেতু বন্ধ বলা যেতে পারে। কিন্ত্ত প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কিভাবে সাধারণ আপেক্ষিকতাকে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের সাথে একত্রিত করে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের একটি সম্পূর্ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত সূত্র নির্ণয় করা যায়? কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ইতিহাস চিরায়ত বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতের অনেক ঘটনা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। চিরায়ত বলবিজ্ঞান আমাদের চারপাশের জগতের অনেক ঘটনা নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। আইজাক নিউটন ১৬৮৬ সালে তার বিখ্যাত বই Philosophiae Naturalis Principia Mathematica, সংক্ষেপে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেম্যাটিকা-তে চিরায়ত বলবিজ্ঞানের মূলসূত্রগুলি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর প্রায় দুইশ বছর ধরে এই সূত্রগুলিই পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সমস্ত ঘটনাবলির ব্যখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। চিরায়ত ও আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞান নিশ্চয়তাবাদী: চিরায়ত ও আপেক্ষিকতাভিত্তিক বলবিজ্ঞান নিশ্চয়তাবাদী: অর্থাৎ এগুলিতে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান থাকলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব, দৈবের কোন স্থান এখানে নেই।
বলবিজ্ঞান বিশেষ আপেক্ষিকতা বা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব আপেক্ষিকতার এই বিশেষ তত্ত্বটি আলবার্ট আইনস্টাইন প্রথম ১৯০৫ সালে On the Electrodynamics of Moving Bodies নামক গবেষণা পত্রে প্রকাশ করেন। আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব থেকে পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি সূচীত হয়। আর সেটি হল শক্তি ও ভর সমতুল্য। এই সূত্র অনুসারে m ভরের কোন বস্তুর সমতুল্য শক্তির পরিমাণ ঐ ভরের সাথে আলোর বেগ(c)এর বর্গের গুনফল এর সমান। অর্থাৎ ১ কেজি ভরের কোন বস্তু বিলুপ্ত হলে যে শক্তি সে দিয়ে যাবে তার পরিমাণ ৯০০০০০০০০০০০০০০০০ জুল। এই অবিশ্বাস্য পরিমাণ শক্তি আমেরিকার মত একটি দেশের দিনের বৈদ্যুতিক শক্তির যোগান দিতে পারে! সমীকরণটি শক্তির সাথে ভরের একটি চমৎকার সম্পর্ক নির্দেশ করে। এ থেকে বোঝা যায় যে, শক্তি এবং ভর আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভর থেকে শক্তি পাওয়া যায় এবং শক্তি থেকেও ভর পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ শক্তি এবং ভর পরস্পর সমতুল্য। ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হবার সবচাইতে পরিচিত এবং বেদনাদায়ক উদাহরণটি হল হিরোশিমা-নাগাসাকিতে ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৮ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। পারমাণবিক বোমাতে একটি বড় মৌলের পরমাণুকে (যেমনঃ- ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম) নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে ভেঙ্গে ফেলা হয়। ফলে বড় পরমাণুটি ভেঙ্গে দুইটি নতুন পরমাণুতে বিভক্ত হয় এবং কিছু ভর পরিণত হয় শক্তিতে। উল্লেখ্য, মেঘনাদ সাহা ও তার সহপাঠী এবং সহকর্মী সত্যেন্দ্রনাথ বসু সর্বপ্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি জার্মান থেকে ইংরাজি অনুবাদ করেন যা কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। [১] আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব (ইংরেজিতে General Theory of Relativity তথা GTR বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কর্তৃক আবিষ্কৃত মহাকার্ষের একটি জ্যামিতিক তত্ত্ব বিশেষ। এটি বিশেষ আপেক্ষিকতা এবং নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বকে একীভূত করার মাধ্যমে একটি বিশেষ অন্তর্দৃষ্টির জন্ম দিয়েছে। অন্তর্দৃষ্টিলব্ধ বিষয়টি হচ্ছে, স্থান এবং কালের বক্রতার মাধ্যমে মহাকর্ষীয় ত্বরণের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকরণ। সাধারণ আপেক্ষিকতা: "টাইম মেশিন" বা সময় যন্ত্রের ধারণা তত্ত্ব! আইনস্টাইন এই ফর্মুলার মাধ্যমে স্থান ও কালের মধ্যে সংযোগ সেতু স্থাপন করেছেন যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান বড় ভূমিকা পালন করে। এই ফর্মূলামতে, স্থান-কালের মধ্যস্থিত পদার্থের ভর-শক্তি এবং ভরবেগের কারণেই এক প্রকার মহাজাগতিক বক্রতার উৎপত্তি ঘটে যা ভবিষ্যতে অতি দ্রুত সময়ে মহাবিশ্ব ভ্রমণেচ্ছু সায়েন্স ফিকশনিস্টদের বহুল প্রত্যাশিত "টাইম মেশিন" বা সময় যন্ত্রের ধাঁধা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।[১] ব্যাপারটি অনেকটা টানটান করে বেঁধে রাখা একটি চাদরের মাঝখানে একটি বেশ ভারী পাথর রেখে দেয়ার মত। পাথর রাখার কারণে চাদরের কেন্দ্রভাগে একটি বক্রতার সৃষ্টি হয়। এখন চাদরের উপর অপেক্ষাকৃত কম ভরের আরেকটি পাথর রাখলে তা কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়বে বা পড়ে যেতে চাইবে। দেখা যাচ্ছে বেশি ভরের পাথরের মাধ্যমে সৃষ্ট বক্রতার কারণে কম ভরের পাথরটি তার দিকে টান অনুভব করছে। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে এই চাদরটিই হল স্থান-কালের জালিকা। একটি বস্তুর কারণে এই জালিকায় সৃষ্ট বক্রতাই মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের কারণ। আইনস্টাইনীয় এই ফর্মুলা মতে, দুই বা ততোধিক ভরের মধ্যে পর্যবেক্ষণকৃত মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের কারণ হল, তারা নিজেদের ভরের মাধ্যমে আশেপাশের স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। ফলে স্থানিক দূরত্ব অতিমাত্রায় কমে আসে। এ প্রক্রিয়ায় সায়েন্স ফিকশনিস্টরা স্থানিক দূরত্ব কমে যাওয়ার সুবাদে নভোতরী বা নভোভেলায় চড়ে অনায়াসে মহাকাশের এ প্রান্ত থেকে ওপার প্রান্ত চষে বেড়াতে পারবে বৈকি।
অতিপারমাণবিক জগতের তত্ত্বকথা
বিজ্ঞানী পাউলি প্রথমবারের মত উপলদ্ধি করেন যে, ভরবেগ, শক্তি, কৌণিক ভরবেগ ইত্যাদি নিত্যতা বজায় রাখার জন্য ইলেকট্রনের সাথে আরেকটি খুবই হালকা, আধানহীন এবং প্রায় অদৃশ্য কণার উপস্থিতি প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য, ১৯৩০ সালে পাউলি (Pauli) যখন প্রথমবার এই কণাটির অস্তিত্ব আছে বলে প্রস্তাব করেন, তাঁর কিছু পরেই নাকি তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমি একটি ভয়ানক কাজ করে ফেলেছি | আমি এমন একটি কণার অস্তিত্বের প্রস্তাব রেখেছি যা সনাক্ত করা অসম্ভব ।” খুবই হালকা, আধানহীন এবং প্রায় অদৃশ্য উক্ত কণাটি শেষমেষ ১৯৫৬ সালে প্রথমবার সনাক্ত হয় এবং নামকরণ করা হয় “নিউট্রিনো”।
নিউট্রিনোর ধারণা প্রথম বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন পরমাণুর বেটা ক্ষয়ের বিশ্নেষণ করতে গিয়ে। তাতে দেখা গেছে নিউট্রিনো ও ইলেকট্রন প্রকৃতিতে যেন দুই ভাইয়ের মত। উল্লেখ্য, মহাবিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে মৌলিক কণাগুলো প্রধানতঃ তিন প্রকার যথাঃ কোয়ার্ক, বোসন ও লেপটন। এর মধ্যে লেপটন দুই প্রকার যথাঃ ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো। তিন ধরণের ইলেকট্রনের মধ্যে রয়েছে (১) ইলেকট্রন ইলেকট্রন (অথবা শুধুই ইলেকট্রন) (২) মিউ ইলেকট্রন (মিউয়ন) এবং (৩) টাউ ইলেকট্রন (টাউয়ন) এবং এর প্রতিটি ইলেকট্রনের সাথে আছে একটি করে নিউট্রিনো যথাঃ (১) ইলেকট্রন নিউট্রিনো, (২) মিউ নিউট্রিনো। দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্বের কতিপয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: সৃষ্টি তত্ত্ব বিষয়ক STANDARD MODEL পদার্থ বিদ্যার যে তত্ত্বের সাহায্যে কোন বস্তুর ভরের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয় তাকে “ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল” (Standard Model) বলা হয়। এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেলটি অস্তিত্বশীল হতে হলে প্রয়োজন পড়ে এক অতি পারমাণবিক কণা। পদার্থ বিদ্যার এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর ভর সৃষ্টির প্রাথমিক ভিত্তি হচ্ছে একটি “অদৃশ্য কণা”। বস্তুর ভরের মধ্যে ভিন্নতার কারণও এই অদৃশ্য কণাটিই।
পদার্থের ভর কিভাবে তৈরি হয় তা জানতে ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু হয় গবেষণা। ২০০১ সালে এসে গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের "টেভাট্টন" নামক যন্ত্ররে মাধ্যমে ওই কণার খোঁজ করতে শুরু করেন। এ কণার খোঁজে ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামেন CERN এর খ্যাতনামা গবেষকরা। ২০১১ সালে CERN এর বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক অস্তিত্ব টের পান। পদার্থবিজ্ঞানের আইন প্রণয়নে কতিপয় তাত্ত্বিক কাঠামোর বিন্যাস বিংশ শতাব্দীতে, পদার্থবিজ্ঞানের আইন প্রণয়নের জন্য দুটি তাত্ত্বিক কাঠামো আবির্ভূত হয়। প্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব, একটি তত্ত্ব যা মহাকর্ষ বল এবং স্থান ও সময় গঠনকে ব্যাখ্যা করে। অন্যটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স যা সম্ভাব্যতার নীতি নির্দেশিত মাত্রার সূত্র বা তত্ত্ব।
১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এই দুইটি কাঠামো অতিপারমাণবিক মৌলিক কণাসহ মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহকে ব্যাখ্যায় সফলতা অর্জন করে। মহাবিশ্বের পারমাণবিক অবস্থান মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত: স্থূল এবং সুক্ষ্ণ তথা দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য বস্তুর আঙ্গিকে। বস্ত্তত: পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ পদার্থ দিয়ে এই মহাবিশ্ব গঠিত। আবার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর অভ্যন্তরে ইলেকট্রন, প্রোটন ইত্যাদি মিলে ভিন্ন এক জগত মহাজগত রয়েছে। উনিশ শতকের প্রথম দিকে জন ডাল্টন পরমাণুবাদকে বেশ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। এ পরমাণুবাদের একটি স্বীকার্য ছিল, "সকল পদার্থ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত।"
নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াস আবিষ্কার
তেজস্ক্রিয় পদার্থ রেডিয়াম থেকে আলফা কণারা প্রচণ্ড গতিতে বেরিয়ে আসে। আলফা কণা খুব ভারী এবং যথেষ্ট বৈদ্যুতিক চার্জ আছে। আলফা কণা পরমাণুর ভেতর দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে তবে তার ব্যতিক্রমও হতে পারে অর্থাৎ অনায়াসে না বেরিয়ে বরং উল্টো দিকে ফিরে আসতে পারে এর কারণ পরীক্ষা করে রাদার ফোর্ড দেখতে পান যে, পরমাণুর সব বৈদ্যুতিক চার্জ এবং ভর যেন একটি স্থানে বসে আছে এবং আলফা কণিকা ওর সঙ্গেই টক্কর খেয়ে ফিরে আসে। ওই স্থানের নাম দেওয়া হলো নিউক্লিয়াস। https://www.bigganchinta.com/physics/strangeness-of-quantum-theory
ইউক্যারিওটিক কোষের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, প্রায় গোলাকার, প্রোটিন
ও লিপিড দিয়ে তৈরি দুটি একক পর্দা দিয়ে ঢাকা যে অংশ বংশগত পদার্থ ও DNA বহন করে এবং কোষের যাবতীয় বিভিন্ন কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে। ল্যাটিন ভাষায় নিউক্লিয়াসের অর্থ হল শাঁস।
https://completegyan.com/https://completegyan.com//নিউক্লিয়াস-গঠন-কাজ-ক্লি/
রবার্ট ব্রাউন (RobertBrown) সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে অর্কিড পাতার কোষে নিউক্লিয়াস দেখতে পান এবং এর নামকরণ করেন।
রাসায়নিকভাবে নিউক্লিয়াস মূলত প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। এতে অন্যান্য উপাদানও থাকে। যেমনঃ প্রোটিন (Protein), আরএনএ(RNA), ডিএনএ(DNA) । সিভকোষ বা লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না৷[২] নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত ৷ এটি কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে ৷ সুগঠিত নিউক্লিয়াস নিচের অংশগুলো দেখা যায়:
নিউক্লিয়ার ঝিল্লি
উচ্চমানসম্পন্ন মাইক্রোস্কোপ এ দৃশ্যমান নিউক্লিয়াস
নিউক্লিয়াস কে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লী তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লী বলে ৷ এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লী ৷ এ ঝিল্লী লিপিড ও প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত ৷ এ ঝিল্লীতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে একে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে ৷ এই ছিদ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রিকা ও সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে কিছু বস্তু চলাচল করে ৷ এই ঝিল্লী সাইটোপ্লাজম থেকে কেন্দ্রিকার অন্যান্ন বস্তুকে পৃথক করে ও বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রন করে ৷নিউক্লিওপ্লাজম
কেন্দ্রিকা ঝিল্লীর অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে ৷ কেন্দ্রিকা রসে নিউক্লিক এসিড , প্রোটিন , উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে ৷
কেন্দ্রিকার মধ্যে ক্রোমোজম এর সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাকাণু বলে ৷ ক্রোমোজোমের রঙঅগ্রাহী অংশের সাথে এরা লেগে থাকে ৷ এরা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ৷ এরা নিউক্লিক এসিড মজুদ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে ৷ নিউক্লিওলাস ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় স্যাটেলাইট।
কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুন্ডলী পাকানো সূক্ষ সুতার ন্যায় অংশই হল ক্রোমাটিন জালিকা ৷ কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় তাই তখন তাদের অালাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা হয় ৷ http://bigganeradda.blogspot.com/2016/02/nucleus.html
উল্লেখ্য, গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম ‘কণা’ (atom)নিয়ে মতবাদ পোষণ করেন। ‘অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি যার অর্থ অবিভাজ্য। অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous)একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল থেকে বলেন যে, পরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র জায়গায় আবদ্ধ’। তিনি এর নাম দেন ‘নিউক্লিয়াস’। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর ইলেকট্রন। ইলেকট্রন: ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু (subatomic) মৌলিক কণা (elementary particle) যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। ইলেকট্রন ফার্মিয়ন এবং লেপ্টন শ্রেনীভুক্ত। এটি প্রধানত তড়িৎ-চুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। পারমাণবিক কেন্দ্রের (নিউক্লিয়াসের) সঙ্গে একত্র হয়ে ইলেকট্রন পরমাণু তৈরি করে এবং এর রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। ইলেক্ট্রনের ভর 9.109×10^−31 kg এবং 5.489×10^−4 amu। আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমতা নীতির ভিত্তিতে, এই ভরটি 0.511 MeV শক্তি বিশিষ্ট। "ইলেকট্রন লেপ্টন নামক অধঃপারমাণবিক কণার শ্রেণীতে অবস্থিত। এদেরকে মৌল কণিকা হিসেবে ধরা হয়, অর্থাৎ এদেরকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য কণার মত ইলেকট্রনও তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করতে পারে। এই আচরণটিকে তরঙ্গ-কণা দ্বৈত আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
পদার্থবিজ্ঞানে এর অপর নাম কমপ্লিমেন্টারিটি"(উইকিপিডিয়া)। বিজ্ঞানী জি. জনস্টোন স্টোনি সর্বপ্রথম তড়িৎ রসায়নে ইলেকট্রনকে আধানের একটি একক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং তিনিই ১৮৯১ সালে ইলেকট্রন নামকরণ করেন । প্রোটন প্রোটন পরমাণুর একটি মৌলিক কণা। এই কণাটি একটি ধনাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। এর প্রতীক =p+। এর ভর- 1.672621777(74)×10−27 kg। এটি একটি অতিপারমাণবিক কণার যৌগিক কণা। আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানে প্রোটন হলো হ্যাড্রোন (hadron)-এর অন্তর্গত ব্যারিয়ন শ্রেণির যৌগিক কণা। এটি তিনটি কোয়ার্ক কণা নিয়ে তৈরি হয়। এর ভিতরে থাকে দুটি আপ কোয়ার্ক (up quarks) এবং একটি ডাউন কোয়ার্ক (down quark)। দুটি আপ কোয়ার্কের আধান হলো- ২/৩+২/৩=৪/৩। পক্ষান্তরে এতে -১/৩যুক্ত ডাউন কোয়ার্ক থাকায় এর চূড়ান্ত মান দাঁড়ায় ৪/৩-১/৩= ১। এই কারণে এর প্রতীক p+। এই কোয়ার্কগুলো গ্লুয়োন শক্তি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এর ব্যাস ১.৬-১.৭ এফএম। পরমাণুর কেন্দ্রে এক বা একাধিক প্রোটন থাকে। একটি পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। যেমন সোডিয়ামের পরমাণুতে প্রোটন থাকে ১১টি। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১। একটি পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে বলা হয় পারমাণবিক ভর সংখ্যা (atomic mass number)। যেমন—কার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকে। তাই এর পারমাণবিক ভর সংখ্যা হবে ১২।যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই থাকে কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়, তখন ওই পরমাণুগুলো পরস্পরের আইসোটোপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন— কার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকে, তাদের পরিচয় হয় কার্বন-১২ নামে। কিন্তু যখন কোনো পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৮টি থাকে, তখন তা কার্বন-১৪ নামে পরিচিত হয়। এই বিচারে কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪ পরস্পরের আইসোটোপ হবে। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে রাদার্ডফোর্ড (Ernest Rutherford) এর নামকরণ করেন। সূত্র: বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান বিশ্বকোষ। ১-৫ খণ্ড। http://en.wikipedia.org/wiki/Proton
নিউক্লিয়াস ইউক্যারিওটিক কোষের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, প্রায় গোলাকার, প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি দুটি একক পর্দা দিয়ে ঢাকা যে অংশ বংশগত পদার্থ ও DNA বহন করে এবং কোষের যাবতীয় বিভিন্ন কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে নিউক্লিয়াস বলে। ল্যাটিন ভাষায় নিউক্লিয়াসের অর্থ হল শাঁস। https://completegyan.com/https://completegyan.com//নিউক্লিয়াস-গঠন-কাজ-ক্লি/ রবার্ট ব্রাউন (RobertBrown) সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে অর্কিড পাতার কোষে নিউক্লিয়াস দেখতে পান এবং এর নামকরণ করেন।[১] রাসায়নিকভাবে নিউক্লিয়াস মূলত প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড দ্বারা গঠিত। এতে অন্যান্য উপাদানও থাকে। যেমনঃ প্রোটিন (Protein), আরএনএ(RNA), ডিএনএ(DNA) । সিভকোষ বা লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না৷[২] নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত ৷ এটি কোষে সংঘটিত বিপাকীয় কার্যাবলিসহ সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে ৷ সুগঠিত নিউক্লিয়াস নিচের অংশগুলো দেখা যায়: নিউক্লিয়ার ঝিল্লি নিউক্লিয়াস কে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লী তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লী বলে ৷ এটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লী ৷ এ ঝিল্লী লিপিড ও প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত ৷ এ ঝিল্লীতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে একে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে ৷ এই ছিদ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রিকা ও সাইটোপ্লাজম এর মধ্যে কিছু বস্তু চলাচল করে ৷ এই ঝিল্লী সাইটোপ্লাজম থেকে কেন্দ্রিকার অন্যান্ন বস্তুকে পৃথক করে ও বিভিন্ন বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রন করে ৷[৩] নিউক্লিওপ্লাজম কেন্দ্রিকা ঝিল্লীর অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে ৷ কেন্দ্রিকা রসে নিউক্লিক এসিড , প্রোটিন , উৎসেচক ও কতিপয় খনিজ লবণ থাকে ৷ নিউক্লিওলাস কেন্দ্রিকার মধ্যে ক্রোমোজম এর সাথে লাগানো গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাকাণু বলে ৷ এরা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ৷ এরা নিউক্লিক এসিড মজুদ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে ৷ নিউক্লিওলাস ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে লাগানো থাকে তাকে বলা হয় স্যাটেলাইট। ক্রোমাটিন জালিকা কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুন্ডলী পাকানো সূক্ষ সুতার ন্যায় অংশই হল ক্রোমাটিন জালিকা ৷ কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয় তাই তখন তাদের আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা হয় ৷ http://bigganeradda.blogspot.com/2016/02/nucleus.html
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: নতুন বিজ্ঞানের নতুন বীজ
কোয়ান্টাম তত্ত্ব কী? এর ব্যাখ্যা কী?
উনবিংশ শতাব্দী ছিল বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার এক পরম যুগ যা অষ্টাদশ, সতের শতকের নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞান সাধনার উর্বর ফসল। ধারণা করা হয়েছিল যে, মানব জাতির জ্ঞান ভান্ডারে যে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, সূত্র, প্রযুক্তিগত যতসব আবিস্কার তার সবই সম্পন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরু হতে না হতেই জ্ঞান/বিজ্ঞানের চাকা যেন উল্টোপানে ঘুরতে শুরু করে দেয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর মাত্র দশ মাসের মাথায় অর্থাৎ ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর এ চাকা উল্টোপানে ঘুরতে শুরু করে । নিম্নে বিস্তারিত দেয়া গেলঃ
১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ অক্টোবর : জগদ্বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী মাক্স প্লাঙ্ক বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের এক সেমিনারে নিম্নোক্ত একটি নূতন ফর্মুলা উপস্থাপন করলেন যা কৃষ্ণবস্তু থেকে বিকিরণের এন্ট্রপি ফর্মুলাকে আরও ব্যাপকভাবে পরিবর্ধিত করে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণাকে রাতারাতি বৈপ্লবিকভাবে পরিবর্তন করে কোয়ান্টাম তত্ত্ব নামে এক নতুন বিজ্ঞানের বীজ বপন করে দেয়:
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অনিশ্চয়তাবাদী: অন্যদিকে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান সম্ভাবনাভিত্তিক: বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান থাকলেও ভবিষ্যৎ কী ঘটবে তার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পারমাণবিক ও অতিপারমাণবিক স্তরের অনেক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, এবং চিরায়ত বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এই মাত্রার নির্ভুলতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়| কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি শাখা যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে[টীকা ১] পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি এবং বিশ্ব সৃষ্টি তত্ত্বমূলক যেমন মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়ন, আণবিক জীববিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, কণা পদার্থবিজ্ঞান, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তি, এবং বিজ্ঞানের এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে। কোয়ান্টাম মহাকর্ষতত্ত্ব কোয়ান্টাম মহাকর্ষ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের খুব সক্রিয় একটি গবেষণা ক্ষেত্র। এর অধীনে একাধিক তত্ত্ব আছে যার একটি আবার অন্যটির সাথে প্রতিযোগিতায় মত্ত। অনেক সময় একে সবকিছুর তত্ত্ব বা থিওরি অফ এভরিথিং বলা হয়। মূলত এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বৃহৎ ক্ষেত্রকে একত্রিত করার চেষ্টা করে। ক্ষেত্র দুটি হচ্ছে ১. মহাকর্ষ এবং ২. কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে সুপারস্ট্রিং তত্ত্ব, এর উত্তরসূরী এম-তত্ত্ব এবং এদের প্রতিযোগী লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ । অনেকেই মনে করেন, তমোপদার্থ গবেষণার চেয়ে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করাটা অনেক মৌলিক এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। কারণ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ প্রকৃতির সকল মৌলিক বলকে একটি সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অতি মৌলিক তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা দিয়ে তমোপদার্থের মত সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ তমোপদার্থ একটি চিরায়ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাবকৃত একটি চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের সমাধান। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম জনক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক (German: [ˈplaŋk]; English: /ˈplæŋk/; জন্ম: ২৩ এপ্রিল ১৮৫৮ - ৪ অক্টোবর ১৯৪৭) জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। 1918 সালে প্লাংক পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৮৮৯ থেকে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে প্লাংক অনেক অবদান রেখেছিলেন, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানী হিসাবে তাঁর খ্যাতি মূলত: কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক হিসাবে। তাঁর এই অবদান অতি পারমাণবিক পর্যায়ে মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করে। তাঁর প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ 1948 সালে জার্মান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান "কাইজার উইলহেল সোসাইটির" (যার মধ্যে প্লাংক দুবার সভাপতি ছিলেন) নামকরণ করা হয় "ম্যাক্স প্লাংক সোসাইটি (এমপিএস)"। ৮০টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট নিয়ে প্ল্যাঙ্ক সোসাইটি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ও সফল বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ইতিকথা কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের জনক ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের সময়ে ক্লাসিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানের একটি বড় সমস্যা ছিল কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ। কৃষ্ণ বস্তু হলো এমন বস্তু যা এর উপর আপতিত সকল তড়িৎচুম্বক বিকিরণ শোষণ করে নেয়। বিজ্ঞানীরা ভাবতেন কৃষ্ণবস্তুকে উত্তপ্ত করলে এটি তড়িৎচুম্বক তরঙ্গ বিকিরণ করে। এসব তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনী, অবলোহিত এবং দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সীমার মধ্যে পড়ে। কিন্তু উনিশ শতকে অনেক বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণে দেখতে পান যে, ক্লাসিক্যাল তাপগতি বিজ্ঞানের সাথে পরীক্ষায় পাওয়া উষ্ণ বস্তুর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনো মিল নেই। তত্ত্বের সাথে পর্যবেক্ষণের এই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। তিনি প্রস্তাব করেন যে, শক্তি অবিচ্ছিন্নভাবে যেকোনো পরিমাণে নির্গত হয় না বরং নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্গত হয়- যার নাম দেন তিনি ‘কোয়ান্টা’। এখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের উদ্ভব।
কোয়ান্টাম তত্ত্ব: “আলোকরশ্মি যখন কোন উৎস থেকে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট শক্তি গুচ্ছ আকারে বের হয়।” অর্থাৎ, E=hν; যেখানে E= ফোটনের শক্তি, h= প্ল্যাংক ধ্রুবক, ν = ফোটনের কম্পাংক। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে। বিজ্ঞানী ম্যাক্সপ্লাঙ্ক ১৯০০ সালে কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, উনবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের পরম উৎকর্ষতার মাঝেও পদার্থবিদ্যায় এক বিরাট যে সমস্যা তৎকালীন জাদরেল পদার্থবিজ্ঞানীদেরকে অসহায় করে তুলেছিল তা হচ্ছে: কৃষ্ণবস্তু থেকে বেরিয়ে আসা বিকিরণের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা। ১৭৯২ সালে টি ওয়েজউড লক্ষ করেছিলেন যে তাপিত সকল বস্তু একই তাপমাত্রায় রক্তিম হয়ে যায়। পরবর্তীকালে এই অনুমানের সঠিক ব্যাখ্যা দেন কারচফ। ১৮৫৯ সালে তিনি তাপ-গতি তত্ত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে বিকিরণ শক্তি ও শোষণ সহগের অনুপাত কেবল মাত্র কম্পাংক ও তাপমাত্রার অপেক্ষক, বস্তুর চরিত্রের উপর নির্ভরশীল নয়। ১৮৯৩ সালে ডব্লু ভাইন আরেক ধাপ এগিয়ে তাপ-গতি তত্ত্ব ও ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বকে সংযুক্ত করে দেখাতে সক্ষম হলেন বিকিরণশক্তি দু’টি সংখ্যার গুণফল। সংখ্যা দু’টি হল : কম্পাঙ্কের ত্রিঘাত ও কম্পাঙ্ক-তাপমাত্রার অনুপাতের অপেক্ষক। তবে প্রাচীন তাপগতিবিদ্যা কিংবা নিউটনীয় বলবিদ্যা এই সমস্যা সম্পূর্ণভাবে সমাধান করা যায়নি। তৎপরিপ্রেক্ষিতে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এ বিষয়ে সমাধানার্থে যাঁরা কাজ করেছিলেন তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী হেনরিক রুবেন, আর্নস্ট প্রিংসাইম, অটো লুথান ডব্লু ভিন, লর্ড র্যালে এবং কে, এইচ, জিনস প্রমুখ
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অনিশ্চয়তাবাদী: অন্যদিকে কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান সম্ভাবনাভিত্তিক: বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান থাকলেও ভবিষ্যৎ কী ঘটবে তার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পারমাণবিক ও অতিপারমাণবিক স্তরের অনেক ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, এবং চিরায়ত বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এই মাত্রার নির্ভুলতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়| কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের একটি শাখা যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে[টীকা ১] পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি এবং বিশ্ব সৃষ্টি তত্ত্বমূলক যেমন মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়ন, আণবিক জীববিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, কণা পদার্থবিজ্ঞান, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তি, এবং বিজ্ঞানের এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে। কোয়ান্টাম মহাকর্ষতত্ত্ব কোয়ান্টাম মহাকর্ষ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের খুব সক্রিয় একটি গবেষণা ক্ষেত্র। এর অধীনে একাধিক তত্ত্ব আছে যার একটি আবার অন্যটির সাথে প্রতিযোগিতায় মত্ত। অনেক সময় একে সবকিছুর তত্ত্ব বা থিওরি অফ এভরিথিং বলা হয়। মূলত এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বৃহৎ ক্ষেত্রকে একত্রিত করার চেষ্টা করে। ক্ষেত্র দুটি হচ্ছে ১. মহাকর্ষ এবং ২. কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে সুপারস্ট্রিং তত্ত্ব, এর উত্তরসূরী এম-তত্ত্ব এবং এদের প্রতিযোগী লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ । অনেকেই মনে করেন, তমোপদার্থ গবেষণার চেয়ে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করাটা অনেক মৌলিক এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। কারণ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ প্রকৃতির সকল মৌলিক বলকে একটি সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অতি মৌলিক তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা দিয়ে তমোপদার্থের মত সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ তমোপদার্থ একটি চিরায়ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাবকৃত একটি চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের সমাধান। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান কোয়ান্টাম জনক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক কার্ল আর্নস্ট লুডভিগ মার্কস প্ল্যানক (German: [ˈplaŋk]; English: /ˈplæŋk/; জন্ম: ২৩ এপ্রিল ১৮৫৮ - ৪ অক্টোবর ১৯৪৭) জার্মান তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। 1918 সালে প্লাংক পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ১৮৮৯ থেকে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে প্লাংক অনেক অবদান রেখেছিলেন, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানী হিসাবে তাঁর খ্যাতি মূলত: কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক হিসাবে। তাঁর এই অবদান অতি পারমাণবিক পর্যায়ে মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করে। তাঁর প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ 1948 সালে জার্মান বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান "কাইজার উইলহেল সোসাইটির" (যার মধ্যে প্লাংক দুবার সভাপতি ছিলেন) নামকরণ করা হয় "ম্যাক্স প্লাংক সোসাইটি (এমপিএস)"। ৮০টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট নিয়ে প্ল্যাঙ্ক সোসাইটি এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ও সফল বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের ইতিকথা কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞানের জনক ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের সময়ে ক্লাসিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানের একটি বড় সমস্যা ছিল কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ। কৃষ্ণ বস্তু হলো এমন বস্তু যা এর উপর আপতিত সকল তড়িৎচুম্বক বিকিরণ শোষণ করে নেয়। বিজ্ঞানীরা ভাবতেন কৃষ্ণবস্তুকে উত্তপ্ত করলে এটি তড়িৎচুম্বক তরঙ্গ বিকিরণ করে। এসব তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিবেগুনী, অবলোহিত এবং দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সীমার মধ্যে পড়ে। কিন্তু উনিশ শতকে অনেক বিজ্ঞানী পর্যবেক্ষণে দেখতে পান যে, ক্লাসিক্যাল তাপগতি বিজ্ঞানের সাথে পরীক্ষায় পাওয়া উষ্ণ বস্তুর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কোনো মিল নেই। তত্ত্বের সাথে পর্যবেক্ষণের এই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে আসেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। তিনি প্রস্তাব করেন যে, শক্তি অবিচ্ছিন্নভাবে যেকোনো পরিমাণে নির্গত হয় না বরং নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্গত হয়- যার নাম দেন তিনি ‘কোয়ান্টা’। এখান থেকেই কোয়ান্টাম তত্ত্বের উদ্ভব। এই তত্ত্ব পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা যায়। প্ল্যাঙ্ক আরও বের করেন যে, তড়িৎচুম্বক বিকিরণের সাথে বাহিত শক্তির পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা দ্বারা বিভাজ্য হতে হবে। এ সংখ্যাটিকেই আজ আমরা 'প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক' বলেই জানি। তিনি একটি সমীকরণ আবিষ্কার করেন যা থেকে বিকিরণ থেকে নির্গত শক্তির পরিমাণ হিসাব করা যায়। সমীকরণটি হচ্ছে: E= শক্তির পরিমাণ, প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক h= ৬.৬২৬*১০-৩৪, v= কম্পাঙ্ক।
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অনিশ্চয়তাবাদী:
অন্যদিকে
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান সম্ভাবনাভিত্তিক: বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নির্ভুল জ্ঞান
থাকলেও ভবিষ্যৎ কী ঘটবে তার পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পারমাণবিক ও অতিপারমাণবিক স্তরের অনেক
ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম, এবং
চিরায়ত বলবিজ্ঞানের সাহায্যে এই মাত্রার নির্ভুলতায় পৌঁছানো সম্ভব নয়|
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তাবাদী সম্ভাবনা তত্ত্ব
বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তরও মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ নিরূপন করেই আবহাওয়ার পূর্বাভাষ দেয় এই বলে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকাল ভোর........টার মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট,পটুয়াখালী সমুদ্রোপকূলবর্তী এলাকা দিয়ে ঘন্টায় ২৬০ কিঃমিঃ বেগে বয়ে যেতে পারে। লক্ষ্যণীয় যে, ট্রেনের পৌঁছার সুনির্দিষ্টতার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে ১. ট্রেন ছাড়ার সময় এবং ২. ট্রেনের গতিবেগ জানা। তাহলেই কেবল তা ঢাকায় ট্রেন পৌঁছার সময় নির্দিষ্ট করা সম্ভব। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাষের মতো বলা হয় না, ৭টার মধ্যে পৌঁছতে পারে। বরং সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় ট্রেন ছাড়বে রাত ১১ টায় পৌঁছবে সকাল ৭টায় টায়। কিন্তু আবহাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যতিক্রম। তাতে বলা হয়ঃ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে (May be possible)। কারণ, অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় মাঝপথে অজ্ঞাতকারণে গতিবেগ কমে গিয়ে কিংবা গতিপথ পরিবর্তনের ফলে ঘোষিত প্রত্যাশিত উপকূলীয় এলাকায় আদৌ ঘূর্ণিঝড় প্রবাহিত হয় না বরং দূর্বল হয়ে সাধারণতঃ একসময় গভীর সমুদ্রে বিলীন হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাষ যথাসময়ে বাস্তব রূপ লাভ করে থাকে। প্রায় প্রতি বছরেই বছরে অন্ততঃ প্রথম এবং শেষের দিকে একাধিকবার নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় কিন্তু আঘাত হানে বছরওয়ারী ব্যাপক ব্যবধানে যার তুলনামূলক চিত্র নিম্নরূপঃ
৩–৫ জুন ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে বয়ে যায় (বাংলাদেশের কূল ঘেঁসে) অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১৯-২১ সেপ্টেম্বর ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: ঝড়টি সুন্দরবন উপকূলের উত্তর পাস দিয়ে বয়ে যায়, কোলকাতা ও বরিশাল এর মাঝদিয়ে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১১ মে ১৮৪৪ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১২–১৩ মে ১৮৪৯ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম উপকূলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
২৩–২৮এপ্রিল ১৮৫০ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল পশ্চিম নিকবর। উপকূল: এটি উত্তরদিক থেকে বাংলা হয়ে পশ্চিম নিকবরে সরে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১২–১৫ মে ১৮৫২ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল ১৫°উত্তর। উপকূল: এটি উত্তর দিকে সরে এসে সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতিক্রম করে, কেন্দ্র প্রবাহিত হয় ৩৯ মাইল (৬৩ কিমি) পূর্ব কোলকাতা অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১৩–১৭ মে ১৮৬৯ | ঘূর্ণিঝড় | ঝড়টি কেপ নিগ্রেস থেকে উত্তর-পশ্চিমদিকে সরে বাংলার দিকে এগিয়ে যায় এবং বাংলার উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর · বেঙ্গল ডিসট্রিক্ট গেঁজেটার (বালেশ্বর)- এল.এস.এস. ও'ম্যালি, আইসিএস |
৩–৫ জুন ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে বয়ে যায় (বাংলাদেশের কূল ঘেঁসে) অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১৯-২১ সেপ্টেম্বর ১৮৩৯ | ঘূর্ণিঝড় | উপকূল: ঝড়টি সুন্দরবন উপকূলের উত্তর পাস দিয়ে বয়ে যায়, কোলকাতা ও বরিশাল এর মাঝদিয়ে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১১ মে ১৮৪৪ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১২–১৩ মে ১৮৪৯ | ঘূর্ণিঝড় (ঝড়ো বাতাস) | উপকূল: ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম উপকূলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
২৩–২৮এপ্রিল ১৮৫০ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল পশ্চিম নিকবর। উপকূল: এটি উত্তরদিক থেকে বাংলা হয়ে পশ্চিম নিকবরে সরে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১২–১৫ মে ১৮৫২ | ঘূর্ণিঝড় | উৎপত্তি: উৎপত্তিস্থল ১৫°উত্তর। উপকূল: এটি উত্তর দিকে সরে এসে সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতিক্রম করে, কেন্দ্র প্রবাহিত হয় ৩৯ মাইল (৬৩ কিমি) পূর্ব কোলকাতা অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। | |
১৩–১৭ মে ১৮৬৯ | ঘূর্ণিঝড় | ঝড়টি কেপ নিগ্রেস থেকে উত্তর-পশ্চিমদিকে সরে বাংলার দিকে এগিয়ে যায় এবং বাংলার উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যায়। অপর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। | · আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকান পররাষ্ট্র দুর্যোগ সহায়তা সংস্থার জন্যে তৈরি ১৯৭৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তালিকা, বঙ্গোপসাগরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়সমূহ, ওয়াশিংটন ডিসি ২০৫২৩- এফ হ্যন্ডারসন। |
·
সুত্র: এসএমআরসি-নং-১ - উপকূলবর্তী সার্কভুক্ত দেশসমূহে
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত এবং এলাকায় তার প্রভাব, সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র
(এসএমআরসি), ১৯৯৮।
|
সিরিয়াল
নং |
তারিখ/বছর |
সংকটের
প্রকার |
প্রাসঙ্গিক
তথ্য |
তথ্যসূত্র/
সূত্র তালিকা |
|
১৭–১৯ মে
১৯৪৮ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী এর মধ্যের ব-দ্বীপ। ক্ষয়ক্ষতি:
আনুমানিক মানুষ ১,২০০ জন এবং গবাদিপশু ২০,০০০। |
|
১৬–১৯ মে
১৯৫৮ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: বরিশাল ও নোয়াখালীর পূর্বপার্শ্বের পূর্ব-পশ্চিম
মেঘনা নদীর মোহনা। ক্ষয়ক্ষতি:
মানুষ ৮৭০ জন এবং ১৪,৫০০ গবাদি পশু। একইসাথে ক্ষেতের ফসল বিনষ্ট হয়। |
|
২১–২৪
অক্টোবর ১৯৫৮ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: চট্টগ্রাম ক্ষয়ক্ষতি:
আনুমানিক ১ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। |
|
৯–১০
অক্টোবর ১৯৬০ |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: মেঘনা নদীর পূর্ব মোহনা, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর এবং পটুয়াখালী। বাতাসের
সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২০১ কিমি/ঘণ্টা |
|
৩০–৩১
অক্টোবর ১৯৬০ |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী এবং মেঘনা মোহনার পূর্ব
পাড়। বাতাসের
সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা |
|
৯ মে ১৯৬১ |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: বাগেরহাট এবং খুলনা সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
|
২৬–৩০
অক্টোবর ১৯৬২ |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: ফেনি সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
|
২৮–২৯ মে
১৯৬৩ |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার এবং
সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া এবং মহেশখালীর উপকূলীয়
অঞ্চল সমূহ। সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ২০৩ কিমি/ঘণ্টা (১৬৪ কিমি/ঘণ্টা
at কক্সবাজার) |
|
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী এবং মেঘনা মোহনার পূর্ব
পাড়। বাতাসের
সর্বোচ্চ গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা |
|
উপকূল: বাগেরহাট এবং খুলনা সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
|
উপকূল: ফেনি সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
|
উপকূল: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার এবং
সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া এবং মহেশখালীর উপকূলীয়
অঞ্চল সমূহ। সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ২০৩ কিমি/ঘণ্টা (১৬৪ কিমি/ঘণ্টা
at কক্সবাজার) |
|
|
১১–১২ মে
১৯৬৫ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: বরিশাল এবং বাকেরগঞ্জ। সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬২ কিমি/ঘণ্টা |
|
|
১৪–১৫
ডিসেম্বর ১৯৬৫ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর নিকটবর্তী। সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ২১০ কিমি/ঘণ্টা কক্সবাজারে। |
|
|
১ অক্টোবর ১৯৬৬ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: সন্দ্বীপ, বাকেগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং কুমিল্লা। জোয়ারের
উচ্চতা: ৪.৭-৯.১ মিটার |
|
৭-১৩ নভেম্বর: ১৯৭০ ভোলা ঘূর্ণিঝড় |
তীব্র ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: সমগ্র বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চটগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর
বোরহানুদ্দিনের উত্তর পাশ, চর তাজুমুদ্দিন এবং মাইজদি ও
হরিণঘাটা এর দক্ষিণ পাশ সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারী হিসাব অনুসারে
মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লক্ষ কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি ধারণা করা হয়। ক্ষতির
মধ্যে আনুমানিক ২০,০০০ মাছ ধরা নৌকা, শস্য ও সম্পদ। গবাদিপশু
মৃত্যু প্রায় ১০ লক্ষে, বাড়িঘর ৪ লক্ষ এবং ৩,৫০০ শিক্ষাকেন্দ্র বিধ্বস্ত
হয়। সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ: ২২২ কিমি/ঘণ্টা। |
|
|
৫–৬
নভেম্বর ১৯৭১ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল ক্ষয়ক্ষতি:
অজানা |
--- |
২৮–৩০
নভেম্বের ১৯৭১ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: সুন্দরবন এর নিকটবর্তী সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ৯৭–১১৩ কিমি/ঘণ্টা। |
--- |
|
৬–৯ ডিসেম্বর
১৯৭৩ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: সুন্দরবন এর নিকটবর্তী পটুয়াখালী
ও তার নিকটবর্তী এলাকা সমূহ প্রবল জলোচ্ছ্বাসে নিমজ্জিত হয়। |
--- |
|
১৩–১৫
অগাস্ট ১৯৭৪ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল:খুলনা সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ৮০.৫ কিমি/ঘণ্টা |
--- |
|
২৪–২৮ নভেম্বের
১৯৭৪ |
ঘূর্ণিঝড় |
উপকূল: কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের নিকটবর্তী। সর্বোচ্চ
বাতাসের গতিবেগ: ১৬১ কিমি/ঘণ্টা |
--- |
(সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)
সন ভিত্তিক ঘূর্ণঝড়
১৯৮৮ এর
ঘূর্ণিঝড়:
১৯৮৮
সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে যায় যশোর, কুষ্টিয়া,
ফরিদপুর এবং বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায়৷ বাতাসের
সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার৷ এই ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজার ৭০৮ জন প্রাণ
হারান৷
১৯৯১ এর
ঘূর্ণিঝড়:
ভারত
মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার৷
এটি মূলত চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে আছড়ে পড়েছিল৷ ঝড়ের প্রভাবে ১২ থেকে ২২ ফুট
উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়৷ ২৯-৩০ এপ্রিলের এই ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেওয়া হয় ‘শতাব্দীর
প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে৷ এতে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার
মানুষ মারা গিয়েছিল বলে জানা যায়৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এক কোটির বেশি মানুষ৷
১৯৯৭ এর
ঘূর্ণিঝড়:
১৯৯৭
সালের ১৯ মে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ড ও এর আশেপাশের এলাকায় আরেকটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে৷
ঘণ্টায় ২৩২ কিলোমিটার বেগের বাতাসের সঙ্গে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয়
এলাকা প্লাবিত হয়৷ এরপর আরো কয়েকটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল৷ তবে সেগুলো বাতাসের
গতিবেগ ছিল কম৷
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ইতিহাস
২০০০ সাল থেকে ঝড়ের নামকরণের জন্য নিয়ম বানানো হয়৷ তাতে ওয়ার্ল্ড
মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর
এশিয়ার সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া শুরু করে৷ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আছে
ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ,
মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড৷ সব দেশের
কাছ থেকে ঝড়ের নাম চাওয়া হয়৷ তার থেকে দেশ প্রতি ৮টি করে নাম বাছাই করে মোট ৬৪টি
ঝড়ের নামকরণ করা হয়৷ সেই তালিকার শেষ নাম ‘আমফান’৷
ঘূর্ণিঝড়
সিডর:
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডর প্রায় ছয় হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল৷ যদিও রেডক্রিসেন্টের হিসাব মতে প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার৷ উত্তর ভারত মহাসাগরে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে সৃষ্ট এ ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ২৬০ থেকে ৩০৫ কিলোমিটার৷ সিডর খুলনা ও বরিশাল এলাকায় তাণ্ডব চালায়৷ সমুদ্র থেকে উঠে আসা ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে সব কিছু ভেসে যায়৷ ঝড়ে তিন হাজরের বেশি মানুষ মারা যায়৷ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩২টি জেলার ২০ লাখ মানুষ৷ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ছয় লাখ টন ধান নষ্ট হয়ে যায়৷ সুন্দরবনের প্রাণীদের পাশাপাশি অসংখ্য গবাদিপশু মারা যায় ৷
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী
আটটি ঝড়
নার্গিস (মিয়ানমার)
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভয়াবহ
ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে একটি হলো নার্গিস৷ ২০০৮ সালের মে মাসে যেটি মিয়ানমারে আঘাত
হানে৷ এতে প্রাণ হারায় ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ ৪ লাখ ৫০ হাজার ঘর-বাড়ি
পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়৷
ঘূর্ণিঝড় আইলা:
ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূলে ২০০৯ সালে ২৫ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা'৷ এই ঘূর্ণিঝড় ভারতের ১৪৯ জন ও বাংলাদেশের ১৯৩ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়৷
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে উপকূলে প্রায় তিন লাখ মানুষ গৃহহীন হয়৷
ঘূর্ণিঝড়
মহাসেন:
ঘূর্ণিঝড়
‘মহাসেন’ ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালী ও
চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে৷ এটির বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার৷ এই ঝড়
বাংলাদেশে ১৭ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়৷
ঘূর্ণিঝড়
কোমেন:
ঘূর্ণিঝড়
কোমেন ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘাত হানে৷ বাতাসের গতি ছিল ৬৫
কিলোমিটার৷ কোমেনের প্রভাবে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর
পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছিল৷
ঘূর্ণিঝড়
রোয়ানু:
রোয়ানু
একটি ছোট ঘূর্নিঝড়, যা ২০১৬ সালে ২১ মে বাংলাদেশের উপকূল
অঞ্চলে এবং ভারতে আংশিক অঞ্চলে আঘাত হানে৷ ধারণা করা হয়, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির৷
রোয়ানু-র আঘাতে চট্টগ্রামে ২৬ জনের মৃত্যু হয়৷
ঘূর্ণিঝড়
মোরা:
উত্তর
বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোরা ২০১৭
সালের ৩০ মে ১৪৬ কিলোমিটার বাতাসের গতিতে কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে৷ ঝড়ের
তাণ্ডবে হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়৷ কক্সবাজারে বিদ্যুৎব্যবস্থা
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ জমির ফসল এবং লবন চাষীদের জমাকৃত লবন নষ্ট হয়ে যায়৷ দুজন
নারীসহ তিনজন মারা যায়৷
ঘূর্ণিঝড়
ফণী:
২০১৯ সালের
৩ মে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বাংলাদেশে নয় জনের মৃত্যু হয়৷ তবে
প্রাণহানি কম হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিল অনেক বেশি৷ সরকারি হিসাব মতে, ঘূর্ণিঝড়
ফণীর কারণে ঘরবাড়ি, বাঁধ, সড়ক ও
কৃষিতে ৫৩৬ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়৷
ঘূর্ণিঝড়
বুলবুল:
বার বার
দিক বদল করে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ভারতের
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানার পর স্থলভাগ দিয়ে
বাংলাদেশে আসায় ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কার চেয়ে কম হয়৷ ঝড়ে মারা যায় ২৪
জন৷ ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার আর্থিক
মূল্য ২৬৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা৷ ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনেরও৷
সূত্রঃhttps://www.dw.com/bn//বাংলাদেশে-আঘাত-হানা-যত-ঘূর্ণিঝড়/a-53504181
·
বছর/দশক ও শতাব্দীওয়ারি ঘূর্ণিঝড়ের তুলনামূলক ব্যবধান নিম্নরূপঃ
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের
দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়।
বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো
এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা
হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের
সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।
১. ভোলা সাইক্লোন
১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি
হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের
ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’
নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি
৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি
হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১
নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের
সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের
কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও
দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা,
খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন
উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ
হারায় সে ঝড়ে।
২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ
আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন
এবং বিভিন্ন প্রাচীন নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি
গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।
৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ
সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ
বর্তমান বরিশাল জেলার
একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই
বাকেরগঞ্জ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল।
বাংলাপিডিয়া এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য
সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’।
৪. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী
ঝড়
২৫-৩০ এপ্রিল, ১৯৯১
মৃতের সংখ্যা: প্রায় ১
লাখ ৩৮ হাজার
১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল
নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর
হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর
গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী
অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে
কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি
জেলার ১০২টি উপজেলা। তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম,
কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, খেপুপাড়া, ভোলা, টেকনাফ।
১৯৯১ সালের এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মৃত্যুবরণ করে এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ
আহত হয়।
৫. ১৮২২ সালের ঘূর্ণিঝড়
জুন, ১৮২২
মৃতের সংখ্যা: ৫০ হাজার
ঘূর্ণিঝড়টি সংঘটিত হয়েছিল
১৮২২ সালের জুন মাসে। বরিশাল-বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে হয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে ৫০ হাজার
মানুষের প্রাণহানি হয়। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ গবাদিপশু মারা যায় এ ঝড়ে।
৬. ১৭৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ৩০ হাজার
বরিশাল-বাকেরগঞ্জের
উপকূলীয় অঞ্চলে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল বলে জানা যায়। এ
ঝড়ে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৩ মিটার বা ৪৩ ফুট।
৭. ১৮৩১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩১ অক্টোবর, ১৮৩১
মৃতের সংখ্যা: ২২ হাজার
এ ঝড়ে ভারতের ওডিশা
উপকূলও প্লাবিত হয়। জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হওয়া ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৫ ফুট।
বাংলা ও ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় এ ঝড়ে মৃত্যুবরণ করে ২২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এতে
৫০ হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।
৮. ১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড়
২৮-২৯ মে, ১৯৬৩
মৃতের সংখ্যা: সরকারি
হিসাবে ১১ হাজার ৫২০। বেসরকারি হিসাবে ২২ হাজার
এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালী জেলায়। এর উৎপত্তি হয়েছিল উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি ২৮ মে রাতে সীতাকুণ্ড দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার। ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ২০ ফুট।
৯. ১৯৬৫ সালের ঘূর্ণিঝড়
৯-১২ মে, ১৯৬৫
মৃতের সংখ্যা: ১৯ হাজার
২৭৯
এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে ১১ মে মধ্যরাতে বরিশাল ও নোয়াখালী দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১২ ফুট। এতে বরিশাল, নোয়াখালী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১০. ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৪-৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার
৬৮৩ জন
এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে খুলনার কাছে রায়মঙ্গল নদের কাছ
দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন চর এবং উপকূলবর্তী
দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বাতাসের বেগ ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার।
জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল সাড়ে ১৪ ফুট।
১১. ১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৫-৯ মে, ১৯৬১
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার
৪৬৮
এ ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল মূলত ঢাকা, কুমিল্লা ও সংলগ্ন এলাকায়। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। এটি মেঘনার পশ্চিম মোহনা অতিক্রম করে সকাল নয়টায়। এ ঝড়ে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ কাঁচা ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
১২. উড়িরচর সাইক্লোন
২২-২৫ মে, ১৯৮৫
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার
৬৯
এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী এবং
উপকূলবর্তী দ্বীপ সন্দ্বীপ, হাতিয়া এবং উড়িরচরে।
বাতাসের গতিবেগ ছিল চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ১৫৪ কিলোমিটার, সন্দ্বীপে
১৩৯ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১০৪ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। এতে ১১
হাজার ৬৯ জন নিহত হয় এবং ৯৪ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার
৩৩টি পশুসম্পদ বিনষ্ট হয়। মোট ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিডর, ২০০৭
১৩. সিডর
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
মৃতের সংখ্যা: ১০ হাজার
(রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি)
সরকারি হিসাব: ৬ হাজার
বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট
ঘূর্ণিঝড় সিডর। এটি ০৬বি টাইপ ঘূর্ণিঝড়। এ ঝড়ে বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০
কিলোমিটার। এ কারণে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী এটি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার
ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত। খুলনা-বরিশাল
উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড করে দেওয়া ঘূর্ণিঝড়টির সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা
ছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট।
১৪. ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩০-৩১ অক্টোবর, ১৯৬০
মৃতের সংখ্যা: ৫,১৪৯
চট্টগ্রামে এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৩
কিলোমিটার।
তবে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে থাকা এস এস বালি নামে সুইডেনের একটি জাহাজ প্রতি
ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ২০৯ কিলোমিটার রেকর্ড করেছিল বলে জানা যায়। ৩১ তারিখ এই ঝড়
বরিশাল অতিক্রম করে ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে। এ ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল
২২ ফুট।
১৫. ১৯৪১ সালের ঘূর্ণিঝড়
২২-২৬ মে, ১৯৪১
মৃতের সংখ্যা: ৫,০০০
ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালীর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল এ
ঘূর্ণিঝড়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভোলা অঞ্চল। এ ঝড়ে সৃষ্টি হওয়া
জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১০-১২ ফুট।
সূত্র: ১. দ্য ইমপ্যাক্ট
অব ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস অন দ্য কোস্টাল রিজিয়ন অব সার্ক কান্ট্রিজ অ্যান্ড দেয়ার
ইনফ্লুয়েন্স ইন দ্য রিজিয়ন,
সার্ক মেটেরোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি), ১৯৯৮, আগারগাঁও, ঢাকা।
ভূমিকম্প: অনিশ্চিত পূর্বাভাষ
ভূ-ত্বকে সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ তরঙ্গ আকারে বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে ভূমিকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে। ভূ-গর্ভস্থ রকের সঙ্গে বিদ্যমান ফল্টের ধাক্কায়ও ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। যখন দুটি প্লেট একে অপরের বিপরিতে অবস্থান করে,তখন কিছুটা আটকে থাকে। যখন প্লেটে বিদ্যমান শিলাগুলো ভেঙে যায়,তখনই মাটিতে কম্পন দেখা দেয়। তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যদি ভূ-গর্ভস্থ ফল্টে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়,তাহলে ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অফ মিয়ামিতে গবেষণায় দেখা যায়,অধিক বৃষ্টিপাত ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিপাতে ২০১০ সালে হাইতিতে রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনে ছিল। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতে,২০০৯ সালের দিকে তাইওয়ানে প্রায় ছয় দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনে বৃষ্টিপাত,সাইক্লোন ও ঝড়ের প্যাটার্ন যে অনাকাঙ্খিত হারে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা ভূমিকম্পের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ভূমিকম্প সিস্মোমিটার বা সিস্মোগ্রাফে পরিমাপ করা যায়। ১৯৬০ সালের ২২ মে দক্ষিণ চিলিতে গভীর ও ভয়ানক যে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল তা যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপে প্রায় ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ছিল। ইতিহাস পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ১৮১১ সালের দিকে দক্ষিণ আমেরিকায় রিখটার স্কেলে আট মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৩৭টির বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। রিখটার স্কেলে যেগুলোর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫-এর বেশি। ওই মাত্রার ভূমিকম্পে আক্রান্ত দেশগুলো হলো- চিলি, আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, জাপান, আফ্রিকা, বাংলাদেশ, কলোম্বিয়া, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশ। বাংলাদেশে ওই ঐতিহাসিক ভূমিকম্পটি ১৭৬২ সালের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করেছিল।
জিওগ্রাফিক্যালি বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প জোনে। বাংলাদেশের চারপাশে অনেক টেকটোনিক ব্লক রয়েছে। দেশটির নিম্নাঞ্চল বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযুক্তি রয়েছে। অন্যদিকে সি লেবেল দেশটির কাছাকাছি হওয়ায় ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামিও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে ১৯০০ সালের পরবর্তী সময়ে প্রায় ১০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৬৫টির বেশি ভূমিকম্প ১৯৬০ সালের পরবর্তী সময়ে রেকর্ড করা হয়। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ফ্রিকোয়েন্সি লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেটা অনুযায়ী,সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প আঘাত হানে। ১৯৮৮ সালে সিলেটে মাঝারি থেকে বড় আকারের ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ওই ভূমিকম্পে টেকটোনিক প্লেটের গভীরতা ছিল প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল,রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৭। ওই ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল আগ্নেয়গিরি থেকে গড়ে ৬৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল। ২০২১ সালে মে ও জুনেও দুটি ভূমিকম্প ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩-এর বেশি। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে এবং ২৭ নভেম্বর শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে যথাক্রমে মাঝারি ও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বিভিন্ন কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন, প্রচুর বৃষ্টিপাত, কার্বনডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি, বাঁধ নির্মাণ, বনায়ন ধ্বংস, জিওথার্মাল শক্তির স্থানান্তর ও জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত গ্রিন হাউজ গ্যাস ক্রমান্বয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে ওই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বৈশ্বিক উষ্ণতা পৃথিবীতে বিদ্যমান বরফ গলিয়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করছে। ওই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সমুদ্রের পানি, ভূ-গর্ভস্থ ফল্টে পানির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
বনায়ন ধ্বংসে ভূমিধসের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ওই ভূমিধসে ভূগর্ভস্থ মাটিতে বিদ্যমান আন্তঃশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে টেকটোনিক প্লেটের গতি বেড়ে হঠাৎ ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। আবার আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতও ভূমিকম্প বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। আগ্নেয়গিরিতে বিদ্যমান ‘রিং অফ ফায়ার’ ভূমিকম্পের প্রতি সংবেদনশীল। ওই রিং অফ ফায়ারে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প দেখা যায়।
কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে কোন প্রকার পূর্বাভাষ ব্যতিরেকে হঠাৎ নিঃসৃত গলিত পাথর বা তা থেকে জমাট বাঁধা পাথরকে লাভা বলা হয়। লাভা যখন কোনো আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসে তখন এর উষ্ণতা থাকে ৭০০° সেলসিয়াস থেকে ১২০০° সেলসিয়াস।
আগ্নেয়গিরি থেকে বিস্ফোরণহীণভাবে উদগীরিত লাভা যখন ভূপৃষ্ঠে বয়ে যায় তখন তাকে লাভা প্রবাহ বলা হয়। এই লাভা জমাট বেঁধে আগ্নেয় শিলা গঠন করে। বিস্ফোরণ যুক্ত উদগীরণ-এর ক্ষেত্রে আগ্নেয় ভস্ম বা আগ্নেয় ছাই এবং আগ্নেয় বস্তুকণা বা টেফ্রা-র মিশ্রণ উদগীরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, লাভা কথাটি সম্ভবত ল্যাটিন শব্দ লাবেস (labes) থেকে এসেছে, যার অর্থ গড়িয়ে পড়া।
বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় একে একে জেগে উঠছে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। কঙ্গোর ভয়াবহ অগ্নুৎপাতের পর স্পেনের লা পালমা দ্বীপে দেখা গেছে লাভার উদগীরণ। এদিকে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিলাউয়া’ আগ্নেয়গিরিটি। স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর/২০২১) থেকে লাভা উদগীরণ শুরু করেছে হাওয়াই দ্বীপের এই আগ্নেয়গিরিটি। ভূ-তাত্ত্বিকরা বলছেন, লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকায় লাভার উদগীরণ হচ্ছেনা। হাওয়াই ভলক্যানো ন্যাশনাল পার্কেই সীমাবদ্ধ অগ্ন্যুৎপাৎ। গত কয়েকদিনে এলাকাটিতে মৃদু ও মাঝারি ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
স্পেনের লা পালমা দ্বীপে কয়েকদিনের মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্পের পর ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সক্রিয় হয় আগ্নেয় শৈলশিরা ‘কুমব্রে ভিয়েজা।’ এর লাভার স্রোত পুড়িয়ে দেয় ৬ শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। ধ্বংস হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সড়ক ও সেতুও। নিরাপত্তার খাতিরে দ্বীপের ৭ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। লাভা গিয়ে পড়েছে আটলান্টিক মহাসাগরে। ফলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।https://www.jamuna.tv/news/269080
এদিকে ১৫০ বছর পর ঘুম ভেঙে ফের জেগে উঠেছে ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, ব্যারেন। গোয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওসোনোগ্রাফি জানিয়েছে, ক্রমাগত ধোঁয়া আর ছাই বেরিয়ে আসছে জ্বালামুখ দিয়ে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালের দিকে তাল আগ্নেয়গিরি থেকে দুর্বল লাভা উদগীরণ শুরু হয়-আগ্নেয়গিরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
বিশাল মাত্রায় ছাই উদগীরণের কারণে স্থানীয় ৮ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়ার পর এই লাভা উদগীরণ শুরু হলো। একটি লেকের মাঝখানে দ্বীপের মতো জায়গায় অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আগ্নেয়গিরি এবং গত সাড়ে চারশ বছরে এটি ৩৪ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে।
“তাল আগ্নেয়গিরির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যা চৌম্বকীয় উদগীরণ ঘটাতে পারে রাত ২:৪৯ থেকে ভোর ৪:২৮-এর মধ্যে…এটি মূলত দুর্বল লাভা যার সাথে বজ্রপাতও হতে পারে,” এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে ফিলিপিন্স ইন্সটিটিউট অব ভলকানোলজি এন্ড সিসমোলজি (ফিভোলক্স)।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রেনাটা সোলিডাম বলেন, ভয়ংকর বিস্ফোরণের চিহ্ন যেমন “ছাই, পাথর, গ্যাস মিশ্রিত লাভা যা আনুভূমিকভাবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে” ধাবিত হয় তা এখনো দেখা যায়নি, সিএনএন ফিলিপিন্সকে তিনি একথা বলেন।
ফিভোলক্স সতর্ক সংকেতের মাত্রা তিন থেকে বাড়িয়ে চার করা হয়েছে। এ ধরণের ঘটনায় সর্বোচ্চ সতর্ক সংকেত দেয়া হয় পাঁচ।
কর্তৃপক্ষ আরো সতর্ক করে বলেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সুনামির আশঙ্কা রয়েছে, যা উদগীরণের পর লাভা পানিতে পড়ার কারণে পানি স্থলভাগে চলে আসতে পারে এবং ঢেউ তৈরি করতে পারে।https://theagronews.com/ফিলিপিন্স-তাল
· আগ্নেয়গিরির লাভা

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়গিরির আরও দুটি মুখ খুলে গেছে। এতে আগ্নেয়গিরিটি আরও তীব্রভাবে লাভা উদগীরণ করছে।
আগ্নেয়গিরির এই লাভাই ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে লা পালমা দ্বীপ এলাকায়। কারণ এরইমধ্যে সেখানে মোট আটটি ৩ দশমিক শূণ্য পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করেছেন বিজ্ঞানীরা।
আগ্নেয়গিরির নতুন দুটি মুখের অবস্থান সমুদ্র থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে। যে কারণে সহজেই পাথর গলা জলন্ত লাল লাভা মিশে যাচ্ছে সমুদ্রে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন দুটি মুখের বিস্ফোরণের কারণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ হাজার মিটার পর্যন্ত এলাকা গ্যাস এবং ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
গেল ১৯ সেপ্টেম্বরে অগ্নুৎপাতের পর এই দীপপুঞ্জ থেকে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের সমূদ্র উপকূলের বাতাস পর্যবেক্ষণ করে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেছে। তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি হুমকির নয়।
তারপরেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এই আগ্নেয়গিরিটি এখন পর্যন্ত ৮০ ঘনমিটার গলিত শিলা নির্গত করেছে, যা ১৯৭১ সালের বিস্ফোরণের চেয়ে দ্বিগুন বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জের প্রায় ৭০৯ হেক্টর এখন এই আগ্নেয়গিরির লাভায় ক্ষতিগ্রস্ত।
সূত্র: গার্ডিয়ান/এসবি
দাবানলঃ পূর্বাভাষবিহীন এক আকস্মিক দূর্যোগ
দাবানল (ইংরেজি: wildfire) হচ্ছে বনভূমি বা গ্রামীণ এলাকার বনাঞ্চলে
সংঘটিত একটি অনিয়ন্ত্রিত আগুন।[১] উষ্ণ তাপক-শিখা ক্রমশ ওপরের দিকে উঠতে
থাকে আর পোড়াতে থাকে বন। এসব আগুন
নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ আগুন থামাবার জন্যে সহজে কোনো ব্ল্যাঙ্ক
করিডোর তৈরি করা যায় না ফলে যতক্ষণ খুশি আপন মনে জ্বলতে থাকে আগুন।
সাধারণত, যখন
কোনো আগুনের উৎস প্রচন্ড তাপমাত্রায় এবং যথেষ্ট পরিমাণে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে
দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন দাবানলের সুত্রপাত
ঘটে৷ গাছপালা থেকে থেকে ক্রমাগত পানি বাস্পীভূত হয়ে সৃষ্টি হয় পানির এই ঘাটতি৷
ঘাটতি পূরণ করা হয় মাটি বা বাতাসে বিদ্যমান জলীয় বাষ্প বা বৃষ্টির পানি শোষণ করে৷
কিন্তু অনেকদিন ধরে উত্তপ্ত ও শুষ্ক আবহাওয়া চলতে থাকলে গাছপালা পানির এই সমতা
রক্ষা করতে না পেরে শুষ্ক ও দাহ্য হয়ে ওঠে৷ যেসব অঞ্চলের আবহাওয়া এতটাই আর্দ্র যে
গাছপালা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য শুষ্ক ও
উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে, সেসব অঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
আমেরিকার বনাঞ্চলে বিভিন্ন উপায়ে আগুন লাগে বছরে প্রায় এক লক্ষ বার। যে কারণে পুড়ে যায় ২০ লক্ষ হেক্টর জমি। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই আগুন সামনে যা কিছু পায় পুড়িয়ে নিঃশেষ করে গাছপালা ঘরবাড়ি মানুষসহ। বজ্রপাতসহ এই আগুন লাগবার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ মাত্র পাঁচ ভাগের একভাগ। বাকী চারভাগের জন্য দায়ী মানুষ।
যেভাবেই হোক একবার আগুন লাগলে প্রকৃতি তাকে ইন্ধন যোগায় পাগলের মতো। ফায়ার স্টর্ম, আগুনে-সাইক্লোন, অগ্নি-টর্নেডোর রূপ নিয়ে দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালফোর্নিয়াতে সান্টা অ্যানা শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ অগ্নি স্ফূলিঙ্গকে মাইল মাইল দূরে অনায়াসে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। কেবল রাস্তার ওপারে নয়, নদীর ওপারেও আগুনকে বহন করে নিয়ে যেতে পারে এমন বায়ুপ্রবাহ।
https://www.dhakatimes24.com/2021/08/11/225579//যেভাবে-সৃষ্টি-হয়-দাবানলগ্নেয়গির/
পরিবেশ বিজ্ঞান
পরিবেশের সংজ্ঞা
জার্মান "Environ" শব্দ থেকে ইংরেজী Environment শব্দটির
বুৎপত্তি- যার বাংলা অর্থ পরিবেশ।
পরিবেশ বিজ্ঞানী বটকিন
ও কেলার (১৯৯৫) তাদের "Environmental Science" গ্রন্থে বলেন - জীব অর্থাৎ
উদ্ভিদ বা প্রানী তাদের জীবনচক্রের যে কোনো সময়ে যে সমস্ত জৈব এবং অজৈব কারণ গুলির
দ্বারা প্রভাবিত হয়, সেই কারণ গুলির সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।
►পরিবেশ বিপর্যয়ের
সূচনা ধরা হয়ে থাকে যেদিন থেকে ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের শুরু হয়েছিল। তবে মানুষের
মধ্যে আনুষ্ঠানিক পরিবেশ সচেতনা জেগেছিল ১৯৭০ সালে ওয়াশিংটনে “World Earth Day” (বিশ্ব ধরণী দিবস) উদযাপনের
মধ্য দিয়ে। তারও অআগে নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবেশ বিপর্যয় অআঁচ
করতে পেরে বলে উঠেছিলেনঃ দাও ফিরে অরণ্য লওহে নগর।
►মহাকাশ থেকে ১৯৬৯
অ্যাপোলো-১১ এর নভোচারিরা চন্দ্র থেকে যে পৃথিবীকে অপরূপ দেখেছিলেন সেই
পৃথিবীকেই ১৯৭২ পরিবেশ সচেতনার বাস্তবতা উপলদ্ধি করেছিলেন মহাকাশে জাপানী
নভোচারীরা বিবর্ণরূপ দেখে।
►পৃথিবীর পরিবেশ
বিপর্যয়ের পাশাপাশি আরেক বৈশ্বিক পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় যা পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টির
পূর্বেই মানুষ দিব্যি অনুভব উপলদ্ধি করেছিলেন সেটি হলো মানবিক বিপর্যয়। যার কারণে
দুঃখবোধ করে ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী বলেছিলেনঃ “We are living in a
dying culture” (Willium Sorokin)
তাই আমরা বলতে পারি যে
প্রকৃতি সৃষ্ট পরিবেশই হল প্রাকৃতিক পরিবেশ। অর্থাৎ প্রকৃতি সৃষ্ট জড় উপাদান ও
সজীব উপাদানের সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের
উপাদান সমূহ - প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠিত, প্রাকৃতিক
পরিবেশের উপাদান গুলিকে সাধারনত দুটি শ্রেনীতে ভাগ করা যায়, যথা - (A) সজীব উপাদান ও (B) জড়
উপাদান।
সজীব উপাদান কাকে বলে?
প্রাকৃতিক পরিবেশের
অন্তর্গত যে সব উপাদানের প্রান আছে যেমন - ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া
থেকে অতি বৃহৎ প্রানী, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও উদ্ভিদগোষ্ঠী সবই পরিবেশের সজীব উপাদান হিসাবে গন্য হয়।
পুষ্টিস্তর অনুযায়ী পরিবেশের সজীব উপাদান গুলিকে দুই ভাবে ভাগ করা যায় - (১)
স্বভোজী ও (২) পরভোজী।
স্বভোজী কাকে বলে?
সালোকসংশ্লেষ ও
রাসায়নিক সংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় যারা নিজেদের দেহে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করতে
সক্ষম অর্থাৎ যাদের খাদ্যের জন্য অন্য কোনো জীব প্রজাতির উপর নির্ভর করতে হয় না, তাদের স্বভোজী
বলে। যেমন - সবুজ উদ্ভিদ। এরা আবার দুধরনের হয় -
(১) আলোকজীবী বা ফোটোট্রপ ও (১) অনালোকজীবী বা কেমোট্রপ। যে সব স্বভোজী সূর্যের উপস্থিতিতে খাদ্য
উৎপাদন করে, তাদের ফোটোট্রপ বলে এবং যে সব স্বভোজী
সূর্যালোকের অনুপস্থিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে তাদের কেমোট্রম বলে।
কেমোট্রম জাতীয় স্বভোজীর উদাহরণ হল - ক্লস্ট্রিডিয়াম ব্যাকটেরিয়া।
পরভোজীঃ
পরবেশের সজীব উপাদানের
অন্তর্গত যে সব উপাদান নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না এবং যারা খাদ্যের
জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে স্বভোজী বা সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল, সেই সব
জীবগোষ্ঠীকে পরভোজী বলে। যেমন - সমস্ত প্রানীগোষ্ঠী ও কিছু পতঙ্গভুক উদ্ভিদ
গোষ্ঠী। পরভোজী জীবগোষ্ঠী প্রধানত তিন ধরণের হয় -
(a) মৃতজীবী (ছত্রাক), (b) পরজীবী (স্বর্নলতা,
শ্বেতচন্দন, কৃমি, উকুন) ও (c) জৈবযৌগজীবী (মানুষ, গরু, বাঘ)।
জড় উপাদানঃ
পরিবেশের যে সব উপাদান
উত্তেজনায় সাড়া দেয় না, এমন প্রানহীন অচেতন পদার্থ বা বস্তু জড় পদার্থের অন্তর্গত। পরিবেশের জড়
উপাদান গুলি হল - বিভিন্ন গ্যাস ( কার্বন ডাই অক্সাইড, অক্সিজেন,
নাইট্রোজেন, সালফার, ফসফরাস প্রভৃতি), মাটি, ভূপ্রকৃতি, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, শিলা, খনিজ,
নদী, সমুদ্র, হ্রদ
প্রভৃতি। পরিবেশের এই উপাদান গুলি তিনটি উৎস থেকে আসে, যথা
- শিলামন্ডল, বারিমন্ডল ও বায়ুমণ্ডল।
প্রাকৃতিক পরিবেশের
বৈশিষ্ট্য - প্রাকৃতিক পরিবেশের নানবিধ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, এগুলি নিচে
আলোচনা করা হল।
প্রাচীনত্ব -
প্রাকৃতিক পরিবেশের উৎপত্তি পৃথিবী সৃষ্টির সময়কাল থেকে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক
পরিবেশের উৎপত্তি একসঙ্গে না হলেও এর প্রাচীনত্ব নিয়ে কোন সংশয় নেই।
প্রকৃতি ও মনুষ্য
সৃষ্ট যে ঘটনা গুলো মানুষের প্রাণহানী ঘটায়, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কে
ব্যাহত করে, প্রাকৃতিক, সামাজিক,
সাংস্কৃতিক সম্পদের ক্ষতি করে সেই ঘটনা গুলোকে তাদের তীব্রতা,
ক্ষয় ক্ষতির মাত্রা অনুসারে দুটো শ্রেণীতে ভাগ করা হয়, যথা - দুর্যোগ ও বিপর্যয়।
👉 অস্বাভাবিক
পরিস্থিতি যখন হঠাৎ স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ পতন ঘটায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
👉 দুর্যোগের
প্রভাবে ব্যাপক আকারে প্রাণহানী, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক
সম্পদ ধ্বংস হওয়া কে বিপর্যয় বলে।
👉 দুর্যোগ
ক্ষুদ্র স্কেলে ঘটে থাকে।
👉 বিপর্যয়
বৃহৎ স্কেলে সংঘটিত হয়।
👉দুর্যোগের
উদাহরণ হল ধ্বস, মাঝারি তীব্রতার ভূমিকম্প, খরা, শিলাবৃষ্টি প্রভৃতি।
👉 প্রবল
গতিবেগ সম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়, প্রবল তীব্রতার ভূমিকম্প,
পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ প্রভৃতি বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।
একই জায়গায় একই সাথে
বহু প্রজাতির বিভিন্ন সংখ্যক গাছের সমাবেশ ঘটলে তাকে অরণ্য বলে। তবে
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার
মত অনুসারে সেই সমস্ত স্বাভাবিক উদ্ভিদের সমাবেশকেই অরণ্য নামে অভিহিত করা হয়, যা স্থানীয়
জলবায়ু এবং তার বণ্টনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, জীবজন্তুকে
আশ্রয় দেয় ও প্রাকৃতিক বাসস্থান গড়ে তোলে এবং কাঠ উৎপাদনে সক্ষম। এছাড়া প্রতি হেক্টর
অন্তত ০.০৫ হেক্টর জমির উপর এই ধরনের গাছপালার সমাবেশ থাকলে, তবেই তাকে বনভূমি বলে। অরণ্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের সাহায্য করে থাকে। অরন্যের প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষ উপকারিতা গুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।
প্রত্যক্ষ গুরুত্ব
১) জ্বালানি কাঠ -
অর্ণ থেকে প্রাপ্ত শক্ত ও নরম কাঠ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি রূপে ব্যবহৃত
হয়। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট কাঠের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগই জ্বালানি রূপে
ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া
মহাদেশে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার সবথেকে বেশি।
২) শিল্পের
কাঁচামাল - দেশলাই উৎপাদন, প্লাইউড নির্মাণ, আসবাসপত্র নির্মাণ, জাহাজ ও রেলগাড়ি সহ
বিভিন্ন যানবাহনের অংশবিশেষ নির্মাণ, কাগজের মন্ড
প্রস্তুতির কাঁচামাল, রেয়ন প্রস্তুতির কাঁচামাল, কাঠের বোর্ড উৎপাদনের নরম ও শক্ত কাঠ ব্যবহার হয়। এছাড়া ঘরবাড়ি
নির্মাণেও কাঠ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩) ভেষজ দ্রব্য -
অরণ্য থেকে সর্পগন্ধা, অনন্তমূল, কুথ, সিঙ্কোনা
প্রভৃতি পাওয়া যায় এবং ওষুধ তৈরির কাজে লাগে।
৪) উপজাত বনজ
দ্রব্য - বনভূমি থেকে লাক্ষা, ধুনা, রজন, গদ, হরিতকী,
দারচিনি, এলাচ, কালো জিরে, বেত, ঘাস,
তারপিন তেল, রাবার প্রভৃতি বনজদ্রব্য
সংগ্রহ করা হয়।
৫) পশুপালন -
তৃণভূমি অঞ্চলে গবাদিপশু প্রতিপালন করা হয় ও পশুপালন শিল্প গড়ে ওঠে। যেমন
অস্ট্রেলিয়া ডাউনস, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি
নিউজিল্যান্ডের তোষক প্রভৃতি তৃণভূমি গুলি পশুচারণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে
থাকে।
৬) পর্যটন শিল্প -
বনভূমি অসংখ্য পশুপাখির আবাসস্থল। পশুপাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণ এ
পৃথিবীর সব বনভূমিতে পর্যটকেরা বেড়াতে যান। যেমন - আফ্রিকার সেরেঙ্গেটি, মাসাইমারা প্রভৃতি অরণ্যে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক প্রতিবছর বেড়াতে
আসেন।
পরোক্ষ উপকারিতা বা
গুরুত্ব
১) জলবায়ু
নিয়ন্ত্রণ - অরণ্য জলবায়ুর উপর প্রভাব বিস্তার করে। গাছের পাতা থেকে বাষ্প মোচন
প্রক্রিয়ায় নির্গত জল জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর ফলে বনভূমির বায়ু
আর্দ্র হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২) পরিবেশ দূষণ -
অরণ্য পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখে। গাছ বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং
বায়ুতে অক্সিজেনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩) মৃত্তিকা ক্ষয়
নিবারণ - বনভূমি থাকলে মৃত্তিকার উপরে স্তরটি বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে যায় না
অথবা ঝরের সময় শুকনো ধূলিকণা একস্থান থেকে অন্যস্থানে অপসারিত হয় না। গাছের শিকর
মৃত্তিকার কণাগুলি কে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ রেখে মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করে। পার্বত্য
অঞ্চলে ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় সেখানে বনভূমি থাকা একান্ত প্রয়োজন।
৪) মরুভূমির
প্রসার রোধ - বনভূমি মরুভূমির বিস্তার রোধ করে। মরমের প্রান্তদেশে অরণ্য বলয়
সৃষ্টি করে বাড়ি কনায় বিস্তার প্রতিহত করা যায়। ভারতের ধর্মের প্রসার রোধ করার
উদ্দেশ্যে মরুভূমির প্রান্তদেশে অরণ্য বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।
৫) মৃত্তিকার
উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি - গাছের ডালপালা, পাতা, শিকড় ইত্যাদি পচে জৈব পদার্থ উৎপন্ন হয়। এই জৈবপদার্থ সংযোজিত হয়ে
মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৬) বন্যার প্রভাব
হ্রাস - বৃষ্টির জলের সঙ্গে প্রচুর পলি বাহিত হয়ে করে নদীতে গিয়ে জমা হয় ও নদী
খাতের গভীরতা হ্রাস করে। এর ফলে বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বন ভূমি থাকলে বৃষ্টির
জলের সঙ্গে বাহিত এই পলির পরিমাণ হ্রাস পায় এবং বন্যার জল ভূগর্ভে অনেক বেশি
পরিমাণে প্রবেশ করে বন্যার প্রকোপ কমায়।
৭) ঝড়ের গতিবেগ
নিয়ন্ত্রণ - অরণ্য বিধ্বংসী ঝড়ের প্রকোপ থেকে জীবন ও সম্পত্তি হানি রোধ করে।
৮) জাতীয় আয়ের
উৎস - বনজ সম্পদের প্রাচুর্য দেশের জাতীয়
আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। কানাডা, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া, মায়ানমার প্রভৃতি দেশের
জাতীয় আয়ের একটি প্রধান উৎস হলো বনজ সম্পদ।
৯) জীব বৈচিত্র
সংরক্ষণ - গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ
প্রভৃতি জীব বৈচিত্রের ধারক ও বাহক হল অরণ্য। আগামী প্রজন্মের জন্য জীব বৈচিত্রের
বিশেষভাবে প্রয়োজন।
(তথ্যসূত্রঃ i) https://www.bhugolhelp.com/2022/02/direct-and-indirect-benifits-of-forest.html
ii) https://www.bhugolhelp.com/2021/01/environment.html
বৈশ্বিক উষ্ঞায়নে বৈশ্বিক দায়িত্ব-কর্তব্যঃ পরিপ্রেক্ষিত
জলবায়ুর বিপর্যয়
স্কটল্যান্ডের
গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৬) ধনী রাষ্ট্র ও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এখন
কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হাজার হাজার কোটি ডলারের তহবিল কীভাবে
গড়া যায় সে আলোচনায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে বিল গেটসের
মতো বিশ্বের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তিত্বদের সম্মেলনে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ
জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ) অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের (২০২১)
অক্টোবরে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ঞতা বৃদ্ধি ২
ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে (বর্তমানে তা কমিয়ে দেড় ডিগ্রি বলা হচ্ছে) সীমিত রাখতে না
পালে জলবায়ুর বিপর্যয়কর ধারা অব্যাহত থাকার আশংকা রয়েছে। অবশ্য, পরিবেশ আইন যথাযথ
মেনে চলা সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থা বৈশ্বিক উষ্ঞতা ১ দশমিক ৮
সেলসিয়াসে নেমে আসার প্রত্যাশা করছে।
আমেরিকার এক প্রান্তে
প্রচন্ড ঝড়-তুফান, বন্যা, টর্নেডো, হারিকেন আরেক প্রান্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ
দাবানল, জার্মানীসহ ইউরোপের বিস্তৃর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা, জাপানের সুনামি,
অগ্নুৎপাত, দক্ষিণ আমেরিকান দেশ ব্রাজিলের “পৃথিবীর ফুসফুস” খ্যাত আমাজান রেইন ফরেস্ট যা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান মোট
অক্সিজেনের ২০% সরবরাহকারী সেই আমাজানের এক বৃহৎ অংশ বিগত ২০১৯ সালের
আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ব্যাপী সৃষ্ট দাবানলে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া-এসবই গ্লোবাল
ক্লাইমেট চেইন্জের বড় ধরণের আলামত। উল্লেখ্য, আমাজান, তুরস্ক, ক্যালিফোর্নিয়াসহ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বনান্চলে প্রায়শঃ সংঘটিত দাবানলের জন্য পরিবেশ বিজ্ঞানীরা
প্রধানতঃ ২টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। ১. মানব সৃষ্ট ২. প্রাকৃতিক।
১. মানব সৃষ্ট কারণঃ ক) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ইটের ভাটায় ব্যাপকহারে
কয়লা, পেট্রল, ডিজেলসহ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো খ) স্থান সংকুলান করে বসতি
স্থাপনের জন্য বনের গাছপালায় ব্যাপকহারে আগুন ধরানোর ফলে প্রবল বাতাসের দরুন তা
বনান্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক হারে পরিবেশ দূষণ ঘটে। উল্লেখ্য, মানুষের
কর্মকান্ডের ফলে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম এর উপর কিরূপ প্রভাব রয়েছে সে ব্যাপারে এক
গবেষণায় জানা যায় জাতিসংঘের Intergovernmental Science Policy Platform on Bio-dyversity and Ecosystem
Services-এ। এতে বলা হয়, পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ জায়গা ইতিমধ্যে
মানুষ পরিবর্তন করে ফেলেছে যার প্রভাব জীববৈচিত্র্যের উপর পড়ছে। এই রিপোর্টটি
তৈরি করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা এবং সরকারী রিপোর্টের উপর
ভিত্তি করে। ১৩২টি দেশের সরকারী প্রতিনিধিরা এই রিপোর্ট অনুমোদনের জন্য প্যারিসে
বৈঠকে বসেন। রিপোর্টে অআশংকা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বর্তমানে যেভাবে সবুজ সারের
পরিবর্তে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে তাতে গ্রীণ হাউজ
অ্যাফেক্টের ফলে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. প্রাকৃতিক কারণঃ বিশেষ করে গ্রীষ্মের
প্রচন্ড তাপের সাথে বাতাস এর সংযোগে গাছে গাছে ঘর্ষনের দরুন বন বনান্তরে আগুন ধরে
যায়।
মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস
স্থান (Space) ও সময় (Time) এবং এদের অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয় অর্থাৎ পৃথিবী এবং অন্যান্য সমস্ত গ্রহ , সূর্য -তারা -নক্ষত্র , জ্যোতির্বলয় স্থান ও এদের অন্তর্বর্তীস্থ অদৃশ্যমান গুপ্ত শক্তি (Dark Energy), গুপ্ত পদার্থ (Dark Matter), ল্যামডা-সিডিএম নকশা ও কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল, শূণ্যস্থান (মহাকাশ)সহ দৃশ্যমান পদার্থ ও শক্তি মিলে যে জগৎ তাকেই বলা হচ্ছে মহাবিশ্ব (UNIVERSE) ।
উল্লেখ্য,
আমাদের পর্যবেক্ষণ-লব্ধ মহাবিশ্বের ব্যাস প্রায় ২৮ বিলিয়ন Parsec (৯১ বিলিয়ন Light-year)। মহাবিশ্বের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিষয়কে বিশ্বতত্ত্ব (Cosmology) বলা হয়। দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সুদূরতম প্রান্তের পর্যবেক্ষণ ও
বিভিন্ন তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রক্রিয়াই যেন তার
সৃষ্টি শুরু থেকেই প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, কঠোর সুশৃঙ্খল, তীক্ষ্ণ বিন্যস্ত, অভিন্ন
নিয়ম-নীতিনির্ধারিত তত্ত্ব এবং সূত্রে গভীরভাবে আবদ্ধ-যার উৎসমূল বা উৎসশক্তিকে
আধুনিক পরিভাষায় বলা হয় ‘প্রকৃত’ (NATURE)।
সম্প্রতি
আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্বে আমাদের এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের পাশাপাশি
আরো অনেক মহাবিশ্ব থাকার অর্থাৎ অনন্ত মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা অবশ্যম্ভাবী বলে ধারণা করা হচ্ছে। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)।
মহা
বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস
প্রাচীন
কালে মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য নানাবিধ বিশ্বতত্ত্বের আশ্রয় নেওয়া হত।
পুরাতন গ্রিক দার্শনিকরাই প্রথম এই ধরণের তত্ত্বে গাণিতিক মডেলের সাহায্য নেন এবং পৃথিবী কেন্দ্রিক একটি মহাবিশ্বের ধারণা প্রণয়ন করেন। তাঁদের মডেলে পৃথিবীই মহাবিশ্বের
কেন্দ্রে অবস্থিত। (সূত্রঃ প্রাগুক্ত)।
নিউটনের গতি ও মহাকর্ষ সংক্রান্ত গভীর ধারণা
পর্যবেক্ষণের সাথে সৌরকেন্দ্রিক স্থির জগতের সামঞ্জস্য নির্ধারণ করে যা অআলবার্ট
অআইনস্টাইন তাঁর স্পেশাল রিলিটিভিটি থিওরীতে অনুসমর্থন ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে এডউইন
হাবল কর্তৃক শক্তিশালী টেলিস্কোপ আবিস্কারের পর জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করেন সূর্যের
মতই কোটি কোটি তারা দিয়ে এক একটি গ্যালাক্সি গঠিত- যা ক্রমেই সম্প্রসারণমান।
হাবলীয় তাত্ত্বিক মহাকাশ গবেষণায় জানা যায় যে, কোটি কোটি
গ্যালাক্সিদের মধ্যে ছায়াপথের মতই কোটি কোটি তারাদের অবস্থান। সেই সমস্ত
গ্যালাক্সি থেকে আগত আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণে বোঝা যায় যে, গ্যালাক্সিগুলি আমাদের
থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ গ্যালাক্সির মধ্যে
স্থানের প্রসারণ হচ্ছে এবং প্রতিটি গ্যালাক্সিই অন্য গ্যালাক্সি থেকে দূরে সরছে। কয়েক
শত বছর ব্যাপী মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, সমগ্র মহাবিশ্ব মানে শুধুমাত্র
আমাদের এই ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে সীমাবদ্ধ। ১৯২০র দশকে এডউইন হাবল কর্তৃক উন্নত দুরবীন
আবিস্কারের কল্যাণে জ্যোতির্বিদরা আবিষ্কার করলেন ছায়াপথের বাইরে অন্য
গ্যালাক্সিদের অস্তিত্ব রয়েছে। (সূত্রঃ
প্রাগুক্ত)।
মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ইতিহাস
বিজ্ঞানীদের
ধারণা হল সুদূর অতীতে সমস্ত গ্যালাক্সিগুলি বা তাদের অন্তর্নিহিত সমস্ত পদার্থই
একসাথে খুব ঘন অবস্থায় ছিল এবং কোন মহা বিস্ফোরণের ফলে বস্তুসমূহ একে অপর থেকে
দূরে সরে যাচ্ছে। এই বিস্ফোরণের নাম দেওয়া হল বিগ ব্যাং। ১৯৬০এর দশকে বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং-এ সৃষ্ট উষ্ণ বিকিরণের শীতল অবশেষের
সন্ধান পেলেন। এই তরঙ্গ বিগ ব্যাং ঘটনা ঘটার প্রায়
৪০০,০০০ বা (চার লক্ষ বছর) পরে, বস্তু ঘনত্বের হ্রাসের পর, মুক্ত হয়েছিল।
তরঙ্গ আকারে দৃশ্যমান এই মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ মহাবিশ্বের প্রতিটি জায়গাতেই পাওয়া যা
মহাবিশ্বের শেষ প্রান্ত থেকে
আসছে মর্মে পদার্থবিদদের প্রত্যয়-বিশ্বাস।
যে প্রক্রিয়ায় মহাবিশ্বের সূচনা বা শুরু
বিগ
ব্যাং মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বের শুরু হয়েছিল একটা ভীষণ ঘন ও উষ্ণ দশা থেকে। এই
সময় বা অবস্থাকে প্ল্যাঙ্ক তত্ত্ব বলে অভিহিত করা যায়। সেই সময় থেকে মহাবিশ্বের
সম্প্রসারণ হয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা শুরুর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই (১০−-৩২ সেকেন্ডের মধ্যেই) মহাবিশ্বের অতি স্ফিতী (inflation) হয় যা কিনা দেশ বা স্থানের প্রতিটি অংশে প্রায় একই তাপমাত্রা স্থাপন
করতে সাহায্য করে। এই সময়ে সুসম ঘনত্বের মাঝে
হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যত গ্যালাক্সি সৃষ্টির বীজ তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে গ্যালাক্সি
সৃষ্টির পেছনে কৃষ্ণ বা অন্ধকার বস্তুর (Dark Matter) ২২% বিশেষ ভূমিকা আছে। অন্যদিকে
মহাবিশ্বের বর্তমান প্রসারণের মাত্রার ত্বরণের জন্য কৃষ্ণ (অন্ধকার) বা অদৃশ্যমান গুপ্ত শক্তি (Dark Energy) নামক বিশেষ প্রাকৃতিক শক্তি বা বলের ৭৪%ভূমিকাকে
উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। বর্তমান মহাজাগতিক স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্বে মোট বস্তুর পরিমাণ ২৬%। মাত্র ৪% বস্তু আমাদের চেনা-জানা বস্তুর
ভূমিকা রয়েছে মহাবিশ্বের অবকাঠামাতে। কৃষ্ণ বস্তুর অস্তিত্ব পরোক্ষভাবে
গ্যালাক্সির ঘূর্ণন, গ্যালাক্সিপুঞ্জ, মহাকর্ষীয় লেন্সিং, ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ
মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহাবিশ্বের
মূল উপাদান মূলতঃ কৃষ্ণ বা অন্ধকার শক্তি। ধরা হচ্ছে যে, এই
শক্তি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের পিছনে মূল ভূমিকা পালন
করছে। কিন্তু এই বস্তুর মধ্যে কৃষ্ণ বস্তু ও ৪% দৃশ্যমান বস্তু। তাত্ত্বিকভাবে কৃষ্ণ বস্তু মহাকর্ষ ছাড়া অন্য বল
(ফোর্স)গুলোর সাথে (তড়িৎ-চুম্বকীয়, সবল ও দুর্বল)
খুব অল্পই বিক্রিয়া করে সেইজন্য ডিটেকটর দিয়ে অদৃশ্যমান এই গুপ্ত শক্তি (Dark Energy)-কে দেখা মুশকিল। এই মডেলে
মহাবিশ্বের বর্তমান বয়স ১৩.৭৫ বিলিয়ন বা ১,৩৭৫ কোটি বছর। এই মহাবিশ্বের
দৃশ্যমান অংশের "এই মুহূর্তের" ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোক বছর।
যেহেতু মহাবিশ্বের প্রতিটি বিন্দু প্রতিটি বিন্দু থেকে প্রতি মুহূর্তে আরো দ্রুত
সরছে, মহাবিশ্বের ব্যাস ১৩.৭৫ x ২ = ২৭.৫০ বিলিয়ন আলোক বছরের চাইতে বেশী।
বর্তমান মহাবিশ্বের বস্তুগত উপাদান সমূহ
পৃথিবীকে
কেন্দ্র করে মহাবিশ্বকে যদি একটা গোলক কল্পনা করা হয় তবে তার ব্যাসার্ধ হবে
প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোক বর্ষ। জ্যোতির্বিদরা মনে করছেন দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায়
১০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে। এই গ্যালাক্সিরা খুব ছোটও হতে পারে, যেমন মাত্র ১০ মিলিয়ন (বা ১ কোটি) তারা সম্বলিত বামন গ্যালাক্সি অথবা
খুব বড়ও হতে পারে, যেমনঃ দৈত্যাকার
গ্যালাক্সিগুলিতে ১০০০ বিলিয়ন তারা থাকতে পারে (আমাদের গ্যালাক্সি ছায়াপথের ১০
গুণ বেশী)। অআর এই গ্যালাক্সিগুলির উপাদানের ২২% কৃষ্ঞবস্তু, ৭৪% অদৃশ্য শক্তি এবং
বাকী ৪% আমাদের জানা শুনা বস্তু পদার্থ দ্বারা গঠিত।
মহাবিশ্বে বিদ্যমান ৪% আমাদের জানা শুনা
বস্তু-পদার্থ পরিচিতি
বলা বাহুল্য, মহাবিশ্বের সংঙ্গে আমাদের পরিচয় দৃশ্যমান বস্তুর আঙ্গিকে। পরমাণু ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ পদার্থ দিয়ে এই দৃশ্যমান বিশ্ব গঠিত। পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে গঠিত। প্রোটন ও নিউট্রনকে ব্যারিয়ন বলা হয়। ব্যারিয়ন তিনটি কোয়ার্ক কণা দিয়ে গঠিত। অন্যদিকে দুটি কোয়ার্ক কণা দিয়ে গঠিত কণাদের মেজন বলা হয়। অন্যদিকে লেপটন কণা কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত নয়। সবেচেয়ে পরিচিত লেপটন কণা হচ্ছে ইলেকট্রন। প্রমিত মডেল বা স্ট্যান্ডার্ড মডেল কোয়ার্ক, লেপটন ও বিভিন্ন বলের মিথষ্ক্রিয়ায় সাহায্যকারী কণাসমূহ (যেমন ফোটন, বোজন ও গ্লুয়োন) দিয়ে তৈরি। বর্তমানের কণা পদার্থবিদ্যাকে ব্যাখ্যা করতে এই মডেল সফল হয়েছে।
মহাবিশ্বের পারমাণবিক
অবস্থান
মহাবিশ্বের
সংঙ্গে আমাদের পরিচয় মূলত: স্থূল এবং সুক্ষ্ণ তথা দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য বস্তুর
আঙ্গিকে। বস্ত্তত: পরমাণু
ও পরমাণু দ্বারা গঠিত যৌগ পদার্থ দিয়ে এই মহাবিশ্ব গঠিত। আবার এই
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর অভ্যন্তরে ইলেকট্রন, প্রোটন ইত্যাদি মিলে
ভিন্ন এক জগত মহাজগত রয়েছে।
উনিশ
শতকের প্রথম দিকে জন ডাল্টন পরমাণুবাদকে বেশ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। এ পরমাণুবাদের একটি স্বীকার্য ছিল, "সকল পদার্থ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত।"
উল্লেখ্য, গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস
ঈসাব্দপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম ‘কণা’ (atom)নিয়ে
মতবাদ পোষণ করেন। ‘অ্যাটোমাস’ (atomas) শব্দ থেকে এটম (atom) শব্দটির বুৎপত্তি যার
অর্থ অবিভাজ্য। অ্যারিষ্টটলের মতে, পদার্থসমূহ নিরবচ্ছিন্ন (continuous)একে যতই ভাঙ্গা হোক না কেন, পদার্থের কণাগুলো
ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে। বিজ্ঞানী রাদার ফোর্ড তার পরীক্ষালব্ধ ফলাফল
থেকে বলেন যে, পরমাণু হলো ধনাত্মক আধান ও ভর একটি ক্ষুদ্র
জায়গায় আবদ্ধ’। তিনি এর নাম দেন ‘নিউক্লিয়াস’। প্রোটন ও ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত হয় পরমাণু কেন্দ্র-এই
কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়ার্স। নিউক্লিয়ার্স এর চার পাশে ঘুরতে থাকে পরমাণুর
ইলেকট্রন।
ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু (subatomic)
মৌলিক কণা (elementary particle) যা
একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। ইলেকট্রন ফার্মিয়ন এবং লেপ্টন শ্রেনীভুক্ত। এটি
প্রধানত তড়িৎ-চুম্বকীয় মিথষ্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। পারমাণবিক কেন্দ্রের
(নিউক্লিয়াসের) সঙ্গে একত্র হয়ে ইলেকট্রন পরমাণু তৈরি করে এবং এর রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। ইলেক্ট্রনের ভর 9.109×10^−31 kg এবং 5.489×10^−4 amu। আইনস্টাইনের ভর-শক্তি সমতা নীতির ভিত্তিতে, এই ভরটি 0.511 MeV শক্তি বিশিষ্ট।
"ইলেকট্রন লেপ্টন নামক অধঃপারমাণবিক
কণার শ্রেণীতে অবস্থিত। এদেরকে মৌল কণিকা হিসেবে ধরা হয়, অর্থাৎ এদেরকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা সম্ভব নয়। অন্যান্য কণার মত
ইলেকট্রনও তরঙ্গ হিসেবে আচরণ করতে পারে। এই আচরণটিকে তরঙ্গ-কণা দ্বৈত আচরণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পদার্থবিজ্ঞানে এর অপর নাম কমপ্লিমেন্টারিটি"(উইকিপিডিয়া)।
বিজ্ঞানী জি. জনস্টোন স্টোনি
সর্বপ্রথম তড়িৎ রসায়নে ইলেকট্রনকে আধানের একটি একক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং
তিনিই ১৮৯১ সালে ইলেকট্রন নামকরণ করেন ।
প্রোটন
প্রোটন পরমাণুর একটি মৌলিক কণা। এই কণাটি একটি ধনাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে। এর
প্রতীক =p+। এর ভর- 1.672621777(74)×10−27 kg।
এই কোয়ার্কগুলো
গ্লুয়োন শক্তি দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এর ব্যাস ১.৬-১.৭ এফএম।
পরমাণুর কেন্দ্রে এক বা একাধিক প্রোটন থাকে।
একটি পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ওই পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।
যেমন সোডিয়ামের পরমাণুতে প্রোটন থাকে ১১টি। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১।
একটি পরমাণুতে প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে বলা
হয় পারমাণবিক ভর সংখ্যা
(atomic mass number)। যেমন—কার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকে। তাই এর পারমাণবিক ভর সংখ্যা
হবে ১২।যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই থাকে কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়,
তখন ওই পরমাণুগুলো পরস্পরের আইসোটোপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন— কার্বনের পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৬টি থাকে, তাদের পরিচয় হয় কার্বন-১২ নামে।
কিন্তু যখন কোনো পরমাণুতে প্রোটন ৬টি এবং নিউট্রন ৮টি থাকে, তখন তা কার্বন-১৪ নামে পরিচিত হয়। এই বিচারে কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪ পরস্পরের আইসোটোপ হবে।
১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে রাদার্ডফোর্ড (Ernest Rutherford) এর নামকরণ করেন।
সূত্র:
বাংলা একাডেমী বিজ্ঞান বিশ্বকোষ। ১-৫ খণ্ড।
http://en.wikipedia.org/wiki/Proton
কসমোলোজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল
আমাদের
চারপাশে যত বস্তু আছে
সেগুলো সবই বিভিন্ন প্রকার অণু-পরমাণু
দ্বারা গঠিত। এক বা একাধিক
পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু
গঠন করে, আর পরমাণু গঠিত হয় ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে। পরমাণুর
কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস, সেখানে সবগুলো প্রোটন ও নিউট্রন কেন্দ্রীভূত অবস্থায়
থাকে, আর ইলেকট্রনগুলো এই নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরতে
থাকে। কিন্তু এই ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন আসলে কি? আর এগুলো কোন্
বল(শক্তি-ফোর্স) দ্বারা এবং কিভাবে একত্রিত অবস্থায় থাকে? এই
প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করতে পদার্থবিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছেন, যেগুলোর
মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হল “কসমোলোজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল” তত্ত্ব।
স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্বটি
মূলত সত্তুরের দশকে পূর্ণতা পায়। এ মডেল অনুসারে কিছু মৌলিক কণিকা পদার্থ গঠন করে, যাদের ১. ফার্মিয়ন (ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মির নামানুসারে)
বলে এবং কিছু কণিকা বলের বাহক হিসেবে ক্রিয়া করে, যাদের
২. বোসন (ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী
সত্যেন্দ্রনাথ বোসের নামানুসারে) বলে।
মৌলিক কণিকাগুলোর কিছু বিশেষ
ধর্ম থাকে যেগুলো দ্বারা এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, যেমনঃ ১. ভর ২. বৈদ্যুতিক আধান, ৩. স্পিন ইত্যাদি।
বোসন কণাঃ বোসনের স্পিন থাকে শূণ্য অথবা পূর্ণ সংখ্যা (০,১,২.....)। বোসন বর্জন নীতি অনুসরন না করায় সহযেই একে অপরকে ভেদ করতে
পারে (যেমন – আলো এবং অন্যান্য তড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ)। বোসন বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান
অনুসরন করে।
বোসন মোট
২ প্রকার – গেজ বোসন ও হিগ্স বোসন। গেজ বোসন বলের বাহক হিসেবে
ক্রিয়া করে। এর স্পিন ১। মৌলিক বল চার প্রকার - তড়িতচুম্বকীয়
বল, সবল নিউক্লীয় বল, দুর্বল
নিউক্লীয় বল এবং মাধ্যাকর্ষন বল। গেজ বোসন প্রথম তিনটির সাথে সম্পর্কিত।
ফার্মিয়নঃ ফার্মিয়নের স্পিন থাকে
পূর্ণ সংখ্যার অর্ধেক (১/২,৩/২,৫/২.....)। ফার্মিয়ন ফার্মি-ডিরাক
পরিসংখ্যান এবং পাউলি-র বর্জন নীতি মেনে চলে। এ নীতি অনুসারে একাধিক ফার্মিয়ন একই
সময়ে একই স্থানে অবস্থান করতে পারে না, ফলে বাস্তবেও আমরা
দেখি এক বস্তু অন্য বস্তুকে ভেদ করে যেতে পারে না। ফার্মিয়ন মোট ১২ রকমের হয়,
এদের প্রত্যেককে এক একটি স্বাদবিহীন ফ্লেভার [Flavor] বলে। ১২টি ফার্মিয়নের আবার অনুরূপ ১২টি প্রতিকণিকা [Antiparticle] আছে
(যেমন ইলেক্ট্রনের প্রতিকণিকা পজিট্রন)। ফার্মিয়নের মধ্যে দুইটা ভাগ আছে, ১. কোয়ার্ক এবং ২. লেপ্টন।
ফার্মিয়নের আরেকটি ভাগ হল
লেপ্টন। এরা একা থাকতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত লেপ্টন হল ইলেকট্রন e। এছাড়াও মিউওন μ, টাউওন τ এবং এ তিনটির অনুরূপ নিউট্রিনো - ইলেকট্রন নিউট্রিনো νe, মিউওন নিউট্রিনো νμ, টাউওন নিউট্রিনো ντ লেপ্টনের অন্তর্ভুক্ত।
১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি
জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I,
II এবং III.
১২টি ফার্মিয়নকে আবার ৩টি
জেনারেশনে ভাগ করা হয় – I,
II এবং III.
জেনারেশন I-এর চেয়ে জেনারেশন II-এর কণিকাগুলোর ভর বেশি, আবার জেনারেশন II-এর চেয়ে জেনারেশন III-এর কণিকাগুলোর ভর আরও বেশি। প্রত্যেক জেনারেশনের ভেতরে আবার কোয়ার্কের ভর লেপ্টনের চেয়ে বেশি। লেপ্টনের মধ্যে নিউট্রিনোগুলোর ভর সবচেয়ে কম, প্রায় নেই বললেই চলে। প্রত্যেক জেনারেশনের প্রথম কোয়ার্কের বৈদ্যুতিক আধান +২/৩, দ্বিতীয় কোয়ার্কের আধান -১/৩, ভারী লেপ্টনের আধান -১ আর নিউট্রিনোর কোন আধান নেই। প্রথম জেনারেশনের আধানযুক্ত কণিকাগুলো দিয়েই মূলত আমাদের চারপাশের জগত গঠিত। অন্যান্য জেনারেশনের আধানযুক্ত ভারী কণিকাগুলো শুধু অতি উচ্চশক্তিসম্পন্ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় এবং অতিদ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে হালকা স্থিত কণিকায় রুপান্তরিত হয়। আর আধানবিহীন নিউট্রিনোগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং অন্যান্য কণিকার সাথে তেমন কোন প্রতিক্রিয়াই দেখায় না।
এই ধর্মের জন্য সাম্প্রতিক কালের
আলোর-চেয়ে-দ্রুতগতির-কণার-অস্তিত্ব-নিয়ে-প্রশ্ন-তোলা আলোচিত অপেরা এক্সপেরিমেন্টে
মিউওন নিউট্রিনো ব্যবহার করা হয়েছিল।
কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED)
তড়িৎচুম্বকীয় বল ক্রিয়া করে
বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণিকাগুলোর মধ্যে। এর পাল্লা অসীম, শক্তি সবল নিউক্লীয়
বলের চেয়ে কম কিন্তু দুর্বল নিউক্লীয় বলের চেয়ে বেশি। এর বাহক হল ফোটন γ, যার নিজের কোন ভর বা আধান নেই। এ সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডিনামিক্স (QED) বলে।
সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া
সবল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে
ভর, বৈদ্যুতিক
আধান বা স্পিন সদৃশ মৌলিক কণিকার বিশেষ ধর্ম কালারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ কোয়ার্কসমূহ
ও গ্লুওন g-এর মধ্যে।
প্রতিটি কোয়ার্ক ৩ কালারের প্রতীকী
রঙ হচ্ছে লাল, সবুজ ও নীল। ফ্লেভারের যেমন স্বাদ-গন্ধ নেই এই কালারের নামের সাথে
দৃশ্যমান রঙের কোন সম্পর্ক নেই। কোয়ার্ক কখনও একা থাকতে পারে না, সবসময় দুইটি (মেসন)
বা তিনটির (ব্যারিয়ন) গ্রুপ গঠন করে। লাল, সবুজ ও নীল আলো
মিলে যেমন রঙবিহীন বা সাদা আলো গঠন করে, তেমনি কোয়ার্কওএমনভাবে
গ্রুপ গঠন করে যেন সবগুলো মিলে সাদা বা রঙবিহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই ব্যারিয়নে
সবসময় থাকে লাল, সবুজ ও নীল কোয়ার্ক এবং মেসনে থাকে যে
কোন একটি কালার ও তার অ্যান্টিকালার (অ্যান্টিকোয়ার্ক থেকে)।
সবল নিউক্লীয় বলের পাল্লা
খুবই ক্ষুদ্র, মাত্র ১০-১৫ মিটারের মত। এ বলের কারণেই কোয়ার্ক প্রোটন বা নিউট্রনের মত হ্যাড্রন
গঠন করে। এ ক্ষেত্রে বলের বাহক হল গ্লুওন, এটি আঁঠার (glue)
মত কাজ করে বলে এর নাম দেয়া হয়েছে gluon। ফোটনের মত গ্লুওনেরও নিজের
কোন ভর বা আধান নেই। গ্লুওন ৮ প্রকার, তবে সেগুলো কোয়ার্কের চেয়ে অনেক জটিল, ৮টি কালার-অ্যান্টিকালারের জোড় হিসেবে থাকে। নিজস্ব পাল্লার ভেতর সবল
নিউক্লীয় বলের শক্তি অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে অনেক বেশি, প্রোটন ও নিউট্রন গঠনের পরও অতিরিক্ত থাকা বল তড়িতচুম্বকীয় বলকে পরাহত
করে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে। এ অতিরিক্ত সবল নিউক্লীয় বলের বাহক হল মেসন। সবল
নিউক্লীয় বলের আরেকটি স্পেশাল বৈশিষ্ট্য হল এর পাল্লার মধ্যে দুইটি কণিকার দুরত্ব
যত বাড়ে, এদের মধ্যকার বল ততই বৃদ্ধি পায়, যা তড়িতচুম্বকীয় বল ও মাধ্যাকর্ষন বলের ঠিক বিপরীত। তাই কোয়ার্ককে কখনও
আলাদা করা যায় না। কারন দুইটি কোয়ার্ককে আলাদা করতে চাইলে প্রচুর পরিমাণ শক্তি
সরবরাহ করতে হবে, আর এদের মধ্যে দুরত্ব যত বাড়বে শক্তির
পরিমাণও তত বাড়াতে হবে, ফলে একসময় শক্তির পরিমাণ এতই
বাড়বে যে কোয়ার্কদুটি আলাদা হয়ে ঐ শক্তি থেকে অ্যান্টিকোয়ার্ক উৎপন্ন করে আবার
নতুন করে কোয়ার্ক-অ্যান্টিকোয়ার্ক জোড় গঠন করবে। সবল নিউক্লীয় বল সংক্রান্ত
তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ক্রোমোডিনামিক্স (QCD) বলে।
দুর্বল নিউক্লীয় বল ক্রিয়া করে ফ্লেভারযুক্ত কণিকা অর্থাৎ ফার্মিয়নের মধ্যে। এটি খুব দুর্বল বল এবং এর পাল্লা সবল নিউক্লীয় বলের চেয়েও ক্ষুদ্র, মাত্র ১০-১৮ মিটারের মত। এর দ্বারা পরমাণুর তেজষ্ক্রিয় ক্ষয় ব্যাখ্যা করা যায়। এর বাহক হল W+, W- ও Z0 বোসন (কোন কোন ক্ষেত্রে হিগ্স বোসনকেও ধরা হয়)। এদের নিজস্ব ভর আছে, এর মধ্যে Z0-এর ভর সবচেয়ে বেশি। এদের নিজস্ব আধানও আছে, W+-এর আধান +১, W--এর আধান -১ এবং Z0 আধান নিরপেক্ষ। দুর্বল নিউক্লীয় বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম ফ্লেভারডিনামিক্স (QFD) বলে। তবে তড়িতচুম্বকীয় বল ও সবল নিউক্লীয় বলকে একত্রে ইলেক্ট্রোউইক থিওরীতে (EWT) আলোচনা করা হয়।
মাধ্যাকর্ষন বল
ক্রিয়া করে সকল কণিকার মধ্যে। এটি খুবই দুর্বল বল, কিন্তু
এর পাল্লা অসীম এবং সবসময়ই শুধুমাত্র আকর্ষণ করে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল তত্ত্ব এটি
ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং কখনও পারবেও না। ধারণা করা হয় এ বলেরও একটি বাহক আছে,
এর প্রস্তাবিত নাম গ্র্যাভিটন। এটি একটি ভরবিহীন কণিকা যার স্পিন
২। মাধ্যাকর্ষন বল সংক্রান্ত তত্ত্বকে কোয়ান্টাম জিওমেট্রোডিনামিক্স (QGD) বা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটেশন বলে।
হিগ্স বোসন স্ট্যান্ডার্ড
মডেলের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কণিকা, কারণ এটি ফোটন ও গ্লুওন বাদে অন্যান্য সকল
কণিকার ভর থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে। ধারণা করা হয়, ভরের
উৎপত্তি ঘটে মৌলিক কণিকার হিগ্স ক্ষেত্রে পরিভ্রমনের জন্য। এই হিগ্স ক্ষেত্রের
ক্ষুদ্রতম অংশই হল হিগ্স বোসন। এর স্পিন হল ০। স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে,
হিগ্স বোসন না থাকলে সকল কণিকাই ভরবিহীন হত। এটিই স্ট্যান্ডার্ড
মডেলের একমাত্র কণিকা যেটি এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। সার্নের বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী
এ বছরের মধ্যেই এর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সত্তুরের দশকে
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের ভবিষ্যৎদ্বানী অনুযায়ী নতুন কিছু মৌলিক
কণিকা আবিষ্কৃত হওয়ায় তত্ত্বটি আরও পাকাপোক্ত হয়। ১৯৭৭-এ বটম কোয়ার্ক, ১৯৯৫-এ টপ কোয়ার্ক ও ২০০০-এ টাউ নিউট্রিনো আবিষ্কৃত হয়। এদের ধর্ম ও
বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যৎদ্বানীর সাথে প্রায় পুরোপুরি মিলে যায়। তবে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের
কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন– এ তত্ত্বে ডার্ক ম্যাটারের
কোন স্থান রাখা হয়নি, এ তত্ত্ব মাধ্যাকর্ষন বল ব্যাখ্যা
করতে পারে না। এ সত্ত্বেও স্ট্যান্ডার্ড মডেলের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই একে বলা হয় প্রায় সবকিছুর তত্ত্ব (Theory of almost
everything)। পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে, সবগুলো মৌলিক বল একত্রিত করে একটি সবকিছুর
তত্ত্বও (Theory of everything) বের করা সম্ভব।
https://www.bigganbangla.com/স্ট্যান্ডার্ড-মডেল/
তথ্যসূত্রঃ
১. http://physics.info/standard/
২. http://h2g2.com/dna/h2g2/A666173
কৃষ্ণ বা অন্ধকার বস্তু (Dark matter): বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকর্ষ শক্তির মাধ্যমে বস্তুজগতকে আকর্ষিত করে গ্যালাক্সি সৃষ্টির পেছনে কৃষ্ণ বা অন্ধকার বস্তুর(Dark matter) এর বিশেষ ভূমিকা আছে। অন্যদিকে মহাবিশ্বের বর্তমান প্রসারণের মাত্রার ত্বরণের জন্য কৃষ্ণ বা অন্ধকার শক্তি বলে একটি জিনিসকে দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমান মহাবিশ্বের মূল অংশই হচ্ছে কৃষ্ণ শক্তি, বাকিটা কৃষ্ণ বস্তু। আমরা চোখে বা ডিটেকটরের মাধ্যমে যা দেখি তা মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশেরও কম।
নভেল প্যান্ডেমিক
করোনা ভাইরাস ডিজিজ(কোভিড)-১৯ কি
নতুন ধারার বিজ্ঞানের সূচনা ঘটাতে যাচ্ছে?
মহাকাশ
বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বে এমন প্রশ্নও নাকি রয়েছে যার
উত্তর অত্যাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির এই ডিজিটাল পৃথিবীতেও পাওয়া যাওয়ার মত নয়। কারণ,
মহাবিশ্বে তথ্যজ্ঞানের যে ভান্ডার রয়েছে তা থেকে বড়জোর ২০% (বিশ
শতাংশ) এই পৃথিবীর তথ্য-প্রযুক্তিতে আয়ত্ব করা সম্ভবপর। বৈজ্ঞানিকদের মতে, বাকী জ্ঞান-ভান্ডার নাকি মহাকাশের ডার্ক ম্যাটারে লুকায়িত। অর্থাৎ
বর্তমান প্রচলিত জৈব-রসায়ন-পদার্থ বিজ্ঞানে অনেক প্রশ্নের জবাব নেই। তাই
বিগত বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগেই বিজ্ঞানীরা অনুভব করেছিলেন বর্তমান প্রচলিত “School
Thought of Science” এর প্রতিস্থাপক হিসাবে “Frontier
Science” নতুন এক বিজ্ঞানের যার নামকরণ করেছেন। নতুন
বিজ্ঞানে কি “নভেল প্যান্ডেমিক সার্স-২ করোনা (কোভিড)-১৯” কেন রহস্যময়, বিস্ময়কর তার আদৌ জবাব পাওয়া
যাবে কি?
পৃথিবীতে
এ যাবৎ কালের বিদ্যমান অন্যান্য ভাইরাস অনেকটা নিয়ম নীতিতে
সীমাবদ্ধ ছিল এবং আছে। করোনা কোভিড-১৯ তার ব্যতিক্রম। এটি কোন নিয়ম নীতিতেই যেন
আবদ্ধ নয়। কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, সূত্র কিংবা চিরাচরিত কোন
ধারণা-বিশ্বাস যেন কোভিড-১৯ এর বেলায় খাটছেনা। এমনকি করোনার সমগোত্রীয় কোন
ভাইরাসের সাথে কোভিড-১৯ এর মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে অন্যান্য কোভিড এর তুলনায় করোনা কোভিড-১৯ এর মিউটেশন (রূপান্তর)
অনেকটাই ব্যতিক্রম। তাই বিশ্বে এতটা হৈচৈ, আলোড়ন,
ভ্যাকসিন আবিস্কারে গলদঘর্ম। ডিজিটাল যুগীয় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি
কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে যেন অচল। ডিসেম্বরে যা-ও ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছিল সেই
সপ্তাহেই করোনা রাতারাতি নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে, আরও উচ্চ সংক্রমণ
শক্তি নিয়ে ভ্যাকসিন আবিস্কারক দেশ যুক্তরাজ্যে হামলে পড়েছে। এক কথায় বলা যায়,
করোনা কোভিড-১৯ সর্বপ্রকার মানব জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত সকল
দিক থেকে বাইরে। বলা যেতে পারে.করোনা কোভিড-১৯ অনেকটা ইমানিসনিজম (Emanisnim) জাতীয় বিষয়। ইংরেজী ‘Emanisnism’শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanare’ শব্দ
থেকে যার অর্থ To flowfrom...to pour fourth or out of অর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসা, প্রবাহিত বা
আগত, উৎসারিত ইত্যাদি। ইমানিজমের ধারণা-বিশ্বাস
হচ্ছে, সব সৃষ্টির, সব
বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বা First
Principle বা Perfect God থেকে। ইমানিশনিজম হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)
সায়েন্স ফিকশনের নভোতরী কী হতে যাচ্ছে আগামীদিনের ফ্রন্টিয়ার
সায়েন্সের ভিত্তি?:
বলা
হয়ে থাকে মানব মনে যেদিন থেকে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল ঠিক সেদিন থেকে
বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল। যার কারণে প্রকৃতি বিষয়ক ব্যাপক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যালোচনা-পর্যবেক্ষণের
মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের সত্য থেকে সত্যান্তরে পৌঁছার প্রয়াস-প্রচেষ্টায় অন্ত ছিল না
সত্য তবে বার বার আবহমানকাল থেকে সংঘটিত কিছু অলৌকিক ঘটনাকে নিছক টেলিপ্যাথি (Telepathy), হ্যালুচিনেশন বলে
উড়িয়ে দেয়াকে বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের সত্যান্বেষী নীতিবিরুদ্ধ বলে ভাবতেন। যতই
আপেক্ষিকতা তত্ত্বের গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করে বিশেষ আপেক্ষিকতা পেরিয়ে
কোয়ান্টম বলবিদ্যা ছাড়িয়ে স্টিফেন হকিং এর বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রবেশ করলো বিজ্ঞান
তখন অস্বাভাবিক যতসব কর্মকান্ডকে বিজ্ঞানীরা আর মোটেও ভুতুড়ে কান্ড বলে উড়িয়ে
দিতে প্রস্ত্তত নয় । তাঁরা চিরাচরিত প্রথাগত বৈজ্ঞানিক
তত্ত্বের উর্ধ্বে উঠে গত বিংশ শতাব্দীর শেষপাদে বিশেষ বিজ্ঞানের অন্বেষায় সচেষ্ট
হন। প্রস্তাবিত বিশেষ বিজ্ঞানের নামকরণও করা হয় ফ্রন্টিয়ার সায়েন্স।
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান
(কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান নামেও পরিচিত) (Quantum
mechanics) আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখা যা পরমাণু এবং
অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে।
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোনো বস্তু
যেমন তারা ও ছায়াপথ এবং বিশ্বতত্ত্বমূলক ঘটনা
যেমন মহাবিস্ফোরণ বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানের যেসব ক্ষেত্রে
চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব
ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। পারমাণবিক অথবা তার চেয়েও ছোট মাপের
কোনো ভৌত ব্যবস্থায়, খুব নিম্ন অথবা খুব উচ্চ শক্তিতে,
অথবা অতিশীতল তাপমাত্রায় চিরায়ত এবং কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের
বিশ্লেষণের মধ্যে প্রায়শই পার্থক্য দেখা যায়। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়ন,
আণবিক জীববিজ্ঞান, ইলেক্ট্রনিক্স,
কণা পদার্থবিজ্ঞান, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং
প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তি, এবং বিজ্ঞানের
এই শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে।

শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল:
একটি বিড়াল, একটি বিষ পূর্ণ ফ্লাস্কের সাথে একটি আবদ্ধ পাত্রে রাখা আছে। বাক্সটি
পরিবেশের আহিত কোয়ান্টাম ডিকোহেরেন্স প্রতিরোধী। যদি পাত্রের ভেতরে থাকা গাইগার
কাউন্টার তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করে, তবে ফ্লাস্কটি ভেঙ্গে
যাবে এবং বিষ নির্গত হবার কারণে বিড়ালটি মারা পড়বে। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার
কোপেনহেগেন ব্যাখ্যানুযায়ী, কিছু সময় পর দেখা যাবে,
বিড়ালটি যুগপৎ জীবিত এবং মৃত। যদিও আমরা যদি বাক্সের ভেতরে
তাকাই, আমরা দেখি বিড়ালটি হয় জীবিত নয় মৃত, কিন্তু একই সাথে জীবিত ও মৃত নয়।
শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল হচ্ছে একটি চিন্তন পরীক্ষা। একে প্রায়শ হেঁয়ালি হিসেবে অভিহিত করা
হয়, অস্ট্রিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী আরউইন
শ্রোডিঙ্গার কর্তৃক বর্ণীত। এটি কোয়ান্টাম বলবিদ্যার কোপেনহেগেন ব্যাখ্যা প্রাত্যহিক জীবনে প্রয়োগ করলে কী ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে তা ব্যাখ্যা
করে। এই মানসিক পরীক্ষণটি দেখায় যে একটি বিড়াল কিছু সময় পূর্বের একটি দৈব ঘটনার
ওপর নির্ভর করে কোনো সময়ে জীবিত বা মৃত হতে পারে। এ পরীক্ষণটি তৈরি করার সময়
তিনি একটি নতুন পদ সৃষ্টি করেন Verschränkung —এনটেঙ্গেলমেন্ট।
প্রকৃতি
প্রকৃতি (ইংরেজি : Nature) বলতে এই পৃথিবী তথা সমগ্র সৃষ্টিকে নির্দেশ করে। প্রকৃতি বলতে জাগতিক বিশ্বের মানব সৃষ্ট-নয় এমন দৃশ্য-অদৃশ্য বিষয় এবং জীবন ও প্রাণকে বুঝায়।
প্রকৃতি বলতে স্বয়ং স্রষ্টা সৃষ্ট বিশ্বজগত যার মধ্যে মানুষ একটি উপাদান মাত্র; গাছ-পালা , নদী-নালা , পশু-পাখি , পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি সকলবস্তু বিদ্যমান। (উইকিপিডিয়া)।
উল্লেখ্য, প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের প্রতিটির জন্য রয়েছে একটি করে কণা। যেমনঃ
►১. সবল নিউক্লীয় বলের জন্য গ্লুয়ন কণা, ২. দূর্বল নিউক্লীয় বলের জন্য
ডব্লিউ+জেড বোসন কণা ৩. তড়িৎ চুম্বকীয় বলের জন্য ফোটন বা আলোর কণা, ৪. মহাকর্ষ
বলের জন্য গ্র্যাভিটন।
প্রকৃতির
প্রতি মানুষের আস্থা-বিশ্বাসঃ
►প্রকৃতি কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয় না।
মানুষ যেমন হয়।
►প্রকৃতি কখনো অভিসম্পাত করে না।
মানুষ যেমন করে।
প্রকৃতি কখনো লোভী হয় না।
মানুষ যেমন হয়।
►প্রকৃতি হয় শান্ত-স্নিগ্ধ।
►ওয়ার্ডসওয়ার্থ বলেছেন, প্রকৃতি কখনো হৃদয় আর ভালোবাসার সঙ্গে ধোঁকা দিতে পারে না।
কিন্তু আমরা যারা নিজেদের
মানুষ বলে দাবি করি, সেই আমরা
হৃদয় ভাঙি, ভালোবাসার সঙ্গে করি মিথ্যাচার। ভাঙাগড়ার
খেলায় জলকাদা মিশিয়ে একাকার করে দিই। প্রকৃতিও তখন বিস্মিত হয়।
ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা
খরা—এসব তো প্রকৃতিরই লীলা। মানুষ তার অপার ক্ষমতায়
সেসব দুর্যোগ জয় করে নিজেকে অতিমানব থেকে কখনো কখনো ঈশ্বর ভেবে বসে। সেই অহংকারের
মিথ্যা অভিলাষ মানবজাতিকে আজ বোধহয় টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে এনেছে গভীর এক খাদের কিনারে।
ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ন্যাচার অব রিভেঞ্জ’। সময়ের তাগিদে কখনো কখনো
প্রতিশোধপরায়ণ তাকেও হতে হয়। কী দেয়নি এই প্রকৃতি আমাদের!
আলো-বাতাস-নদী-পাহাড়-ঝরনা-ফুল-প্রজাপতি-মেঘ এমনকি গহিন অরণ্য।
সৃষ্টি তত্ত্ব বিষয়ক STANDARD MODEL
পদার্থ
বিদ্যার যে তত্ত্বটির সাহায্যে কোন বস্তুর ভরের ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয় তাকে “ষ্ট্যান্ডার্ড
মডেল” (Standard Model)বলা হয়। এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেলটি
অস্তিত্বশীল হতে হলে প্রয়োজন পড়ে এমন এক অতি পারমাণবিক কণা- যার বৈজ্ঞানিক নাম “হিগস-বোসন কণা” বা God’s particle। পদার্থ বিদ্যার এই ষ্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুর ভর সৃষ্টির প্রাথমিক ভিত্তি হচ্ছে একটি “অদৃশ্য কণা”। বস্তুর
ভরের মধ্যে ভিন্নতার কারণও এই অদৃশ্য কণাটিই। পদার্থের ভর কিভাবে তৈরি হয় তা জানতে
১৯৬৪ সাল থেকে শুরু হয় গবেষণা। ২০০১ সালে এসে গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের
ফার্মিল্যাবের "টেভাট্টন" নামক যন্ত্ররে মাধ্যমে ওই কণার খোঁজ করতে শুরু
করেন। এ কণার খোঁজে ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামেন CERNএর খ্যাতনামা
গবেষকরা। ২০১১ সালে CERNএর বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক
অস্তিত্ব টের পান।
বস্তু/পদার্থ এলো কি করে?
বৈজ্ঞানিক
গবেষণামতে, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং পরবর্তী সদ্য সৃষ্ট মহাবিশ্ব
যখন একটু শীতল হলো, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় অদৃশ্য এক ধরণের
বল -যাকে বলা হয় হিগস ফিল্ড (Higgs Field)|হিগস ফিল্ডে
তৈরী হয় অসংখ্য ক্ষুদে কণা। এই হিগস ফিল্ড দিয়ে ছুটে যাওয়া সব কণা হিগস-বোসনের
সংস্পর্শে এসে ভরপ্রাপ্ত হয়। ভরপ্রাপ্ত এই কণা-কে বলা হয় বস্তু বা পদার্থ (Matter)।
হিগস বোসন কণা কী ?
A
subatomic particle called the Higgs Boson Particle or “God’s particle”.অর্থঃ
অতি পারমানবিক কণাকে হিগস-বোসন কণা বলা হয়।
বিগ
ব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণ পরবর্তী অবস্থায় কি কি সৃষ্টি হতে পারে তা আলবার্ট
আইনেস্টাইন দিব্যি উপলদ্ধি করতেন। এ উপলদ্ধিতেই নিহিত ছিল আজকের সাড়া জাগানো “হিগস বোসন” নামক আবিস্কৃত অতিপারমানবিক কণাটি।
কোয়ান্টাম
তত্ত্বের মূল কথা
অদৃশ্য বস্তু (Dark Matter)
মহাবিশ্বের
বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণের আনুপাতিক শক্তি-ঘনত্বের একটি পাই ছক; ল্যাম্ব্ডা-সিডিএম
নকশা অনুসারে।
১৯৭০ ও ৮০'র দশকে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়, মহাবিশ্বের ছায়াপথসমূহ এবং এদের অন্তবর্তী স্থানে বিদ্যমান মহাকর্ষীয়
বলের আপাত শক্তির পরিমাণ এত বেশি যে দৃশ্যমান পদার্থগুলোর পক্ষে এ শক্তি সরবরাহ
করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পদার্থের তুলনায় শক্তি অনেক বেশি। এর পর
বিজ্ঞানীরা এই ধারণা গ্রহণ করতে বাধ্য হন যে, মহাবিশ্বের
শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ পদার্থই সাধারণ বেরিয়ন পদার্থ নয় বরং এরা হচ্ছে অদৃশ্য বস্তু (dark matter)। এর পূর্বে ধারণা করা হত
মহাবিশ্বের সকল পদার্থই সাধারণ যা আমরা দেখতে বা অনুধাবন করতে পারি। কিন্তু এই
ধারণা পর্যবেক্ষণের সাথে সামাঞ্জস্যহীন ছিল। অদৃশ্য বস্তুর ধারণা বাদ দিলে
মহাবিশ্বে যে পরিমাণ ডিউটেরিয়াম থাকা উচিত ছিল বর্তমানে তার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। এই সমস্যা নিরসনের
জন্য অদৃশ্য বস্তুর কল্পনা করা ছাড়া গত্যন্তর ২০০৬ সালে আগস্ট মাসে বুলেট স্তবকের ছায়াপথসমূহের মধ্যে সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা
অদৃশ্য বস্তুর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।[২৫][২৬] অদৃশ্য বস্তু চিহ্নিত করা প্রায়
দুঃসাধ্য। কারণ এর মহাকর্ষীয় প্রভাব সঠিকভাবে বোঝা যায় না। এখন পর্যন্ত কোন
গবেষণাগারে সরাসরি অদৃশ্য বস্তু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় নি। কণা পদার্থবিজ্ঞানের
অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় বর্তমানে অদৃশ্য বস্তু।
অদৃশ্য শক্তি(Dark Energy)
মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমির পরিমাপ করার মাধ্যমে জানা গেছে যে মহাবিশ্ব প্রায় সমতলীয়। এ কারণে এর শতকরা প্রায় ৭০ভাগ শক্তি ঘনত্বের কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। নবতারার স্বাধীন পরিমাপের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা হয়েছে যে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ একটি অরৈখিক ত্বরণে হচ্ছে। এই ত্বরণ ব্যাখ্যার জন্য সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে এমন একটি মহাবিশ্বের ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন যাতে ঋণাত্মক চাপবিশিষ্ট বিপুল সংখ্যক শক্তি উপাদান থাকা প্রয়োজন। এ থেকেই এসেছে অদৃশ্য শক্তির ধারণা। ২০০৬ সালে ডব্লিউএমএপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে মহাবিশ্বে ৭৪% অদৃশ্য শক্তি, ২২% অদৃশ্য বস্তু এবং মাত্র ৪% সাধারণ বস্তু যা এযাবৎ কালের পদার্থবিজ্ঞানীদের অতি চেনা-জানার মধ্যে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে আরনো
পেনজিয়াস এবং রবার্ট
উড্রো উইলসন অনেকটা আকস্মিকভাবেই পটভূমি বিকিরণ আবিষ্কার করেন।
তারা এ সময় বেল
ল্যাবরেটরিসের মালিকানাধীন একটি ক্ষুদ্রতরঙ্গ গ্রাহক যন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের মান নিরূপণ করছিলেন। তারা যে
বিকিরণ আবিষ্কার করেন তা আইসোট্রপীয় ছিল এবং এর মধ্যে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণের ধর্ম
বাদ্যমান ছিল; এর তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩ কেলভিন। এই
আবিষ্কার মহাবিস্ফোরণ মতবাদের পক্ষে একটি যুক্তেই হয়ে দাঁড়ায় এবং পেনজিয়াস ও
উইলসনকে এনে দেয় নোবেল পুরস্কার।
ডব্লিউএমএপি থেকে প্রাপ্ত মহাজাগতিক
ক্ষুদ্রতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের চিত্র
বিশ্ব
সৃষ্টিতত্ত্বের কতিপয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
স্ট্রিং থিওরি
পদার্থবিজ্ঞানে স্ট্রিং থিওরি হচ্ছে এক
ধরনের গণিতনির্ভর তাত্ত্বিক কাঠামো দ্বারা বিন্দু সদৃশ কণা বা কণা
পদার্থবিজ্ঞানকে একমাত্রিক তার বা স্ট্রিং দ্বারা
প্রতিস্থাপন করা। অর্থাৎ স্ট্রিং তত্ত্ব অনুযায়ী দৈর্ঘ্য, প্রস্থ,
উচ্চতা বিহীন কোনো গোল বিন্দু নেওয়া হলে এবং তাকে বহুগুণে বিবর্ধন
করা গেলে, সেখানে শুধু একমাত্রিক বিশাল লম্বা তার বা স্ট্রিং
দেখা যাবে। স্ট্রিং তত্ত্ব অনুসারে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সকল মৌলিক কণাই আসলে একরকমের
তার। এসব তার আবার বিভিন্ন কম্পাঙ্কে কাঁপছে। এসব তারের কম্পাঙ্কের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন রকম
বৈশিষ্ট্যের মৌলিক কণিকার সৃষ্টি হয়। তারের কম্পণের পার্থক্যই এসব কণিকার আধান, ভর নির্দিষ্ট করে
দিচ্ছে।
স্ট্রিং থিওরী একটি বিস্তৃত ও
বৈচিত্রময় বিষয় যা পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক প্রশ্নগুলির সমাধান
করার চেষ্টা করে। স্ট্রিং থিওরী দ্বারা কৃষ্ণগহ্ববর, প্রারম্ভিক মহাবিশ্বের গঠনকৌশল পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ঘনীভূত পদার্থবিজ্ঞানের নানাবিধ
সমস্যাগুলিতে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এটি বিশুদ্ধ গণিতের বেশ কয়েকটি বড়
উন্নয়নকে অনুপ্রাণিত করেছে। যেহেতু স্ট্রিং তত্ত্ব মহাকর্ষ এবং কণা
পদার্থবিজ্ঞানের একটি সম্ভাব্য সমন্বিত বিবরণ প্রকাশ করে, এজন্য
স্ট্রিং তত্ত্বকে সবকিছুর তত্ত্ব বলেও অভিহিত করা
হয়। সবকিছুর তত্ত্ব এমন
এক গাণিতিক মডেল যা দ্বারা পদার্থের অবস্থা এবং সমস্ত বলকে একত্রে ব্যাখ্যা
করা যায় (উইকিপিডিয়া)
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান
কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum mechanics) বা কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান (ইংরেজি: Quantum physics) আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের
একটি শাখা যা পরমাণু এবং অতিপারমাণবিক কণার/তরঙ্গের মাপনীতে[টীকা ১] পদার্থের আচরণ বর্ণনা করে। কোয়ান্টাম
বলবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিশাল কোন বস্তু যেমন তারা ও ছায়াপথ সম্পর্কিত বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় তেমনি এবং বিশ্ব সৃষ্টি তত্ত্বমূলক যেমন মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) এর ঘটনাও ব্যাখ্যা করা যায়।
পদার্থবিজ্ঞানের যেসব
ক্ষেত্রে চিরায়ত নিউটনীয় বলবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে পদার্থগুলির ভৌত আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য
পদার্থবিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান ব্যবহার করে থাকেন। কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞান রসায়ন, আণবিক জীববিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, কণা পদার্থবিজ্ঞান, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিবিদ্যার আধুনিক উন্নয়নের ভিত্তি, এবং বিজ্ঞানের এই
শাখাগুলো বিগত পঞ্চাশ বছরে পৃথিবীকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত করেছে।
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির প্রমান পাওয়া যায়, একটি লেজার রশ্মির পরীক্ষায়। একটি
পরীক্ষাগারে যদি. একটি লেজার রশ্মিকে আমরা একটি এক ছিদ্রবিশিষ্ট স্লিটের মধ্য দিয়ে
প্রবেশ করাই যা অপরপাশে রাখা পর্দায় একটি দাগ বা বিন্দু তৈরি করে। বিন্দুটির
দৈর্ঘ্যও ছোট হতে থাকবে। স্লিটটির ছিদ্রের দৈর্ঘ্য কমাতে কমাতে এমন একটা পর্যায়
আসবে যখন থেকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স কাজ করা শুরু করবে বা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা
নীতি কাজ করা শুরু করবে। ছিদ্রের দৈর্ঘ্য আরও কমাতে থাকলে একসময় দেখা যাবে
বিন্দুটি ছোট হতে হতে আবার দুই পাশে প্রশস্ত হয়ে দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শুন্যে
মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু
বিন্দুটির তো আরও ক্ষুদ্র হয়ে শূন্যে মিলিয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু তা না হয়ে
বিন্দুটি প্রশস্ত হয়েছে!
এর ব্যাখ্যা দেয়া যায় হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি
থেকে। যখন স্লিটের ছিদ্রের দৈর্ঘ্য আমরা কমাতে থাকবো তার মানে হবে সুত্রের ΔX এর মান আমরা কমাচ্ছি অর্থাৎ কণার
অবস্থান আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ছিদ্রের দৈর্ঘ্য কমতে কমতে একটি
সীমায় গিয়ে দেখা যাবে, যদি আমরা ছিদ্রের দৈর্ঘ্য আরও কমাই
তাহলে ব্যাপারটি এমন দাঁড়াবে যে আমরা অনিশ্চয়তা নীতির Δ X Δ P ≥ h cut/2 সম্পর্কটি
ভাঙতে যাচ্ছি। অনিশ্চয়তা নীতি বজায় রাখতে এখন যেটি দরকার তা হলো Δ P এর অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়া। ঠিক সে কারনেই আমরা দেখতে
পাই যে, X ডাইরেকশনে
অনুভুমিক দিকে ভরবেগের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্লিটের ছিদ্রের দৈর্ঘ্য আরও
কমাতে থাকলে অপরপাশে আপতিত ফোটনের ভরবেগের অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়ে আরও প্রশস্ত রেখা
তৈরি করে। ছিদ্রের দৈর্ঘ্য যত কমানো হবে আপতিত রেখা তত বেশী প্রশস্ত হবে, অর্থাৎ
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতিকে প্রমান করবে।
পদার্থবিজ্ঞানের আইন প্রণয়নে কতিপয় তাত্ত্বিক কাঠামোর
বিন্যাস
বিংশ শতাব্দীতে, পদার্থবিজ্ঞানের আইন
প্রণয়নের জন্য দুটি তাত্ত্বিক কাঠামো আবির্ভূত হয়। প্রথম আলবার্ট আইনস্টাইনের
আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব, একটি তত্ত্ব যা মহাকর্ষ বল
এবং স্থান ও সময় গঠনকে ব্যাখ্যা করে। অন্যটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স যা সম্ভাব্যতার নীতি নির্দেশিত মাত্রার সূত্র বা
তত্ত্ব। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে এই দুইটি কাঠামো
অতিপারমাণবিক মৌলিক কণাসহ মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহকে ব্যাখ্যায়
সফলতা অর্জন করে।
তবে এই সফলতা সত্ত্বেও, এখনও অনেক সমস্যা
আছে যা সমাধান জরুরী। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে গভীরতম সমস্যা
হল কোয়ান্টাম মাধ্যাকর্ষণ সমস্যা।[১] আপেক্ষিকতার
সাধারণ তত্ত্বটি ক্লাসিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানের কাঠামোর মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে,
অন্য মৌলিক কণাগুলি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের কাঠামোর মধ্যে বর্ণনা
করা হয়েছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মূলনীতির সাথে সাধারণ আপেক্ষিকতার সমন্বয়
করার জন্য মাধ্যাকর্ষণের একটি কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এরি
পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্রিং থিওরির উদ্ভব ঘটে।
স্ট্রিং থিওরিটি একটি
তাত্ত্বিক কাঠামো যা অনেক তাত্ত্বিক সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে।
স্ট্রিং থিওরিতে, স্ট্রিং এর কম্পনশীল স্টেটগুলির মধ্যে
একটি মহাকর্ষীয় শক্তি বৃদ্ধি করে, একটি কোয়ান্টাম
মেকানিক্যাল কণা যা মহাকর্ষীয় শক্তি বহন করে। সুতরাং স্ট্রিং তত্ত্ব কোয়ান্টাম মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব।
কণা
পদার্থবিজ্ঞান
প্রাথমিক কণা এবং তাদের মিথস্ক্রিয়া বর্ণনাকারী
বর্তমানে গৃহীত তত্ত্ব কণা পদার্থবিদ্যা আদর্শ মডেল হিসাবে পরিচিত হয়। এই তত্ত্ব
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম এবং শক্তিশালী এবং দুর্বল নিউক্লিয়ার বলের একটি বিস্তৃত
ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অনন্য অসাধারণ।
অনিশ্চয়তা নীতি আসলে কি এবং কেন ?
১৯২৭ সালে জার্মান পদার্থবিদ
ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ উল্লেখ করেছিলেন, “কোন কণার অবস্থান এবং ভরবেগ একইসাথে নির্ভূলভাবে নির্ণয়
করা সম্ভব নয় । এদের একটিকে যতটা নিখুঁত করা হবে, অন্যটি
তত অনিশ্চিত হবে।”
উদাহরণস্বরূপ, পদার্থের কোন একটি
কণা যেকোন মূহুর্তে ঠিক কোথায় আছে, তা জানার জন্য আমাদেরকে কণাটির উপর আলো ফেলতে হবে । যার
সাহায্যে আমরা এর অবস্থান নির্ণয় করতে পারবো । ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক এর কোয়ান্টাম তত্ত্বমতে,
ইচ্ছেমত বা ক্ষুদ্র পরিমাণ আলো ফেললেই হবেনা । অন্তত এক
কোয়ান্টাম পরিমাণ আলো ফেলতে হবে ।
কোয়ান্টাম পরিমাণ আলো ফেলে
অবস্থান সঠিকভাবে মাপা গেল, তাতে কোন সমস্যা নেই । কিন্ত সেই অবস্থাতে কণাটির উপর আলো পড়ায় কণাটি
উত্তেজিত হবে । ফলে কণাটির গতিপথ এমনভাবে পাল্টে যাবে যে, সেটা ভালভাবে দেখাও যাবেনা । এতে করে আমরা সঠিকভাবে তার ভরবেগ নির্ণয় করতে
পারবোনা ।
যদি আলো না ফেলে চেষ্টা করি, সেক্ষেত্রে এর গতিপথ
পরিবর্তন না ঘটার কারণে এর ভরবেগ সঠিকভাবে মাপা যাবে । কিন্তু সেক্ষেত্রে কণাটি
স্পষ্টভাবে দেখা যাবেনা বিধায়, এর অবস্থান নির্ণয় করা
সঠিক হবেনা ।
তাহলে এই ভুলের পরিমাণ কত ? কণার অবস্থান এবং ভরবেগ
নির্ণয়ের এই ত্রুটির সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে, প্ল্যাঙ্কের
ধ্রুবকের মানকে ঐ কণার ভরের দিগুণ দিয়ে ভাগ করলে যে মান পাওয়া যায়, তার মানের সমান ।
ল্যাপ্লাসের লক্ষ্য ছিল, যেকোন একটি তাৎক্ষনিক
সময়ে মহাবিশ্বের কণাদের অবস্থান এবং ভরবেগ জানা । কিন্তু হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতির
মাধ্যমে তার এই ইচ্ছের পতন ঘটেছিল ।
Origin Academic Coaching
28 ডিসেম্বর, 2017 ·
হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা নীতি
এই নীতির বিবৃতিতে বলা আছে-
"কোনো কণিকার অবস্থান এবং ভরবেগ, একইসাথে নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব না। অবস্থান নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে গেলে ভরবেগের মানে ভুলের পরিমাণ বাড়বে, আবার ভরবেগ নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে গেলে অবস্থানের মানে ভুলের পরিমাণ বাড়বে।"
অনিশ্চয়তা নীতি (কম্পনতত্ত্ব)ঃ অনিশ্চয়তা নীতি কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্তর্গত একটি সমীকরণ, যা
পারমাণবিক ও অবপারমানবিক জগতের একটি মৌলিক সীমা অর্থাৎ একটি কণার প্রকৃত অবস্থান (x)
এবং ভরবেগ (p) এর একটি সীমা প্রকাশ করে ।
ইলেকট্রনের
ভরবেগ সঠিকভাবে জানতে এমন ফোটন দরকার
যার শক্তি কম, যাতে এটা ইলেকট্রনটির ভরবেগকে প্রভাবিত না
করতে পারে। কিন্তু আমরা জানি ফোটনের শক্তি এর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ, কম শক্তির ফোটনের কম্পাঙ্ক কম তথা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
বেশি হবে। ফলে এমন বড়সড় ফোটন ইলেকট্রনের অবস্থান
ঠিকভাবে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হবে। আবার আমরা
যদি ছোট(তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম তথা কম্পাঙ্ক বেশি) ফোটন ব্যবহার করি, তাহলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মত, এটা ইলেকট্রনের অবস্থান ভালোভাবে নির্ণয় করলেও, এমন ফোটনের শক্তি বেশি থাকায় ইলেকট্রনের ভরবেগ পালটে দেবে। এভাবে
অনিশ্চয়তা নীতি সবসময়ই প্রযোজ্য থাকবে। প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক খুব ছোট বলে
বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তা সূত্র আমরা অনুভব করি না বললেই চলে।কিন্তু আনুবীক্ষণিক
জগতে অনিশ্চয়তা সূত্রের সত্যতা খুব
ভালভাবে লক্ষ করা যায়।
স্ট্রিং থিওরি (কম্পনতত্ত্ব)
পদার্থবিজ্ঞানে স্ট্রিং থিওরি হচ্ছে একধরনের গণিতনির্ভর তাত্ত্বিক কাঠামো দ্বারা বিন্দু সদৃশ কণা বা কণা পদার্থবিজ্ঞানকে একমাত্রিক তার বা স্ট্রিং দ্বারা প্রতিস্থাপন করা। অর্থাৎ স্ট্রিং তত্ত্ব অনুযায়ী
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা বিহীন কোনো
গোল বিন্দু নেওয়া হলে এবং তাকে বহুগুণে বিবর্ধন করা গেলে, সেখানে
শুধু একমাত্রিক বিশাল লম্বা তার বা স্ট্রিং দেখা যাবে। স্ট্রিং তত্ত্ব অনুসারে
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সকল মৌলিক কণাই আসলে একরকমের তার। এসব তার আবার বিভিন্ন কম্পাঙ্কে কাঁপছে।
এসব তারের কম্পাঙ্কের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন রকম বৈশিষ্ট্যের মৌলিক কণিকার সৃষ্টি
হয়। তারের কম্পণের পার্থক্যই এসব কণিকার আধান, ভর নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে।
শব্দ শূন্য শব্দ "ঝিল্লি" থেকে আসে
১৯৮৭
সালে, এরিকে বার্জশোফ, ইরিগিন সেজিন এবং পল
টাউনসেন্ড দেখিয়েছিলেন যে এগারো-মাত্রিক সুপারগ্যাভটিটিটি দ্বি-মাত্রিক ব্রানে
অন্তর্ভুক্ত। তাত্পর্যপূর্ণভাবে, এই বস্তুগুলো 11-তম মাত্রিক স্পেসটাইমের মাধ্যমে প্রচারিত শীট বা ঝিল্লির মত দেখাচ্ছে।
এই আবিষ্কারের অল্প পরেই, মাইকেল ডাফ, পল হাভ, টেকো ইনামি এবং কেলগ স্টেলে 11-এর মাত্রিক আধিকারিকদের একটি বিশেষ কম্প্যাক্টিফিকেশন বিবেচনা করে একটি
মাত্রাটি বৃত্তের মধ্যে ঘোরা। এই সেটিংয়ে, বৃত্তাকার
মাত্রার চারপাশে ঝিল্লি মোড়কে কল্পনা করতে পারে। যদি বৃত্তের ব্যাসার্ধটি যথেষ্ট
ছোট হয়, তবে এই ঝিল্লিটি দশ-মাত্রিক স্পেসটাইমের মতো
একটি স্ট্রিংের মত দেখতে যায়। বস্তুত, ডাফ এবং তার
সহযোগীরা দেখিয়েছেন যে এই নির্মাণটি একই ধরনের টাইপ IIA সুপার
স্ট্রিং তত্ত্বের মধ্যে প্রকাশ করে।
সুপারস্ট্রিং বা এম-তত্ত্ব
সুপারস্ট্রিং বা এম-তত্ত্ব গবেষকরা বলেন, আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাইরে অবস্থিত
বহুমাত্রিক জগৎ আমাদের জগৎকে প্রভাবিত করে। তাই মহাকর্ষ বলে অসামঞ্জস্য ব্যাখ্যার
জন্য আর তমোপদার্থের প্রয়োজন পড়বে না, বিশ্বতত্ত্বের
একীভূত তত্ত্ব দিয়েই তা করা যাবে। এম-তত্ত্ব বলে আমাদের অতি পরিচিত স্থানের তিনটি
মাত্রা ও কালের একটি মাত্রাই শেষ কথা নয়, মহাবিশ্বে মোট
১১টি মাত্রা রয়েছে। বাকি ৭টি মাত্রা আমাদের থেকে লুকিয়ে আছে এবং কেবল কোয়ান্টাম
স্কেলেই তারা প্রভাব রাখতে পারে। যদি এই অতিরিক্ত মাত্রাগুলোতে কণা বা শক্তি থাকে
তাহলে সেগুলোই হয়ে উঠতে পারে তমোপদার্থের বিকল্প।
লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ (বা এর উপসেট লুপ কোয়ান্টাম বিশ্বতত্ত্ব) বলে, মহাবিশ্ব তথা স্থানকাল নিজেই মৌলিক কণা বা কোয়ান্টা দিয়ে গঠিত। এটি আমাদের সাধারণ চিন্তার বিপরীতে যায়। আমরা মনে করি শূন্য স্থান একেবারেই শূন্য, কিন্তু লুপ কোয়ান্টাম তত্ত্বগুলো বলে শূন্যস্থানও কিছু একটা দিয়ে গঠিত। স্থানকালের প্রতিটি কণা অন্য প্রতিবেশী কণার সাথে মিলে এক ধরনের লুপ তৈরি করে যার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় মহাবিশ্বের সকল পদার্থ ও শক্তির।
কোয়ান্টাম মহাকর্ষ
কোয়ান্টাম মহাকর্ষ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের খুব সক্রিয় একটি গবেষণা ক্ষেত্র। এর অধীনে একাধিক তত্ত্ব আছে যার একটি আবার অন্যটির সাথে প্রতিযোগিতায় মত্ত। অনেক সময় একে সবকিছুর তত্ত্ব বা থিওরি অফ এভরিথিং বলা হয়। মূলত এটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বৃহৎ ক্ষেত্রকে একত্রিত করার চেষ্টা করে। ক্ষেত্র দুটি হচ্ছে ১. মহাকর্ষ এবং ২. কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উদাহরণ হিসেবে সুপারস্ট্রিং তত্ত্ব, এর উত্তরসূরী এম-তত্ত্ব এবং এদের প্রতিযোগী লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ ।
অনেকেই মনে করেন, তমোপদার্থ গবেষণার চেয়ে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ নিয়ে কাজ করাটা অনেক মৌলিক এবং আকর্ষণীয় একটি বিষয়। কারণ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ প্রকৃতির সকল মৌলিক বলকে একটি সূত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অতি মৌলিক তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তা দিয়ে তমোপদার্থের মত সকল সমস্যার সমাধান করা যাবে বলে মনে করেন অনেকে। কারণ তমোপদার্থ একটি চিরায়ত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তাবকৃত একটি চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের সমাধান।
ডার্ক
ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি
►ছায়াপথগুলো হয়তো কোনো
অদৃশ্য বলয় ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
►আমাদের চেনাজানা সাধারণ পদার্থ চারভাবে মিথস্ত্রিয়া করে।
সেগুলো হলো মহাকর্ষ, বিদ্যুৎচম্বুকীয় বল, দূর্বল নিউক্লিয়ার বল এবং সবল
নিউক্লিয়ার বল। আমরা শুধু বলয়গুলোকে তালিকাবদ্ধ করেছি, ব্যস। তবে এ চারটি বল
ব্যবহার করে কণা পদার্থ বিজ্ঞানের সব কটি পরীক্ষা ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু ডার্ক
ম্যাটারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এরা একমাত্র মহাকর্ষ ছাড়া আর কোনো বলের সাথে
মিথস্ত্রিয়া করে না। ...এই অদৃশ্য বস্তুরা হয়তো এমন কোনো মিথস্ত্রিয়ায় অংশ নেয়,
যা আমাদের কাছে এখনও অজানা কিংবা আমাদের টেলিস্কোপ বা ডিটেক্টরে তা ধরা পড়ে না। সে
কারণেই ডার্ক ম্যাটার নিয়ে গবেষণা করাএত কঠিন।
►ডার্ক ম্যাটারে যে
মহাকর্ষ আছে তা নিশ্চিত। কারণ, এর ভর আছে। আর ভর আছে বলেই তা ছায়াপথের
নক্ষত্রগুলোকে ছিটকে পড়া থেকে আটকে রাখতে পারছে। এটাই ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্বের
শক্ত প্রমাণ।
►মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
এতই জোরে ঘুরছে যে, তার মহাকর্ষ নক্ষত্রগুলোকে সঠিক জায়গায় আটকে রাখার কথা নয়।
নক্ষত্রগুলো ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ছায়াপথটি ১০ বিলিয়ন বছর
ধরে বেশ স্থিতিশীল।
অদৃশ্য, প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী বলে সত্যিই কিছু আছে!
►১৯৭৮ সালে ১১টি সর্পিল
ছায়াপথ পরীক্ষা করেন রুবিন ও তাঁর সহকর্মীরা। উক্ত ছায়াপথের প্রতিটি এতই জোরে
ঘুরছিল যে, নিউটনের সূত্র অনুযায়ী তাদের কোনোভাবে একত্রে থাকার কথা নয়। একই বছর
ডাচ রেডিও জ্যোতির্বিদ আলবার্ট..আরও ডজন খানেক সর্পিল ছায়াপথের পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ
প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যেও একই ধরনের ধর্ম পরিদৃষ্ট হয়েছিল। এসব মহাকাশীয় ঘটনা
জ্যোতির্বিদদের বুঝতে সহায়ক হয়েছিল যে, আসলে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি অর্থাৎ
অদৃশ্য, প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী বলে মহাবিশ্ব জুড়ে সত্যিই কিছু আছে।
►মহাবিশ্বের এ ধরনের
অদ্ভূত অদৃশ্য বস্তুর পরিমাণ ২৭%। ডাক এনার্জির পরিমাণ ৬৮%, ডার্ক ম্যাটারের
পরিমাণ....%। বাকী ৫% বস্তু অআমাদের চেনাজানা বস্তু।অর্থাৎ সিংহভাগ (৯৫%) আমাদের
জ্ঞান বুদ্ধির বাইরের বিষয়।
সমাধান নয়, বরং গভীরই হয়েছে আমাদের অজানাটা!
►মহাবিশ্ব তথা প্রকৃতির
অন্তনির্হিত তত্ত্ব-তথ্য জানতে চাওয়াটাই বিজ্ঞানীদের জন্য যেন এখন সমস্যা হয়ে
দাঁড়াচ্ছে।
ত্রিশের দশক থেকে এ পর্যন্ত অজানা অদৃশ্য ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা গেছে। তাতে কোনো সমাধান নয়, বরং যেন আরও গভীর হয়েছে আমাদের অজানাটাই। কারণ, খুঁজে পাওয়া যায়নি ওই রহস্যময় বস্তু ও শক্তির উৎসমূল। তাই ডাক ম্যাটার এখন বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মহাকাশে চোখ রেখে জ্যোতির্বিদেরা
মাঝে মধ্যে কি অদ্ভূত কিছু বিষয় দেখতে পান????
►মহাকাশে চোখ রেখে
জ্যোতির্বিদেরা মাঝে মধ্যে অদ্ভূত কিছু বিষয় দেখতে পান। ডার্ক ম্যাটার সংক্রান্ত সম্প্রতি পাওয়া আরেকটা প্রমাণ
অবিশ্বাস্য রকম উদ্ভট বলে মনে হয়। জ্যোতির্বিদরা মহাকাশে একটা মহাজাগতিক সংঘর্ষ
পর্যবেক্ষণ করেছেন। দুটি গ্যালাক্সি ক্লাষ্টারের সংঘর্ষ হয়েছিল কোটি কোটি বছর
আগে। স্বাভাবিকভাবে এই সংঘর্ষে গ্যাস ও ধুলার মতো সাধারণ পদার্থগুলোর বড় ধরনের
বিস্ফোরণ দেখা গেল। এর বাইরে আরেকটা ঘটনা দেখে বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা।
সংঘর্ষ এলাকাটা ভালো করে খেয়াল করে তাঁরা দেখলেন, ডার্ক ম্যাটারের দুটি বিশাল
গুচ্ছ পরস্পর সংঘর্ষের মুখে পড়ল। কিন্তু এমনভাবে একটা আরেকটার ভেতর দিয়ে চলে গেল
যেন কিছুই হয়নি।...সাধারণ পদার্থ যেমন সংঘর্ষে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়, ডার্ক ম্যাটারের
বেলায় তেমন কিছু ঘটেনি।
ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে ডার্ক ম্যাটারের সংঘর্ষে কিছুই হয় না-এই টুকুন জানাই
যেন সম্বল।
►কিছু মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটার
সম্পর্কিত কিছু তথ্য জেনেছেন। সেগুলো হলো এর ভর আছে, এগুলো অদৃশ্য। ডার্ক
ম্যাটারের সঙ্গে ডার্ক ম্যাটারের সংঘর্ষে কিছুই হয় না-এই টুকুন জানাই যেন সম্বল।
এছাড়া ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে আমরা আর কিছুই জানিনা।
এসব দেখে মনে হয়, পদার্থ বিজ্ঞানও মাঝেমধ্যে বোটানির মতো
শুধুতালিকা তৈরি করা ছাড়া আর কিছু করতে
পারে না।
নিউটোনিয়ান মহাকর্ষ মতে মহাকাশে যা হবার কথা
কোমা ক্লাস্টার ছায়াপথগুলো নিউটোনিয়ান মহাকর্ষ অনুযায়ী চলা
করার কথা। এসব গ্যালাক্সি এত জোরে ঘুরছে যে নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছিটকে বাইরে চলে
যাওয়ার কথা। সেমতে, কোমা ক্লাস্টারের নক্ষত্রগুলো ছিটকে যাওয়ার কথা।
যে কারণে কোমা ক্লাস্টারের নক্ষত্রগুলো ছিটকে যাচ্ছে না
ফ্রিৎজ জুইকি ভাবলেন একটিমাত্র উপায়েই কোমা ক্লাস্টারের
নক্ষত্রগুলো ছিটকে যাওয়া রোধ করা সম্ভব, সেটা হলো টেলিস্কোপে সেখানে যে পরিমাণ
বস্তু পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে যদি কয়েক শত গুণ বেশি বস্তু থাকে তাহলেই কেবল
নক্ষত্রগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে একজোটে সহাবস্থান করতে পারবে। উল্লেখ্য,
জুইকির ফলাফল বছর খানেক আগেও ডাচ বিজ্ঞানী... এর গণনার সাথে মিলে যায়। ফ্রিৎজ
জুইকি এবার তার সবোর্চ মেধার প্রয়োগ হিসাবে ব্যবহার করলেন তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি
যাকে কাশফ বলা হয় । জুইকি সেই অন্তর্দৃষ্টতে স্বীয় অন্তরাত্মা দিব্যি অনুভব করলেন
যে, নিউটোনিয়ান সূত্রের উর্ধ্বে উঠে গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর পরস্পর সহাবস্থানে থাকতে হলে গ্যালাক্সিগুলোতে
দৃশ্যমান ভরের চেয়ে যদি আরও অন্ততঃ ৪০০ গুণ অদৃশ্য বস্তু থাকে। সেই অজানা অদৃশ্য
বস্তুদের জুইকি নাম দিলেন Dunkle Materie (Dark
Matter) বা ডার্ক ম্যাটার (গুপ্ত বস্তু)। এতে
স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহাবিশ্বে পদার্থের বন্টনের ক্ষেত্রে ভয়াবহভাবে কিছু একটা
ঠিক নেই। ইতিহাসে সেটাই ছিল প্রথম ইঙ্গিত। অর্থাৎ মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো
নিউটোনিয়ান গাণিতিক সূত্রের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে প্রচন্ড রকমের ব্যতিক্রম দেখা
যায়।
ফ্রিৎজ জুইকির এই তত্ত্ব পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত নিউটোনিয়ান মহাকর্ষ
তত্ত্বের ব্যতিক্রম ঘটাবে- তা সেকালের প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরাও মানতে রাজী ছিলেন না,
সাহসী হননি। এ ধরনের নিউটোনিয়ান সূত্রের কিছুটা ব্যতিক্রম আগেও দেখা যায় উনিশ
শতকে ইউরেনাসের কক্ষ পথ বিশ্লেষণ করার সময়। কেউ কেউ নিউটোনিয়ান সূত্রের সত্যতা
সম্পর্কে প্রশ্ন রাখেন ,কেউ কেউ সৌরজগতে এমন কোনো গ্রহের অস্তিত্ব অনুভব
করেছিলেন যা বিজ্ঞানীদের নিকট অজানা ছিল। এই অজ্ঞাত গ্রহের মহাকর্ষই ইউরেনাসকে সবলে টানছে।
পরে দ্বিতীয় অনুমানটাই
সঠিক বলে প্রমাণিত হলো।
অজ্ঞাত
গ্রহ নেপচুন!
১৮৪৬ সালে নেপচুন নামের
নতুন গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়
নিউটনের সূত্র ব্যবহার করে অনুমান করা ঠিক ঠিক জায়গাতেই। ১৯৬২ সালের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে
ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরিতে ৮২ ইন্চি সাইজের টেলিস্কোপ বসানো হয়েছিল। সেখানেই মার্কিন জ্যোতির্বিদ
ভেরা রুবিন তাঁর দুই সহযোগির সঙ্গে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এসময় এক অদ্ভূত ব্যাপার
চোখে পড়ল রুবিনের। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণতঃ সূর্য থেকে কোনো নক্ষত্র যত দূরে থাকে,
সেটি চলাচল করে ততই ধীর গতিতে। বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ
হওয়ায় এটির ঘূর্ণন গতি তুলনামূলকভাবে বেশি। প্লুটোর গতি বুধের চাইতে ১০% ধীর। কারণ,
প্লুটো সূর্য থেকে অনেক দূরে। কিন্তু ভেরা রুবিন ছায়াপথের
নীল নক্ষত্রগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেন নক্ষত্রগুলো ছায়াপথের চারপাশে সমান গতিতে
ঘুরছে। বুধ, প্লুটোর মত কম-বেশি গতির তারতম্যে নয়। অর্থাৎ ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব তাদের গতির
ওপর কোন প্রভাব ফেলছেনা। একে বলা হো ফ্ল্যাট রোটেশন কার্ভ যা নিউটোনিয়ান গতিসূত্রের বিধান
মানছে না।
গবেষকেরা তবে কী খুঁজছেন?
বড় বড় নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যাকর্ষণ শক্তির
কারণে আলো যেখানে বাঁক নিয়েছে কিংবা দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলোর বদলে যাওয়ার
ধরণ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা গুপ্ত বস্তুর সম্ভাব্য অবস্থান ধারণা করতে পারেন।
এই পদ্ধতিকে বলা হয় উইক গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। জুরিখের গবেষকেরা এ কাজেই এ.আই
ব্যবহার করে মহাকাশের পদার্থগুলোর এক ধরণের মানচিত্র তৈরির চেষ্টা করছেন।
প্রকল্পটির আরেক গবেষক টমাশ ক্যাক প্রশ্যাক বলেন, ‘প্রচুর
তথ্য থেকে এ.আই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল কিছু ফিল্টার তৈরি করে মানচিত্র থেকে
প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে নেয়।’
এ.আইয়ের নিউরাল নেটওয়ার্কয়ের প্রশিক্ষণের জন্য
গবেষকেরা কম্পিউটারে তৈরি ডেটা এতে ইনপুট দেন। অনেকটা মহাবিশ্বের সিম্যুলেশনের
মতো। সিম্যুলেশন থেকে এআই. যা শিখছে, তাতে রাতের
আকাশের ছবি থেকে গুপ্ত বস্তু পর্যবেক্ষণ করে মহাজাগতিক উপাত্ত সংগ্রহ সহজ হয়েছে।
তবে সে জন্য যতটা সম্ভব নিখুঁত এবং বেশি পরিমাণ তথ্য ইনপুট দিতে হয়। আর এতে
প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ.আই ৩০ শতাংশ বেশি নিখুঁত ফলাফল দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন
গবেষকেরা।
উল্লেখ্য, গবেষকেরা এ.আই-কে চিলির ভিএলটি সার্ভে
টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত তথ্য দেন। এতে মহাকাশের যে পরিমাণ অঞ্চলের তথ্য রয়েছে তা
চাঁদের আয়তনের ২ হাজার ২০০ গুণ। প্রায় দেড় কোটি ছায়াপথের তথ্য রয়েছে যা সাধারণ
কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব না। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের
লুগানো শহরের সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের কম্পিউটার। দেশটির যেকোনো
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে। এই
শক্তিশালী কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখার জন্য নিকটবর্তী লুগানো হ্রদ থেকে সেকেন্ডে ৪৬০
লিটার পানি সরবরাহ করতে হয়।https://www.tab.com.bd/ai-search-dark-matter/
বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তা সূত্র আমরা অনুভব
করি না
প্লাংকের ধ্রুবক খুব ছোট বলে বাস্তব
জীবনে অনিশ্চয়তা সূত্র আমরা অনুভব করি না বললেই চলে।
আনুবীক্ষণিক জগতে অনিশ্চয়তা সূত্রের সত্যতা
আনুবীক্ষণিক জগতে অনিশ্চয়তা সূত্রের সত্যতা খুব ভালভাবে
লক্ষ্য করা যায়।
ইলেকট্রনের ভরবেগ সঠিকভাবে জানতে এমন
ফোটন দরকার যার শক্তি কম বা দুর্বল, যাতে এটা ইলেকট্রনটির ভরবেগকে বিরক্ত করতে না করতে পারে।
কিন্তু ঝামেলা হলো ফোটনের শক্তি এর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, কম শক্তির ফোটনের কম্পাঙ্ক কম তথা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি হবে। এমন বড়সড়
ফোটন ইলেকট্রনের অবস্থান ঠিকভাবে নির্ণয় করতে ব্যর্থ হবে, যেমন আমাদের হাত ব্যর্থ হয় টেবিলের অমসৃণ পৃষ্ঠকে অণুধাবন করতে। আবার
আমরা যদি ছোট(তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম তথা কম্পাঙ্ক বেশী) ফোটন ব্যবহার করি, তাহলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মত, এটা ইলেকট্রনের
অবস্থান ভালোভাবে নির্ণয় করলেও, এমন ফোটনের শক্তি বেশী
থাকায় ইলেকট্রনের ভরবেগ পালটে দেবে। অর্থাৎ ইলেকট্রনের ভরবেগ নিশ্চয়তার সাথে
কোনভাবেই নির্ণয় করা যায়না। প্লাংকের ধ্রুবক খুব ছোট বলে বাস্তব জীবনে অনিশ্চয়তা
সূত্র আমরা অনুভব করি না বললেই চলে।কিন্তু আনুবীক্ষণিক জগতে অনিশ্চয়তা সূত্রের সত্যতা
খুব ভালভাবে লক্ষ্য করা যায়।
ফোটন ব্যবহার করে ভরবেগ নির্নয়ে
অনিশ্চয়তার জন্য এই নীতির নাম অনিশ্চয়তা নীতি। আর জার্মান পদার্থবিদ ওয়ার্নার
হাইজেনবার্গ এই মৌলিক নীতিটি আবিষ্কার করেন তাই এর নাম "হাইজেনবার্গের
অনিশ্চয়তা নীতি"।
কোনো কণিকার অবস্থান এবং ভরবেগ, একইসাথে
নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব না। অবস্থান নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে গেলে ভরবেগের মানে
ভুলের পরিমাণ বাড়বে, আবার ভরবেগ নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে
গেলে অবস্থানের মানে ভুলের পরিমাণ বাড়বে -- এই নীতিটিকে অনিশ্চয়তা নীতি বলা হয়।
জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ এই মৌলিক নীতিটি আবিষ্কার করেন।
স্ট্রিং থিওরির আলোকে কেয়ামত!
মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে,
ওগুলো অ্যাবস্যুলেট মিনিমাম নয়, লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম
অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে
অ্যাবস্যুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আরেকটা মহাবিশ্বের
(যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে আমাদের
বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবে না। এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটি মহাবিশ্বে (বিজ্ঞানচিন্তা পৃষ্ঠা ৪৮)
কোয়ান্টাম সুপারপজিশনঃ
সকল কণা
কেবল কণা নয়; একাধারে শক্তি, আলো এবং তরঙ্গও-এধরণের কথা-অনেকটা অবোধ শিশুর আধো
আধো বোলে বলা কথারই মত ঠেকে। উদাহরণস্বরূপ যদি কোন অবোধ শিশু বলে আগুন একাধারে
গরম এবং ঠান্ডা দুটোই- তাহলে তার কথা ফেলনা যাবে না এই ভেবে শিশু শিশুই। তার সাথে
যুক্তিতর্ক করাই হবে বোকামী। সুতরাং, নিরবতাই শ্রেয়। অনুরূপ যদি সাধারণ মানুষ
বলতো সকল কণা কেবল কণা নয়; একাধারে শক্তি, আলো এবং তরঙ্গও তাহলেও নিরবতাই শ্রেয়।
নিরবতাই শ্রেয় হতো। কিন্তু মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক অনেক তত্ত্ব, সূত্রের
প্রতিকূলে যদি জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীরাই প্রশ্ন করে বসেন তাহলে বিজ্ঞানজগতে অআলোড়ন
সৃষ্টি হয়। এমনি এক অআলোড়ন সৃষ্টি করে লু দ্য ব্রগলির ঘোষণাঃ "কণারা
শুধু কণা নয়, সেই সঙ্গে তরঙ্গও"। এই মত আইনস্টাইন কর্তৃক ১৯০৫ সালে প্রকাশিত আলোর কণা
তত্ত্বের সাথে সংগতিশীল। আইনস্টাইনের তত্ত্বমতে, যদি আলো কণা হয় তাহলে ব্রগলির
যুক্তি আলোর তরঙ্গ হতে বাধা কোথায়? সুতরাং, এটা বলা বাহুল্য নয় যে, ইলেকট্রন যে
পরমাণুর চারপাশে ঘুরছে, তা একই সঙ্গে বৃত্তপথে ঢেউ তুলে তরঙ্গের আকারেও ঘোরার কথা
(পৃঃ প্রাগুক্ত ৬০)-এই যুক্তি
কোয়ান্টাম তাত্ত্বিকরা মেনে নিলেন।
পরমাণুর ইলেকট্রন-কে নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যাওয়ার বৈজ্ঞানিক
কারণ
অস্ট্রিয়ান কণা পদার্থবিদ এরউইন
শ্রোডিম্বার কণাদের তরঙ্গ ধর্মকে কাজে লাগালেন পরমাণুর ভেতরে ইলেকট্রনের চালচলনে। তিনি
অঙ্ক কষে দেখালেন, পরমাণুর ইলেকট্রনকে কোন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাওয়া যাবে না।
ইলেকট্রন যেহেতু তরঙ্গের আকারে ঘুরছে, সুতরাং, এই ঘূর্ণনের দরুন শক্তি স্তরে একটা
মেঘের মতো তৈরি হবে। সেই মেঘের যেকোন বিন্দুতে ইলেকট্রন থাকতে পারে। ঠিক তবে কোথায় কোন্ বিন্দুতে থাকবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
যে তত্ত্বের মধ্যে লুকিয়ে ছিল নতুন বিজ্ঞানের সম্ভাবনার বীজ
কোনো
একটা বিন্দুতে ইলেকট্রন থাকার সম্ভাবনা
কতটুকু, সেটা শ্রোডিঙ্গারের দেওয়া অংক কষে বের করা যাবে না (ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে) । শ্রোডিঙ্গারের
অঙ্কটা ছিল তরঙ্গ ফ্যাংশনের
একটা সমীকরণ। ইলেকট্রন চলার পথের
কোন্ অন্চলে ওটাকে পাওয়া যাবে, তার একটা সম্ভাব্যতা জানিয়ে দেয় এই সমীকরণ। কিন্ত্ত কোথায়
কখন কোন্ বিন্দুতে ইলেকট্রন-কে নিশ্চিত করে পাওয়া যাবে, সেটা বলা যাবে না।
শ্রোডিয়ারের মতে, ইলেকট্রন এমনই রহস্যময় চরিত্রের যে, একে কোথাও নিশ্চিত করে পাওয়া যাবে না। তাই
কেউ শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না পরমাণুর শক্তিস্তরের অমুক বিন্দুতে
ইলেকট্রনকে পাওয়া যাবে। তার বদলে তিনি বলতে পারবেন শক্তিস্তরের অমুক অমুক বিন্দুতে
বা অমুক এলাকায় অমুক সময়ে ইলেকট্রনকে পাওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ বা ৩০ ভাগ
কিংবা একশর নিচের যেকোন সংখ্যায় (প্রাগুক্ত পৃঃ ৬০)।
শ্রোডিঙ্গার যখন তরঙ্গ ফ্যাংশনের কথা বলছেন,
তখন এক জার্মান তরুণ ভেবেছিলেন আরেক আশ্চর্যের ভাবনা। যাতে গড়ে উঠে অনিশ্চয়তাবাদ
তত্ত্ব। শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ নীতি যত অদ্ভূত মনে করা হয়েছিল ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গ
নামক ঐ জার্মান তরুণের অনিশ্চয়তাবাদী তত্ত্ব আরও বিস্ময়কর ছিল। হাইজেনবার্গ অনিশ্চয়তাবাদী
এই নীতি আবিস্কারের আগে ইলেকট্রনের মত খুদে কণিকাদের জন্য গণিত শাখার ম্যাট্রিক্সে
ব্যবহৃত একটা বলবিদ্যা তৈরি করেছিলেন। কোয়ান্টাম
কণিকাদের গতি-প্রকৃতি, চরিত্র ইত্যাদি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয় নতুন এই বলবিদ্যা।
পরবর্তিতে এই বলবিদ্যাই প্রতিষ্ঠা লাভ করে জগদ্বিখ্যাত কোয়ান্টাম ম্যাকানিকস বা
কোয়ান্টাম বলবিদ্যা নামে। শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ সমীকরণ হাইজেনবার্গের কোয়ান্টাম
ম্যাকানিকস বা কোয়ান্টাম বলবিদ্যা সমর্থন করে। (প্রাগুক্ত পৃঃ ৬০-৬১)। হাইজেনবার্গের মতে, ইলেকট্রনের মতো গতিশীল কণিকারা মোটেও
সাধারণ বস্ত্তর মতো আচরণ করে না।
উদাহরণস্বরৃপ, একটি গাড়ির অবস্থান এবং ভর একই
সঙ্গে পরিমাপ করা যত সহজ, সম্ভব ইলেকট্রনের অবস্থান এবং ভর এক সাথে পরিমাপ করা তত
সম্ভবপর নয়। কেন সম্ভবপর নয় তারও ব্যাখ্যা রয়েছে। যদি কোন এক নির্দিষ্ট সময়ে
ইলেকট্রনের ভরবেগ মাপা সম্ভবপর হলেও ইলেকট্রনের অবস্থান বা উপস্থিতি সে মুহুর্তে
কোন্ স্থানে তা অনিশ্চিত হয়ে যাবে অর্থাৎ তাকে দেখা যাবে না। অন্যদিকে কোনো এক
সময়ে ইলেকট্রনের অবস্থান যদি মাপা যায় তখন ওর ভরবেগ মাপা সম্ভবপর হবে না। অর্থাৎ
একটা নির্দিষ্ট সময়ে একটা ইলেকট্রনের অবস্থান কোথায় যখন জানা সম্ভবপর হবে, সেই
সময়ে ইলেকট্রনের ভরবেগ কত ছিল, সেটা জানা যাবে না-ইলেকট্রনের এই বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নতুন বিজ্ঞানের বুনিয়াদ বা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাকারী জগদ্বিখ্যাত
কোয়ান্টাম মেকানিক্স বা অনিশ্চয়তা তত্ত্ব।
বস্তুতঃ
উপরোক্ত তত্ত্বের মধ্যেই সম্ভবতঃ বীজ লুকিয়ে ছিল, প্ল্যাংক ওয়েলের কোয়ান্টাম
মেকানিক্স, ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গের সম্ভাব্যবাদী অনিশ্চয়তা তত্ত্ব এবং সর্বোপরি
আগামী দিনের "ফ্রন্টিয়ার সায়েন্স" তথা
নতুন বিজ্ঞান জগতের সম্ভাবনা ।
অনিশ্চয়তাবাদ তত্ত্ব
"এটা একটা অদ্ভূত
সমস্যা। তারপরও কিন্ত্ত দুনিয়া চলছে, এই অনিশ্চয়তা মেনে নিয়েই কোয়ান্টাম
বলবিদ্যার সব হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে। তার উপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে
ইলেকট্রনিকসের মতো প্রযুক্তিবিদ্যা"। (প্রাগুক্ত ৬১)
অনিশ্চয়তা নীতি কি আজব কথার ফুলঝুড়ি?
অদ্ভূত ঠেকে-এমন লোককাহিনীকে এ যাবৎ কালে
বিজ্ঞানীরা ভুতুড়ে কান্ড, অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য কিংবা
হ্যালুয়েশন কিংবা টেলিপ্যাথি বলে উড়িয়ে দিতেন। তবে মাঝে মাঝে খোদ বিজ্ঞান মহলকেই
পেয়ে বসে অদ্ভূত যতসব তত্ত্ব কথা। এমনিভাবে অনিশ্চয়তা নীতি থেকে
অদ্ভূত যে কথাটি বৈজ্ঞানিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে
তা হচ্ছেঃ ইলেকট্রনের মতো খুদে কণিকারা নাকি একই সঙ্গে কণা আর তরঙ্গরূপে থাকে, কিন্ত্ত এদের আপনি যেভাবে দেখতে চাইবেন, সেভাবেই
সে দেখা দেবে। অর্থাৎ যদি
একে কণা হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে এর কণা রূপই দেখতে পাবো। আবার যদি তরঙ্গ
হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে তরঙ্গ হিসেবেই পাবো। কথাটি অনেকটা বায়োস্কোপে ম্যাজেশিয়ানদের ম্যাজিকের মতই
বটে। এমন অবৈজ্ঞানিক আনাড়ীপনা কথা শুনে স্বয়ং ভীষণ চটেছিলেন কোয়ান্টামের অন্যতম জনক
আলবার্ট আইনস্টাইন। আইনস্টাইন
রীতিমতো চ্যালেন্জ্ঞ জানিয়ে বসেছিলেন স্বদেশী (জার্মানীর) ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গের
প্রবর্তিত অনিশ্চয়বাদকে।
সত্যের কাছে মহারথীকেও
হার মানতে হয়!
বলা হয়ে
থাকে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিনের সে মুহুর্তেই শুরু হয়েছিল, যেদিনের যে
মুহুর্তে মানব মনে সত্য জানার আগ্রহ জেগেছিল। সুতরাং, ব্যক্তিত্ব-যত জগদ্বিখ্যাতই
হোন না কেন; বিজ্ঞান তথা সত্যের কাছে তিনি কত অসহায় তার জীবন্ত প্রমাণ আধুনিক
বিজ্ঞানের জনক আলবাটঁ আইনস্টাইন নিজেই। ১৯২৭ সাল। বলতে গেলে জগদ্বিখ্যাত পদার্থ
বিজ্ঞানী, সাধারণ এবং আপেক্ষিকতা তত্ত্বের স্থপতি আলবার্ট আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা তখন আকাশচুম্বি।
সে বছরে
সলভে অনুষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে আলবার্ট আইনস্টাইন অনেকটা একাই একশ হয়ে কোয়ান্টামের
অদ্ভূত ব্যাপারগুলোকে রীতিমত চ্যালেন্জ্ঞ জানিয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক যুক্তি উত্থাপন করেছিলেন। আইনস্টাইনের স্বপক্ষে কেবল ছিলেন খ্যাতনামা বিজ্ঞানী এরইউন শ্রোডিঙ্গার। শ্রোডিঙ্গারের পক্ষে কোয়ান্টামের অদ্ভূত বিষয়গুলো মানতে নাকি
বড়ই কষ্টকর ছিল। কিন্তু আইনস্টাইন-শ্রোডিঙ্গার
বিপরীতে নাছোড়বান্দা হয়ে নাছোড়বান্দা হয়ে তখন নিলস বোরের একঝাঁক শিষ্য, কোয়ান্টাম তত্ত্ববিদ-ওয়ার্ণার হাইজেনবার্গ,
পল ডিরাক, লুই দ্য ব্রগলি এগিয়ে আসেন। সলভে সম্মেলন পরবর্তী দিবসে আইনস্টাইনের
প্রতিটা যুক্তিকে খন্ডন করে বোর বাহিনী ব্যাখ্যা করেছিলেন অনিশ্চয়তা নীতি কেন সঠিক। তখন ডেনমার্ক নিবাসী নিলস বোর কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-শিক্ষক। তাঁর অধীনে গবেষণা করছেন বিশ্বের নামকরা সব তরুণ কোয়ান্টাম বলবিদ্যার
গবেষকরা। তাই সলভ
সম্মেলনে বোর বাহিনী যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা বিশ্ব বিজ্ঞানে "কোপেনহেগেন
ব্যাখ্যা" নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। কোপেনহেগেন ব্যাখ্যায় আইনস্টাইন কিছুটা নরম হলেন, কিন্ত্ত পুরোপুরি মন গলেনি তাঁর। সম্মেলনে অন্য বিজ্ঞানীরা সেটা মেনে নিলেন। এরপর থেকে কোয়ান্টাম মেকানিকসের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
কোয়ান্টাম লম্প ঝম্পের সময় ইলেকট্রনরা কোথায় থাকে?
প্রশ্ন হচ্ছে, কোয়ান্টাম লম্প-ঝম্পের সময় ইলেকট্রনরা কোথায় থাকে? অনিশ্চয়তা নীতিতে রয়েছে এর সম্ভাব্য উত্তর। অআর উত্তরটাও অনিশ্চয়তা নীতির
মতোই অনেকটা অদ্ভূত। অনিশ্চয়তা
নীতি বলে,
দুই শক্তিস্তরের মাঝখানে ইলেকট্রনের থাকার জায়গা নেই। ইলেকট্রনরা আসলে শুধু শক্তিস্তরেই থাকে। এর মধ্যবর্তী কোনো স্থানে ইলেকট্রনরা থাকতে পারে না। অর্থাৎ শক্তি শোষণ করার সঙ্গে সঙ্গেই ইলেকট্রন ওপরের শক্তিস্তরে চলে যায়। আআবার শক্তি বিকিরণের সঙ্গে সঙ্গেই ইলেকট্রনরা নিচের শক্তিস্তরে
চলে আসে। এ জন্য দুই
শক্তি স্তরের মাঝখানে কোনো পথ এদের পাড়ি দিতে হয় না। কারণ, শক্তিস্তরের বাইরে দুই শক্তিস্তরের মাঝামাঝি
কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রনিকের অবস্থান করার অনুমতি কোয়ান্টাম মেকানিকস দেয় না। ভূতের মতো এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে উদয় হয় ইলেকট্রন। এটা সম্ভব হয় সম্ভবত ইলেকট্রনের সুপার পজিশনের কারণে।
"সুপার পজিশনটাই আসলে একধরণের অলীক অবস্থানের
মতো, যেখানে এর থাকার অনুমতি আসে সেখানেই সে থাকতে পারে"। (অনুমতিটা দেন কে?)
জাগতিক উদাহরণের
আলোকে ইলেকট্রনের সুপার পজিশন
উদাহরণস্বরূপ,
একটা ভূতের বসবাস এক পোড়ো বা ছা বাড়িতে। ১০/১৫ মাইল
দূরে আরেকটা পোড়োবাড়ি আছে। মধ্যবর্তীতে
আর কোনো পোড়োবাড়ি নেই। ধরা যাক, ভূতদের রাজা একটা কড়াকড়ি আইন জারি করেছেন। সাধারণ ভূতেরা পোড়োবাড়ি ছাড়া আর কোথাও থাকতে পারবে না, চলতে-ফিরতেও পারবে না। তবে এক পোড়োবাড়ি থেকে আরেক পোড়োবাড়িতে যেতে পারবে, কিন্ত্ত তার জন্য মাঝখানে আর কোন রাস্তাও ব্যবহার করা যাবে না। মানুষের পক্ষে সম্ভব হতো না আকাশ, জল কিংবা স্থলপথ ব্যবহার না করে এক পোড়োবাড়ি থেকে আরেক পোড়োবাড়িতে যাওয়া। কিন্ত্ত ভূত বলে কথা! ওদের পক্ষে সম্ভব মাঝখানের
কোনো পথ ব্যবহার না করেই এক শক্তিস্তর থেকে অআরেক শক্তিস্তরে পৌঁছে হাওয়া। সেটা কীভাবে সম্ভব?
এর জন্য
চাই অলৌকিক শক্তি। ধরা যাক, ভূতের রাজার সেই শক্তি আছে। তিনি একটা ভূতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি দিলেন। সেই শক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে যাবতীয় নির্দেশনা অর্থাৎ এই শক্তি
গ্রহণ করে ভূতটা কোন্ পোড়োবাড়িতে যাবে তার নির্দেশনা। তারপরও মাঝের কোনো রাস্তা পার না হয়েই কীভাবে ভূতটা ১০/১৫ মাইল
দূরের অন্য পোড়োবাড়িতে যেতে পারবে? এটা সম্ভব যদি অলৌকিক শক্তি
লাভের পর ভূতটা এই পোড়োবাড়ি থেকে একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল, এখানকার ভূতের মধ্যে যে তথ্য ছিল, অর্থাৎ ভূতটা
কী দিয়ে তৈরি, দেখতে কেমন, কী খায়
ইত্যাদি তথ্যগুলো জমা হলো ১০ মাইল দূরের ওই পোড়োবাড়িতে। অলৌকিক শক্তিটা এই তথ্যগুলো ব্যবহার করেই ১০/১৫ মাইল দূরের ওই
পোড়োবাড়িতে হুবহু এই ভূতটার একটা কপি (ডিএনএ?) তৈরি করে দিল। পুরো ঘটনাটি
ঘটবে এক লহমায়। যখনই এখানকার
ভূতটা ধ্বংস হচ্ছে, তখনই ১০/১৫ মাইল দূরের পোড়োবাড়িতে ভূতটার
হুবহু কপি তৈরি হচ্ছে। খালি চোখে
মনে হবে এখানকার ভূত একমুহুর্তেই ১০/১৫ মাইল দূরের পোড়োবাড়িতে চলে গেল ( সূত্রঃ প্রাগুক্ত, পৃঃ ৬১-৬২)।
কোয়ান্টামের জগৎটাই আসলে ভুতুড়ে!
হুবহু এমন
ঘটনা না ঘটলেও কোয়ান্টামের জগৎটা আসলেই এমনই ভুতুড়ে। ইলেকট্রন যখন শক্তি শোষণ করছে, সে আসলে ওই শক্তিস্তরে থাকা নির্দেশনা
অনুসারে তার নিজের কক্ষপথ থেকে ভ্যানিশ হচ্ছে এবং অন্য শক্তিস্তরে গিয়ে নিজের কপি
তৈরি করছে। এই মুহুর্তেই এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে যাওয়ার যে ক্ষমতা অর্থাৎ
দুই স্তরের মাঝখানে ইলেকট্রনের কোনো বাস্তব অবস্থান না থাকা, এই ব্যাপারটিকেই
বলে ইলেকট্রনের সুপারপজিশন। এই সুপারপজিশনের কারণেই কোনো নির্দিষ্ট শক্তিস্তরের
কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে তাই ইলেকট্রনকে পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ থাকে না। তরঙ্গ
ফ্যাংশনের মাধ্যমে ইলেকট্রন কোথায় থাকতে পারে, তার একটা সম্ভাবনা বের করা যায়
মাত্র।
অনিশ্চয়তা-নীতি,
তরঙ্গ ফ্যাংশনের এ ধরণের বৈশিষ্ট্যই পরে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রতত্ত্বের জন্ম দিয়েছিল,
এর কারণেই এসেছিল কোয়ান্টাম
অ্যান্টেঙ্গলমেন্টের ধারণা। (প্রাগুক্ত পৃঃ ৬২)। (তারিখঃ ২৪-০১-২০২১
প্রচলিত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির
ধারায় আশা-নিরাশার দোলায় সায়েন্স ফিকশনের নভোতরী:
মহাকাশ কত বড়? এর উত্তর হয়তো এই পৃথিবীতে
কখনও পাওয়া যাবে না। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এতটুকু বলেই ক্ষ্যান্ত হন যে, জানা
মহাকাশের চেয়ে অজানা মহাকাশ অ-নে-ক, অ-নে-ক বড়। কত বড়? তা যৎকিন্চিত অনুভব-উপলদ্ধি
করতে হলে নিম্নোক্ত কিছু মহাজাগতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা যেতে পারেঃ
যেমন, গড় দূরত্বে ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দূরবর্তী সূর্য থেকে আলো পৃথিবীতে আসতে যদি ৮ মিনিট ১৯
সেকেন্ড সময় নেয় তাহলে সূর্যের পরের নক্ষত্র
প্রক্সিমা সেন্টুরাইতে যেতে ৪ দশমিক ৩৭ আলোক বর্ষ, আমাদের একেবারে অতি কাছের
ছায়াপথ বা (মিল্কিওয়ে) এর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়াতে পাড়ি দিতে হবে
১০ লাখ আলোক বর্ষ।
1 light-year (আলোকবর্ষ)
=9460730472580800 metres (exactly)
≈ 5878625 million miles ≈ 63241.077
Astronomical
units ≈ 0.306601 parsecs
এক
আলোকবর্ষ কত বছরের সমান?
১
আলোকবর্ষ কতো বছরের
সমান,হিসাব টা আসলে এভাবে না।
আলো
এক সেকেন্ডে ১৮৬,০০০ মাইল
দূরত্ব অতিক্রম করে।
সুতরাং
দুই সেকেন্ডে অতিক্রম
করে
৩৭২,০০০ মাইল।
অনূরুপ
ভাবে এক ঘন্টায়
অতিক্রম
করে ৬৬৯৬০০০০০
মাইল, এক দিনে ১৬০৭০৪০০০০০ মাইল।
এভাবেই হিসাব টা আসে।
“ওয়ার্ম হোল”
গোটা
মহাবিশ্ব যার আনুমানিক পরিধি কল্পনা করা হয়েছে কমপক্ষে যে ৪৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন আলোক
বর্ষ তার মাইলেজ কিংবা কিলোমিটার বা কত?-এই অচিন্তনীয় দূরত্ব বৈজ্ঞানিক কল্পলোকে
মুহুর্তের মধ্যে পাড়ি দিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে কত দ্রুতগতি সম্পন্ন নভোতরী
বা নভোভেলার প্রয়োজন তা সহজেই অনুমেয়। এ কারণে সায়েন্স ফিকশনিস্টরা কোন ভেলা বা
তরীতে নয় শর্টকাট বিকল্প পথে বৈজ্ঞানিক পন্থায় মহাবিশ্ব মুহর্তের মধ্যে পাড়ি দিয়ে
মুহুর্তের মধ্যে ফিরতে চান। শর্টকাট এই বিকল্প পথের বৈজ্ঞানিক নামকরণও করা হয়েছে “ওয়ার্ম হোল” নামে।
“বিজ্ঞানীদের
ধারণা, একটি ওয়ার্মহোলের ভেতরের পথ যদি চারপাশের স্থানের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হয়,
তাহলে একে স্থান-কালের মধ্যে একটি শর্টকাট পথ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব”(সূত্র:
বিজ্ঞানচিন্তা, মে-২০১৯, বর্ষ: ৩, সংখ্যা-৮, পৃষ্ঠা: ৬৮)।
প্রস্তাবিত
ওয়ার্ম হোল-কে দুই প্রান্ত বিশিষ্ট এক প্রকার সুড়ঙ্গ (টানেল) যা মহাবিশ্বের এক
প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের অকল্পনীয় দূরত্বের মধ্যে যোগসূত্রক হিসেবে কাজ করবে। ওয়ার্মহোলের ধারণাটা এসেছিল কার্যতঃ ত্রিমাত্রিক স্থান
কীভাবে সময়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে চতুর্মাত্রিক স্থান-কাল তৈরি করে তার ব্যাখ্যা
সমম্বলিত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত ক্ষেত্র সমীকরণের বিশেষ একটি গাণিতিক
সমাধান থেকে। (সূত্রঃ প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৬৮)।
ওয়ার্মহোলের
সম্ভাব্যতার ব্যাপারে হতাশার মাঝেও হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ম হোলের
বিকল্প আরেক পন্থা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন- যার নাম র্যাপ ড্রাইভ।
এই পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের “বাবল”
(বুদবুদ) তৈরি করে কোনো নভোযানের চারিদিকের স্থান-কালকে সরাসরি বাঁকিয়ে দেয়া যেতে
পারে যাতে নভোযানের ভেতরে আলোর স্থানীয় বেগ কখনও সীমাতিক্রম করবে না। তবে আইনস্টাইনের
বিশেষ অআপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারে, এতটাই বাঁকানো যেতে পারে যাতে বাবল বা
বুদবুদটি নিজেই মহাকাশের বিপুল স্থানব্যাপী আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে। আর
এই নভোযানকে বুদবুদটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবে মহাকাশের গভীর থেকে গভীরান্তরের বহু
দূরদেশে।
ওয়ার্ম
হোল-কে আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজও বলা হয়।
ওয়ার্ম হোল-কে আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজও বলা হয়।
বস্ত্ততঃ মহাবিশ্বে যাতে আইনস্টনীয় আলোর গতির (১,৮৬,০০০ মাইল) চাইতে বেশি
দ্রুতগতিতে মহাবিশ্বের মহা দূরত্ব সহজে অতিক্রম করা যায় তাত্ত্বিকভাবে ওয়ার্ম হোল
দিয়ে তা-ই নির্দেশ করা হয়েছে।
নতুন ধরনের ওয়ার্মহোলের ধারণা!
স্ট্যানফোর্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যানিয়েল জাফারিস এবং অ্যারন ওয়াল সম্প্রতি নতুন ধরনের
ওয়ার্মহোলের সম্ভাবনার সুসংবাদ দিয়েছেন। খ্যাতনামা ‘ইপিআর প্যারাডক্স’ (আইনস্টাইন-রোজেন-পোলানস্কি
প্যারাডক্স) নিয়ে গবেষণাকালীন সময়ে এই সম্ভাবনার কথা জানতে পারেন। এ ধরনের ওয়ার্ম
হলের প্রান্তগুলো প্রাকৃতিকভাবেই পরস্পর সংযুক্ত থাকার সম্ভব্যতার কথা জানিয়ে
গবেষকরা বলেন, এর জন্য নেগেটিভ বা ঋণাত্মক শক্তিসম্পন্ন
এক্সোটিক ম্যাটারের প্রয়োজন নেই। ‘ইপিআর প্যারাডক্স’ তত্ত্ব অনুসারে দুটি কণার
মধ্যে ‘কোয়ান্টাম অ্যান্টেঙ্গলমেন্ট’ বা ‘কোয়ান্টাম
বিভাজন’ নামে বিশেষ ধরনের ধর্ম থাকে। এই বিশেষ ধর্মানুযায়ী, মাইক্রো
স্কেলের ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরপ্রান্তে থেকেও পরস্পরের মধ্যে
যোগসূত্র স্থাপন সম্ভবপর হবে। তবে, বিজ্ঞানীদের স্বীকারোক্তি যে, ‘ইপিআর প্যারাডক্স এর অনেক বিষয় এখনও বিজ্ঞানীদের অজানা রয়েছে।
অবশ্য বিজ্ঞানীদের
প্রত্যাশা, একজোড়া কৃষ্ণগহ্বরে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এধরনের নন
ট্রান্সভার্স-কে আমাদের চলার উপযোগী ট্রান্সভার্স করা সম্ভবপর। কসমোলজির ইপিঅআর
মডেল সঠিক হলে উক্ত কৃষ্ণ গহ্বর সিস্টেমে কিছু সমতুল্য ঋণাত্মক শক্তি যোগ করে আইনস্টাইন-রোজেন
ব্রিজের জ্যামিতি পরিবর্তন করে আমাদের চলার উপযোগী ওয়ার্মহোল তৈরি করা
সম্ভবপর।
ওয়ার্ম হোলের প্রতিস্থাপক র্যাপ ড্রাইভ!
ওয়ার্মহোলের
সম্ভাব্যতার ব্যাপারে হতাশার মাঝেও হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ম হোলের
বিকল্প আরেক পন্থা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন- যার নাম র্যাপ ড্রাইভ।
এই পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের “বাবল”
(বুদবুদ) তৈরি করে কোনো নভোযানের চারিদিকের স্থান-কালকে সরাসরি বাঁকিয়ে দেয়া যেতে
পারে যাতে নভোযানের ভেতরে আলোর স্থানীয় বেগ কখনও সীমাতিক্রম করবে না। তবে আইনস্টাইনের
বিশেষ অআপেক্ষিকতার সূত্র অনুসারে, এতটাই বাঁকানো যেতে পারে যাতে বাবল বা
বুদবুদটি নিজেই মহাকাশের বিপুল স্থানব্যাপী আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে। আর
এই নভোযানকে বুদবুদটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবে মহাকাশের গভীর থেকে গভীরান্তরের বহু
দূরদেশে।
বিগত
শতাব্দীর ষাটের দশক থেকেই বিজ্ঞান কল্প কাহিনী জুড়ে রয়েছে র্যাপ ড্রাইভের বর্ণনা।
১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো মেক্সিকান পদার্থবিজ্ঞানী মিগুয়েল আলকুবিরি বিশেষ
ধরনের র্যাপ ড্রাইভের প্রস্তাব দেন। মিগুয়েলের মতে, সাধারণ আপেক্ষিকতায় স্থানের
যে নমনীয়তা রয়েছে, সে স্থানটির মধ্যে একটি তরঙ্গমালা সৃষ্টি সম্ভব। এই তরঙ্গ বা
ঢেউয়ের মধ্যেই চলমান কোনো নভোযানের পেছনের স্থান প্রসারিত করে সামনের স্থান সংকুচিত করে মহাকাশের অসীম দূরত্ব
ঘুচিয়ে দেবে। এখানে নভোযানটি বুদবুদের ভেতর তরঙ্গের ঠিক মধ্যখানে স্বাভাবিক সমতল
স্থানে থাকতে পারবে। তরঙ্গটি নিজেই আলোর চেয়ে বেশি বেগে মহাবিশ্বের এক প্রান্ত
থেকে আরেক প্রান্তে কার্যকরভাবে তরাঙ্গায়িত হতে থাকবে।
বিকল্প প্রযুক্তির র্যাপ
ড্রাইভ
২০১১ সালে
নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের অ্যাডভান্সড প্রোপালশন ফিজিকস ল্যাবরেটরির
ইন্জ্ঞিনিয়ার হ্যারল্ড জি. সোনি হোয়াইট বিকল্প প্রযুক্তির র্যাপ
ড্রাইভের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবিত র্যাপ ড্রাইভে প্রয়োজন হবে না সমতল
স্থানসম্পন্ন বুদবুদের (বাবল)। এটি শক্তি সাশ্রয়ীও। মাত্র কয়েক কিলোগ্রাম ভরশক্তিই যথেষ্ট
যদিও বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তি এ পরিমাণও বিরাট-বিশাল ব্যাপার! যাহোক, এ পরিমাণ ভরশক্তিতে টেকসই এবং বিশাল
তরঙ্গমালা তৈরি করা সম্ভব হবে যা দিয়ে মস্তবড় একটা স্পেসশিপ অনায়াসে চালিয়ে নেয়া
যেতে পারে। সুখের বিষয়, নাসার প্রকৌশলী সোনি হোয়াইটের
প্রস্তাবিত র্যাপ ড্রাইভ নাসার গবেষণাগারে তাত্ত্বিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে যে যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তার
নাম র্যাপ ফিল্ড ইন্টারফেরোমিটার। তাত্ত্বিকভাবে যন্ত্রটি
সম্ভাব্য র্যাপ সৃষ্টিকারী কোনো যন্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট স্থানের জ্যামিতিতে
খুবই ক্ষুদ্র পরিসরের পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারবে।
‘এক্সোটিক ম্যাটার
তাত্ত্বিকভাবে
থার্নের ‘এক্সোটিক ম্যাটার’ বিস্ফোরণে প্রতিটি কৃষ্ণ
গহ্বরের জ্যামিতি পাল্টে দিয়ে আইনস্টাইন-রোজেন সেতুর প্রান্তগুলো ঘটনাদিগন্তের
বাইরে নিয়ে আসে। আর তাতে সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে আলোর চেয়ে বেশি
দ্রুত আরেক প্রান্তে পৌঁছা সম্ভবপর হতে পারে।
থার্ণ
(?) মনে করেন যে, দুটি প্রান্তে থাকা সুড়ঙ্গ তাদের চারপাশের ‘বিশেষ
ধরনের পদার্থের’ বিস্ফোরণে পরিবর্তন করা সম্ভব। নেগেটিভ
বা ঋণাত্মক শক্তিসম্পন্ন বিশেষ ধরনের এই পদার্থকে বলা হয় ‘এক্সোটিক ম্যাটার’।
তবে
আপনাআপনি
(অটোমেটিক্যালি)প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট দুটি কৃষ্ণগহ্বর পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে এ
রকম সুড়ঙ্গ তৈরি করবে, তারও নিশ্চয়তা বিজ্ঞানীরা দিতে পারছেন না।
ইভেন্ট
হরাইজন বা ঘটনাদিগন্ত।
কৃষ্ণ গহ্বরের
আয়ুস্কাল শেষ হওয়ার পূর্বাবস্থায় মহাকর্ষের প্রভাবে চুপসে গিয়ে অতি শক্তিশালী
মহাকর্ষীয় বলের সৃষ্টি করে। তাতে কৃষ্ণ গহ্বরের আগের নক্ষত্রের পদার্থগুলো চুপসে
গিয়ে অসীম ঘনত্বের একটি সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দুর সৃষ্টি করে যার বহিঃপ্রান্তকে
বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন বা ঘটনাদিগন্ত।
মানব
সীমাবদ্ধতা
বিজ্ঞানীদের আশংকা, আলোর চাইতে বেশি বেগে
মহাবিশ্বের কোন দূরত্ব পাড়ি দেয়া সম্ভবপর নয়। এ কারণে এখন বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে,
ওয়ার্মহোল ব্যবহার করে দূরের কোন নক্ষত্র বা ছায়াপথে ভ্রমণে মানব প্রযুক্তিতে
সীমাবদ্ধ রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বৈপ্লবিক কোন আবিস্কারে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠার
সমূহ সম্ভাবনা আপাততঃ বিজ্ঞানীরা দেখছে না।
এমন সম্ভাবনার কথা ভাবাও নাকি বোকামি হবে (বিজ্ঞানচিন্তা পৃঃ ৭০)।

Comments
Post a Comment